রোহিঙ্গাদের নিয়ে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘নিগ্রহকাল’

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের অভ্যন্তরীণ জীবন-সংগ্রাম ও তাদের জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়ার আকুতিকে ধারণ করে পরিচালক প্রসূন রহমান নির্মাণ করেছিলেন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘জন্মভূমি’।

এবার তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে নির্মাণ করেছেন প্রামাণ্য চলচ্চিত্র, ৮৪ মিনিট ব্যাপ্তির এই চলচ্চিত্রটির নাম ‘নিগ্রহকাল’।

আইসিএলডিএসের নিবেদনে এবং ইমোশন ক্রিয়েটরের প্রযোজনায় চলচ্চিত্রটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী হবে (১৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় মহাখালী এসকেএস টাওয়ারের স্টার সিনেপ্লেক্সে।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মেজর তারিক আহমেদ সিদ্দিকী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। এছাড়াও থাকবেন বাংলাদেশের সাংবাদিক, কূটনীতিবিদ, গবেষক, ইতিহাসবিদ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

বিষয়টি নিয়ে গতকাল (১৩ নভেম্বর) প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানেই এ তথ্য জানিয়েছেন পরিচালক প্রসূন রহমান। এই সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আইসিএলডিএসের নির্বাহী পরিচালক মেজর জেনারেল আব্দুর রশিদ, আইসিএলডিএসের পরিচালক ও ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত ও একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু।

চলচ্চিত্র মুক্তি পাওয়া প্রসঙ্গে পরিচালক প্রসূন রহমান বলেন, ‘জীবনঘনিষ্ঠ বা বাস্তবধর্মী চলচ্চিত্র তো এই দেশে এমনিতেই বেশি সিনেমা হলে জায়গা পায় না। তাই মাল্টিপ্লেক্স বা সিনেপ্লেক্সগুলোতেই মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করছি আমরা। এরপর হয়তো শহরের বাইরে এবং দেশের বাইরে মুক্তি দেয়ার চেষ্টা করব। পাশাপাশি বেশ কিছু আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও অংশগ্রহণ করবে প্রামাণ্য চলচ্চিত্রটি।’
শ্যামল দত্ত বলেন, ‘‘আইসিএলডিএস সবসময় সমাজের নানা বিষয় নিয়ে কাজ করে। ইতোমধ্যে সোশ্যাল ইস্যু নিয়ে ২০টির ওপর গবেষণাধর্মী কাজ করেছে। তাদেরই উদ্যোগে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ‘নিগ্রহকাল’ প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মিত হয়েছে।’’

‘নিগ্রহকাল’ সম্পর্কে প্রসূন আরও জানান, মায়ানমার সরকার ২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালালে জীবন বাঁচানোর জন্য প্রায় ১১ লাখ শরণার্থী নিজেদের জন্মভূমি ছেড়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। সরকার মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের আশ্রয় দেয়। কিন্তু তারাই এ দেশের জন্য একটি বড় সংকট তৈরি করেছে। এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিতে দিয়ে বাংলাদেশ যে বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে মূলত এই বিষয়গুলোই এতে তুলে ধরা হয়েছে। সাতটি খণ্ডে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। সেখান থেকেই ৮৪ মিনিটের উদ্বোধনী প্রদর্শনী করা হবে।