বিদ্যমান উত্তোলন নীতিতেই অটল থাকতে পারে ওপেক
জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক এবং এর মিত্র দেশগুলো প্রতি মাসে সীমিত আকারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করছে। ৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় বৈঠকে জোটটি এ নীতিতেই অটল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেশ কয়েকটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নভেল করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় জ্বালানি তেলের চাহিদা নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল তা কেটে গেছে। ফলে পণ্যটির দাম আবারো বাড়ছে।
ওপেকের মিত্র দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উত্তোলনসীমা নির্ধারণের লক্ষ্যে বৈঠকে বসবে। বর্তমানে জোটটি দৈনিক চার লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করছে। ফেব্রুয়ারিতে পরিস্থিতি বিবেচনায় উত্তোলন বাড়ানো, কমানো অথবা অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
তথ্য বলছে, ২০২০ সালে করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাবের প্রভাবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা তলানিতে নেমে আসে। কিন্তু এ সময় পণ্যটির সরবরাহ ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এতে বাজারে ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পণ্যটির উত্তোলন কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে ২০২১ সালে করোনার প্রভাব কমতে শুরু করায় চাহিদায় উল্লম্ফন দেখা দেয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে জোটটি। উল্টো সীমিত হারে উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
তবে জ্বালানি পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে উঠতে শুরু করলে বাইডেন প্রশাসন মাসভিত্তিক উত্তোলন আরো বাড়াতে ওপেকের প্রতি আহ্বান জানায়। এ আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের সিদ্ধান্তেই অটল থাকে জোটটির সদস্য দেশগুলো। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশ রাষ্ট্রীয় মজুদ থেকে স্থানীয় বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহের ঘোষণা দেয়। উদ্দেশ্য ছিল ঊর্ধ্বমুখী বাজারে লাগাম টেনে ধরা।


