নারীর শ্রমের বেশির ভাগ অংশই অপ্রদর্শিত থাকে
আর্থসামাজিক নানা সূচকে বাংলাদেশ অনেক সাফল্য অর্জন করেছে। নারীর ক্ষমতায়নের অন্যতম দিক হলো তার অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। তবে নারীর শ্রমের বেশির ভাগ অংশই অপ্রদর্শিত থেকে যায়, যাকে অদৃশ্য শ্রম বলা হয়। দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করতে নারীর অপ্রদর্শিত শ্রমকে নীতিনির্ধারণের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেয়া ও শ্রমের পুনর্বণ্টন করা প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে নারীরা তার গৃহস্থালি কাজের পাশাপাশি পারিবারিক অর্থনৈতিক কাজে অংশগ্রহণ করছে, কিন্তু সেক্ষেত্রে কোনো বেতন না পাওয়ায় তাদের কাজের স্বীকৃতি পাচ্ছে না। সন্তানদের বা বয়স্কদের দেখাশোনার অবৈতনিক কাজে ৮১ দশমিক ৪ শতাংশ ক্ষেত্রে বাড়ির নারীরাই যুক্ত থাকে। ফলে তারা মূলধারার শ্রমবাজারে নিজেদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারছে না।
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে গতকাল অনুষ্ঠিত ‘নীতিনির্ধারণে কেয়ার ইকোনমির অন্তর্ভুক্তি’ শিরোনামের ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনাকালে এসব কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং সানেমের গবেষণা পরিচালক ড. সায়মা হক বিদিশা সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হানের সঞ্চালনায় আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, এমপি। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্ম সচিব বেবী রানী কর্মকার, মহিলা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক শেখ মুসলিমা মুন।
অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান স্বাগত বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের সামনের যেসব উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সেগুলো অর্জনের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীদের অবদানের স্বীকৃতি দেয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা জনসংখ্যার অর্ধেক অংশই যদি পিছিয়ে থাকে তাহলে দেশের অর্জনগুলো কখনই স্বার্থক হবে না।
ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, যে নারীরা মূলধারার শ্রমবাজারে কাজ করছে তাদের আয়ের সঙ্গে যদি গৃহস্থালিতে করা কাজগুলো একীভূত করে হিসাব করা হয়, তাহলে তাদের আয় আড়াই থেকে তিন গুণ বেড়ে যেতে পারে। কাজেই নারীর অবৈতনিক কাজকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি। এছাড়া ঘরের কাজে পুরুষরা অংশগ্রহণ করলে তারা পরিচর্যা খাতের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যার একটি বড় অংশ অবৈতনিক পরিচর্যা কাজের স্বীকৃতি সম্পর্কে অবগত নয়। প্রধানমন্ত্রী ও সরকার সমস্যা সমাধানে কৌশলগতভাবে পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে বাধ্যতামূলক তিনজন মহিলা সদস্য বা উপজেলা পর্যায়ে একজন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরির ৬০ শতাংশ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ইত্যাদি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। উপযুক্ত আইন ও বিধিবিধানের মাধ্যমে পরিচর্যা খাতের স্বীকৃতি ও নারীদের মূলধারার শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।



