একান্ত সাক্ষাতকারে আবু বকর সিদ্দিক
দেশের দূর্যোগ মুহূর্তে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে মেঘনা ইন্স্যুরেন্স

আদম মালেক:

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ’র (আইডিআরএ) নতুন চেয়ারম্যানকে স্বাগত জানিয়েছে সাধারণ বীমা প্রতিষ্ঠান মেঘনা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড।

আইডিআরএর নতুন চেয়ারম্যানের কাছে প্রত্যাশা নিয়ে মেঘনা ইন্স্যুরেন্স এর মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান বীমা শিল্পকে বিকশিত করার জন্য কাজ করবেন। বীমা খাতের উন্নয়নের জন্য যা করা দরকার সে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। বীমা খাতকে শক্তিশালী করতে হলে আইডিআরএ’কেও শক্তিশালী হতে হবে।

দেশের বীমা খাত শক্তিশালী হলে যেমন দেশ আর দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাবে, তেমনি এর ইতিবাচক একটি প্রভাব কিন্তু মেঘনা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর উপরও পড়বে। মেঘনা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এগিয়ে যাবে সুন্দরভাবে, এটাই প্রত্যাশা।

সম্প্রতি সীতাকুন্ডে সংঘটিত অগ্নিকান্ডে সম্পর্কে খোলামেলা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, এটাকে স্রেফ দুর্ঘটনা বলবো না। এই দুর্ঘটনার দায় আমরা নিচ্ছি। এটা আমাদের পেশাগত দায়িত্ব। এজন্য দায়ী কিছু মানুষের গাফিলতি বোকামী আর লোভলালসা। এই ডিপোতে যখন অনেক কন্টেইনার থাকে তখন এর মালিকপক্ষ বা ব্যবস্থাপনায় যারা আছে তাদের অনেক দায়দায়িত্ব থাকে। সেখানে আগুন লাগবে আর আগুন লেগে সব ম্যাসাকার হয়ে যাবে। এজন্য তার নিজস্ব কোনো অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা নেই।  তেমন কোনো জনবল নেই। আগুন বাড়িয়ে দেয় যে কন্টেইনার সেক্ষেত্রে কোন কন্টেইনার কোন জায়গায় থাকবে- সেখানে চরম অব্যবস্থাপনা। এই অব্যবস্থাপনা কোনো দুর্ঘটনা নয়। এজন্য আমি মনে করি, এই দায় মালিকপক্ষের গ্রহণ করা উচিত। ক্ষতিপূরণ করা উচিত। এত কিছুর পরও সত্য একটি বিষয় হচ্ছে, সীতাকুন্ড ট্রাজেডিটে বীমা খাত পাশে দাঁড়িয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদের বীমা দাবী পরিশোধ করছে মেঘনা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড।

আগামী ২৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে আশার আলো দেখছেন এই বীমা ব্যক্তিত্ব। তিনি বলেন, একটা দেশে যখন অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়। সাথে সাথে অর্থনীতির উন্নয়নও হয়। আর যেখানে অর্থনীতির উন্নয়ন সেখানে বীমা খাতের সফলতার প্রশ্ন চলে আসে। পদ্মা সেতুর প্রভাবে দেশের বীমাখাতও  এগিয়ে যাবে।

প্রস্তাবিত বাজেটেও তিনি আশাবাদী। বলেছেন, ক্রমেই বাজেটের আকার বড় হচ্ছে। আর বাজেটের আকার যত বড় হচ্ছে স্বাভাবিকভাকে অর্থনীতির চাকা তত ঘুরছে। এই চাকা যতই ঘুরবে ততই সফলতার দিকে এগিয়ে যাবে ।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধেও তীক্ষ্ণ নজর রেখেছেন এই বীমা বিশেষজ্ঞ। তিনি মনে করেন, আসলে করোনাযুদ্ধে আমরা যতটা পিছিয়ে যাইনি। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে পুরো বিশ্বই কিন্তু ততটা পিছিয়ে গেছে। বিশ্বব্যাপী এই যুদ্ধের কুফল দেখা গেছে। করোনা ছিল প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ হলো মনূষ্যসৃষ্ট সংকট। আল্লাহর রহমতে আমরা সহজেই করোনায় উত্তীর্ণ হয়েছি। এই সংকট মনূষ্যসৃষ্ট হওয়ায় এই দেশের সাথে যত দেশের সম্পর্ক আছে প্রত্যেক দেশই ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এক দেশ আরেক দেশে আসতে বিমান ভাড়া বেড়ে যায়। কারণ বিমান অনেক পথ ঘুরে আসতে হয়। এই যুদ্ধের কারণে ধ্বংস হচ্ছে স্থাপনা তেলকূপসহ সার্বিক অর্থনীতি। এজন্য ডলারের দাম বাড়ছে টাকার মান কমছে। আমদানি ব্যয় বাড়ছে। এতে আমদানি কমে যায়। আবার রপ্তানি সেভাবে বাড়েনি। কিন্তু রপ্তানি বাড়াতে পারলে ভারসাম্য আসতো।

সবকিছু ছাপিয়ে আবারও কথা বললেন নিজের প্রিয় কর্মস্থল প্রসঙ্গে। জানান, স্বপ্ন সুন্দরের আলোর হাতছানির গল্প কথা। এগিয়ে যাচ্ছে মেঘনা ইন্স্যুরেন্স। গ্রাহকের আস্থা এবং বিশ্বাস বাড়ছে। একইসাথে পুঁজিবাজারেও ভালো অবস্থান তৈরী করতে সক্ষম হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের নির্ভরতার প্রতীক হয়ে দাড়িয়েছে। বীমা দাবী পরিশোধ এবং গ্রাহক বান্ধব এই সাধারণ বীমা প্রতিষ্ঠান মেঘনা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড সেবার মধ্যদিয়ে দেশের নাম্বার ওয়ান প্রতিষ্ঠানে রুপ নিতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে।

সম্পর্কিত খবর