চীনে শস্য সরবরাহ অনিশ্চয়তার মুখে
ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ অবস্থার মধ্যে পড়তে যাচ্ছে চীনের শীতকালীন গম উৎপাদন। এ কারণে বিশ্বের শীর্ষ খাদ্যশস্য ব্যবহারকারী দেশটিতে খাদ্যশস্যের সরবরাহ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সম্প্রতি এসব কথা জানান চীনের কৃষিমন্ত্রী তাং রেনজিয়াং।
দেশটির সংসদীয় কমিটির বার্ষিক বৈঠক শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, গত বছরের অপ্রত্যাশিতভাবে ভারি বৃষ্টিপাতের কবলে পড়ে চীনের খাদ্যশস্য উৎপাদন খাত। এ কারণে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জমিতে গমের আবাদ দেরিতে শুরু হয়।
কৃষিমন্ত্রী জানান, শীতের শুরুতেই গমের আবাদ নিয়ে একটি জরিপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেখা গেছে, প্রথম ও দ্বিতীয় গ্রেডের গমের উৎপাদন প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। আমরা একদম তৃণমূলে গিয়ে জরিপ চালিয়েছি। এ সময় কৃষি বিশেষজ্ঞরা আমাদের বলেন, চলতি বছর গম উৎপাদন ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাবে। শুধু তা-ই নয়, এ বছর অন্যান্য খাদ্যশস্য উৎপাদনেও প্রতিবন্ধকতা দেখা দিতে পারে।
এদিকে উৎপাদন ঘাটতির পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধও অনিশ্চয়তা বাড়াবে খাদ্যশস্য সরবরাহে। দেশ দুটি বৈশ্বিক গম রফতানির ২৯ শতাংশই সরবরাহ করে। রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে গম রফতানি বিঘ্নিত হওয়ায় ১৪ বছরের সর্বোচ্চে উঠেছে গমের দাম।
তবে গ্রীষ্মকালীন আবাদ চীনকে এ সংকট থেকে উত্তরণে সহায়তা করতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ উৎপাদন বাড়াতে শক্তিশালী পলিসি গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৌশলগত সহায়তাও দিচ্ছে দেশটির সরকার।
ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশনের প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছর ১১ কোটি ৭৩ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে খাদ্যশস্য আবাদ নিশ্চিত করবে। সয়াবিন ও অন্যান্য তেলবীজ আবাদও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।



