কমিশনের কবল থেকে বেরিয়ে আসতে প্রয়োজন জরুরী পদক্ষেপ
আদম মালেক :
ভালো যাচ্ছে না বীমা ব্যবসা। কমিশনে নাকাল এই খাত। তাই এ অবস্থার উত্তরণে পদক্ষেপ প্রয়োজন জরুরী বলে মনে করছেন বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (বিজিআইসি) লিমিটেড এর এমডি ও সিইও আহমদে সাইফুদ্দীন চৌধুরী।
তিনি বলেন, বীমা খাতে বড় সমস্যা কমিশন। কমিশন বন্ধে কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ট্যারিফ মার্কেট থেকে নন- ট্যারিফ মার্কেটে যেতে হবে। তখন কমিশন নয় রেট হবে ফ্যাক্টর এবং সেবা হবে গ্রাহকের প্রাপ্তি।
তিনি উদাহরণ এনে বলেন, কমিশন দিয়ে ১০০ টাকার পলিসি ৫০ টাকায় নেয়ার চেয়ে, ৫০ টাকা রেট দিয়ে ৫০ টাকা নেয়াই উত্তম। তাছাড়া কমিশন কালো টাকা। এটা প্রচলিত হিসাবে প্রদর্শন করা যায় না। বীমা খাত বিকাশে যে কোন উপায়ে অবৈধ কমিশন প্রথা বন্ধ করতে হবে। কমিশন বন্ধ হলেই দেশের বীমা খাত এগিয়ে যাবে।
বীমা খাতে পণ্য বৈচিত্রের গুরুত্ব সম্পর্কে এই বীমা ব্যক্তিত্ব বলেন, অগ্নি, মোটর ও মেরিন তিন ধরনের পলিসির মধ্যেই সাধারণ বীমা খাত ঘুরপাক খাচ্ছে। এজন্য বীমা খাতে নতুন পণ্য প্রয়োজন। পাশাপাশি যেসব নতুন পণ্য বাজারে এসেছে সেগুলোও কাজে লাগাতে হবে। যেমন, স্বাস্থ্য বীমা, শস্য বীমা, গবাদি পশু বীমা। তবে, এ ধরনের পণ্য নিয়ে কাজ করতে হলে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। ভর্তুকি দিতে হবে। গ্রাম থেকে ইউনিয়ন- যে পর্যায়ে হোক সরকারকে সাহায্যের হাত বাড়াতে হবে। ভারতে প্রথম ৪/৫ বছরতো সরকার ভর্তুকি দিয়েছে। এই পণ্যে বীমা কোম্পানী প্রতিষ্ঠিত হওয়ার এখন আর ভর্তুকি লাগছে না। বাংলাদেশে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে স্বাস্থ্য বীমা, শস্য বীমা, গবাদি পশু বীমা নিয়ে কাজ করার। বিজিআইসি চায় দেশের প্রান্তিক কোটি সাধারণ মানুষের বিশ্বস্ত বীমা প্রতিষ্ঠান হতে। সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

আশা জাগানিয়া গল্প তাঁর মুখে। বললেন স্বপ্নের কথা। গৌরবের পদ্মা সেতু নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির এই মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি বলেন, একটা দেশে যখন অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়। সাথে সাথে অর্থনীতির উন্নয়নও হয়। আর যেখানে অর্থনীতির উন্নয়ন সেখানে বীমা খাতের সফলতার প্রশ্ন চলে আসে। পদ্মা সেতুর প্রভাবে দেশের বীমাখাতও এগিয়ে যাবে। পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার ৩ কোটি মানুষের অর্থনীতির চেহারা বদলে দেবে। বাড়বে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান। সুফল মিলবে কৃষি শিল্প ও পর্যটনে। প্রতিষ্ঠিত হবে নতুন নতুন কলকারখানা। দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। যার প্রভাবে আরো সমৃদ্ধ হবে বীমা খাত।
রানা প্লাজা দুর্ঘটনা, নিমতলি অগ্নিকান্ড হতে শুরু করে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে সংঘটিত অগ্নিকান্ড- প্রতিটি ট্রাজেডিতে সবার আগে দেশের বীমা খাত এগিয়ে এসেছে। প্রমাণ হয়েছে মানুষের জীবন এবং সম্পদের ঝুঁকি নিরাপত্তায় বীমার বিকল্প নেই।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে সংঘটিত অগ্নিকান্ড সম্পর্কেও তার পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, মালিকপক্ষ তাদের সম্পদ নিয়ে অবহেলা করবেন না। সম্পদের প্রতি যতœ নেবেন। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে অগ্নি নির্বাপনসহ প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

দৃপ্ত কন্ঠে বললেন, বীমা দাবি পরিশোধে যথেষ্ট আন্তরিক বিজিআইসি। এ নিয়ে মার্কেটে কোনো বদনাম নেই। কোম্পানিটি যথা সময়ে বীমা দাবি পরিশোধ করে। শতভাগ গ্রাহক সেবার দিয়ে আগামীর সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলছে দেশ সেরা এই সাধারণ বীমা প্রতিষ্ঠানটি।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষর (আইডিআরএ) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের কাছে প্রত্যাশা সম্পর্কে জানতে চাইলে আহমেদ সাইফুদ্দীন চৌধুরী বলেন, আইডিআরএর নতুন চেয়ারম্যান ও সদস্যদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। তিনি আশা রাখেন, এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু কমিশন বন্ধে ব্যবস্থা নেবে আইডিআরএ। নন-ট্যারিফ মার্কেটে প্রবেশেও সচেষ্ট হবে প্রতিষ্ঠানটি। তাছাড়া, স্বচ্ছতা ও জবাবাদিহিতা নিশ্চিতে বিদ্যমান আইনকে কিভাবে গতিশীল করা যায় সেটি নিয়েও ভাবতে হবে। অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইনে সংস্কারে প্রতিষ্ঠানটির আন্তুরিকতা প্রয়োজন।
সবশেষ আবারো কথা হয় বিজিআইসি নিয়ে। তুলে ধরেন আগামীর কথা। বললেন, ইনশাআল্লাহ, বাংলাদেশে সেরাদের সেরা হবে বিজিআইসি। প্রতিষ্ঠানটি দেশ, মানুষ এবং সম্পদের নিরাপত্তায় কাজ করে যেতে চায়। এগিয়ে যাচ্ছে বিজিআইসি। গ্রাহকের আস্থা এবং বিশ্বাস বাড়ছে। একইসাথে পুঁজিবাজারেও ভালো অবস্থান তৈরী করতে সক্ষম হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের নির্ভরতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বীমা দাবী পরিশোধ এবং গ্রাহক বান্ধব এই সাধারণ বীমা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড সেবার মধ্য দিয়ে দেশের শীর্ষ বীমা প্রতিষ্ঠানে রুপ নিতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে।


