down of head

বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য
এফটিএর আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হচ্ছে

আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরকালে দেশটির সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর ঘোষণা আসতে পারে। ইতোমধ্যেই এফটিএ করার লক্ষ্যে দুই দেশ যৌথভাবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ করেছে। এখন এফটিএ স্বাক্ষরের উদ্দেশ্যে নেগোসিয়েশন শুরু হবে।

আগামী ৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার দিনের সফরে বেইজিং যাচ্ছেন। সফর শেষে দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে মুক্তি বাণিজ্য চুক্তির বিষয়টি থাকার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকালীন এজেন্ডায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর সফরে বাংলাদেশ ৫ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণের বাজেট সহায়তা চাইতে পারেন বলে জানা গেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণের আগে চীনের সঙ্গে এফটিএ করতে চায় বাংলাদেশ। গত ২৮ মার্চ যৌথভাবে খসড়ার সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদন বিনিময় করে দুই দেশ। সমীক্ষা প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার আগে গত ২৬ জুন বৈঠক করে বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়। গত ২৭ জুন উভয় দেশের সমন্বয়ে গঠিত ওয়ার্কিং গ্রুপের দ্বিতীয় ভার্চুয়াল সভায় প্রতিবেদন চূড়ান্ত হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ চীন থেকে প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলারের কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি, টেক্সটাইল ফেব্রিক ও কেমিক্যাল, সুতা, ওভেন কাপড়, গার্মেন্ট সামগ্রী এবং খাদ্যদ্রব্য আমদানি করে। আমদানি থেকে বাংলাদেশ বছরে যে পরিমাণ শুল্ক সংগ্রহ করে, তার এক-তৃতীয়াংশ আসে চীন থেকে আমদানি পণ্য থেকে। চীনা পণ্য আমদানিতে বছরে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি শুল্ক আদায় করে বাংলাদেশ সরকার। এফটিএ করলে চীন থেকে পণ্য আমদানির বিপরীতে রাজস্ব অনেক কমবে।

মরিশাস, কম্বোডিয়াসহ ২৯টি দেশের সঙ্গে চীন এফটিএ স্বাক্ষর করেছে। চীনের বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তারা মূলত দুটি কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষরে আগ্রহী। প্রাথমিক কারণ হচ্ছে, চীনা উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে শিল্প স্থানান্তর করতে চান এবং উদার শুল্ক কাঠামোর আওতায় এখান থেকে রপ্তানি করতে চান।

এদিকে বৈচিত্র্যময় রপ্তানি পণ্য না থাকায় চীনের ৯৮ শতাংশ শুল্ক সুবিধা কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ। বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্য একতরফা চীনের অনুকূলে। বাংলাদেশ বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে চীনে। চীন থেকে আমদানি করে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বিপুল ঘাটতি থাকায় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার ফলে সরকার বিপুল রাজস্ব আয় হারাবে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রস্তুতি নিতে হবে। একই সঙ্গে চীনের পণ্য বিনা শুল্কে প্রবেশাধিকার পেলে তা স্থানীয় উৎপাদকদের অসম প্রতিযোগিতায় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। এসব বিষয়ও সরকারকে ভাবতে। তাছাড়া এ সুবিধা নিয়ে যেসব চীনা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছে, তাদের যথাযথভাবে নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে এর সুফল পাওয়া যাবে না।

ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য ড. মোস্তফা আবিদ খান সমকাল বলেন, এলডিসির তালিকা থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চীনসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ করার প্রয়োজন। তাই সরকারের আগামীতে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে আমদানি শুল্কের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনতে হবে। স্থানীয় শিল্প কিছুটা চাপে পড়তে পারে। সরকারকে এসব বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এফটিএ করার পর চীনের সঙ্গে আমদানি শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনতে ১০ বছর সময় পাওয়া যাবে। তার পরও প্রাথমিকভাবে রাজস্ব আদায়ে চাপ পড়বে। অন্যদিকে, চীনের বাড়লে সেখান থেকে রাজস্ব আয় হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান হবে। তাই দীর্ঘ মেয়াদে এফটিএ ফলপ্রসূও হতে পারে।

এন এস

সম্পর্কিত খবর