বিএসসির শেয়ারদর সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে ৪৫%
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) শেয়ারদরে বড় উত্থান হয়েছে। সমাপনী দরের ভিত্তিতে দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে কোম্পানিটি। এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর বেড়েছে ৪৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিবিধ খাতের কোম্পানিটির ৩৪২ কোটি ৮৭ লাখ ১৮ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দৈনিক গড় হিসাবে কোম্পানিটির লেনদেন ছিল ৬৮ কোটি ৫৭ লাখ ৪৩ হাজার ৬০০ টাকা।
ডিএসইতে বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বশেষ ও সমাপনী দর ছিল ১০৪ টাকা ৬০ পয়সা। ওই দিন শেয়ারটি ৯৮ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ১০৪ টাকা ৬০ পয়সায় লেনদেন হয়। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর ছিল যথাক্রমে ৩৮ টাকা ৫০ পয়সা ও ১০৪ টাকা ৬০ পয়সা।
চলতি ২০২১-২২ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ভালো মুনাফা করেছে বিএসসি। সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা ৩৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যেখানে আয় ছিল ৫৮ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৬৪ টাকা ৬২ পয়সা। কোম্পানিটি বলছে, আন্তর্জাতিকভাবে জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের আয় ও মুনাফা বেড়েছে।
৩০ জুন সমাপ্ত ২০২০-২১ হিসাব বছরের জন্য ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছে বিএসসির পরিচালনা পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৭২ পয়সা। আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৭২ পয়সা। ৩০ জুন ২০২১ শেষে এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৬০ টাকা ২৮ পয়সা। আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ৫৬ টাকা ৩ পয়সা। সমাপ্ত হিসাব বছরের লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডায় শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য আগামী ২৭ জানুয়ারি এজিএম আহ্বান করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট ধরা হয়েছে ১৬ জানুয়ারি।
১৯৭৭ সালে পুুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া বিএসসির অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ১৫২ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে আরো ২৩৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৫ কোটি ২৫ লাখ ৩৫ হাজার ৪০। এর মধ্যে ৫২ দশমিক ১০ শতাংশ সরকারি, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ২৪ দশমিক ৩০ শতাংশ ও বাকি ২৩ দশমিক ৬০ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।
এদিকে সমাপনী দরের ভিত্তিতে ডিএসইতে দর বৃদ্ধির তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে তাওফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিম পিএলসি। কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ২৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এ তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর বেড়েছে ২৭ দশমিক ১৯ শতাংশ। ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের শেয়ারদর বেড়েছে ২৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এছাড়া এস আলম কোল্ড রোলড স্টিলসের ২০ দশমিক ৬৩ শতাংশ, ফরচুন সুজের ২০ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ, বসুন্ধরা পেপার মিলসের ১৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ, ইজেনারেশনের ১৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ, কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের ১৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের শেয়ারদর বেড়েছে ১৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ।


