down of head

নিবন্ধন নবায়ন না করায় হাজী আহমাদ ব্রাদার্সের কার্যক্রম স্থগিত

নিবন্ধন সনদ নবায়ন না করায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান হাজী আহমাদ ব্রাদার্স সিকিউরিটিজ লিমিটেডের স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলার হিসেবে সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। গত ৭ আগস্ট থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ট্রেক নম্বর ৪১।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ডিএসই। চিঠিতে বলা হয়েছে, হাজী আহমাদ ব্রাদার্সের স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলার নিবন্ধন সনদের মেয়াদ ছিল ৬ আগস্ট পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সনদ নবায়ন না করায় ৭ আগস্ট থেকে প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ডিএসইর চিঠিতে আরও বলা হয়, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০-এর বিধি ৩ অনুযায়ী কার্যকর নিবন্ধন সনদ ছাড়া কোনো স্টক ডিলার, স্টক ব্রোকার বা অনুমোদিত প্রতিনিধি সিকিউরিটিজ ক্রয়-বিক্রয় বা এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন না। বিধি ২১ ও ২২-এর সাপেক্ষেও এ বিধান প্রযোজ্য।

হাজী আহমাদ ব্রাদার্সের কার্যক্রম স্থগিতের ফলে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের স্বাভাবিক লেনদেন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তাঁদের নগদ অর্থ ও শেয়ার হিসাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে গ্রাহক তহবিল ও বিও হিসাব ব্যবস্থাপনায় আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বিএসইসির পরিদর্শন নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৩ জুন বিনিয়োগকারীদের পাওনা ছিল ১১ কোটি ৩৫ লাখ ৫ হাজার ৭০১ টাকা। এর বিপরীতে সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে (সিসিএ) জমা ছিল ৯ কোটি ২৫ লাখ ৫৫ হাজার ১৮ টাকা। ফলে ওই সময়ে গ্রাহক তহবিলে ঘাটতি ছিল ২ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার ৬৮২ টাকা। ২০২৩-২৪ সালেও গ্রাহক তহবিলে একই ধরনের ঘাটতি পাওয়া যায়।

পরিদর্শনে আরও দেখা যায়, ২০২১ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাস্টমার্স অ্যাকাউন্ট থেকে চেকের মাধ্যমে নগদ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। একই ই-মেইল, মোবাইল নম্বর ও ব্যাংক হিসাব একাধিক বিও হিসাবে ব্যবহারের প্রমাণও পেয়েছে বিএসইসি।

বিএসইসির নথিতে বলা হয়েছে, ৪০টি ই-মেইল শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলোর প্রতিটির বিপরীতে ৩ থেকে ১৬টি পর্যন্ত বিও হিসাব ছিল। একইভাবে ২৪টি ব্যাংক হিসাবের বিপরীতে একাধিক বিও হিসাব পাওয়া যায়।

এসব বিষয়ে হাজী আহমাদ ব্রাদার্সের দেওয়া ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করে বিএসইসি। কমিশনের আদেশ অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে পে-অর্ডারের মাধ্যমে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

নিবন্ধন সনদ নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত হাজী আহমাদ ব্রাদার্স সিকিউরিটিজের স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলার হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ থাকছে না।

সম্পর্কিত খবর