কালোবাজারে টিসিবির পেঁয়াজ 

সকাল ১১টা ১০ মিনিট। ২৩০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) গুদামের সামনে দেখা গেল খোলা ট্রাকে এক হাজার কেজি বা এক টন পেঁয়াজ তুলছেন শ্রমিকরা। ট্রাকে পেঁয়াজ বোঝাই শেষ। এই পেঁয়াজ নিয়েছেন সংস্থার ডিলার মুন্নি ট্রেডার্সের জনৈক আতাউর রহমান। ট্রাক যখন ছেড়ে যায় তখন জানা গেল, রামপুরায় ট্রাকে করে বিক্রির জন্য এই পেঁয়াজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ট্রাকচালক জসিম উদ্দিন ও তার দুই সহকারী ট্রাক নিয়ে রওনা দিলেন রামপুরার উদ্দেশে। ডিলার আতাউর ট্রাকে ছিলেন না। মোটরবাইকে করে ট্রাকের পিছু নিয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, গরিবদের জন্য নির্ধারিত টিসিবির এই পেঁয়াজ কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে। সরকার অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে উড়োজাহাজে করে এই পেঁয়াজ আমদানি করছে মূলত গরিবদের জন্য। সেই পেঁয়াজ ডিলারদের ৪৫ টাকা দামে গরিবদের কাছে বিক্রি করার কথা। শত শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে আমদানি করা এই পেঁয়াজ কিছু অসাধু ডিলার চুরি করে বেশি দামে কালোবাজারে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছে। ওদিকে, ট্রাকের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও সাধারণ মানুষ পেঁয়াজ না পেয়ে ফেরত যাচ্ছে। আর অবৈধভাবে বাজারে চলে আসছে গরিবের এই পেঁয়াজ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি  জানান, এ বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি ঘটনাটি তদন্ত করে দেখবেন। প্রমাণিত হলে অবশ্যই শাস্তির ব্যবস্থা করবেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ওই ট্রাকটি সকাল সোয়া ১১টার দিকে (নম্বর ঢাকা ১১-০০৫৮) গুলশান লিঙ্ক রোডের পাশের গুদাম থেকে রামপুরার দিকে না গিয়ে উল্টোদিকে নভো টাওয়ারের পাশ ধরে তেজগাঁও শিল্প এলাকার আরও ভেতরে লিচুবাগানের পেছনের সড়কে যায়। সেখানে থামিয়ে ট্রাকের ওপরেই অন্য বস্তায় পেঁয়াজ ভরতে দেখা যায় চালকের দুই সহকারীকে। সেখান থেকে আবার বের হয়ে ট্রাকটি মিল্ক্ক ভিটার পাশ ধরে পলিটেকনিকের পাশের রোড দিয়ে আবার টেক্সটাইল আবাসিক এলাকার সামনে কাঁচাবাজারের কাছে এসে থামে। ট্রাক দেখেই ছুটে আসেন ওই বাজারের এক ব্যবসায়ী। ট্রাক থেকে দুটি বস্তা রাস্তার পাশে ফেলে দেওয়া হয়। ওই ব্যবসায়ী তা তুলে ফুটপাতের পাশে রাখলেন। এ সময় সমকালের পক্ষ থেকে ওই বস্তার ছবি তোলা হয়। ছবি তুলতে দেখে আর কোনো বস্তা না ফেলে ট্রাক নিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন চালক। মো. সাজু নামের ওই ব্যবসায়ী ক্রেতা এ প্রতিবেদকের প্রশ্নে কালোবাজারে টিসিবির পেঁয়াজ কেনার কথা স্বীকার করেন। কথার একপর্যায়ে এ প্রতিবেদকের পা জড়িয়ে ধরেন। এমন কাজ আর কখনও করবেন না বলে বারবার অঙ্গীকার করতে থাকেন।

এরপর ওই ট্রাক আবারও অনুসরণ করা হয়। টিসিবির পেঁয়াজবাহী ট্রাকটি রামপুরা কাঁচাবাজারের পাশে গিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়। তখন ট্রাকের ওপরে বসে ওই দুই সহকারী পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। কত কেজি পেঁয়াজ এনেছেন- তা জানতে চাইলে ওই সহকারীরা বলেন, এক হাজার কেজি। পথে কেন পেঁয়াজ নামালেন- জানতে চাইলে তারা উত্তর না দিয়ে ট্রাকচালককে দেখিয়ে দেন। পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন ট্রাকচালক মো. জসিম। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কত বস্তা এনেছেন তা গণনা করা হয়নি। টিসিবি যা দিয়েছে তাই এনেছেন। পথে কত বস্তা ব্যবসায়ীদের কাছে কালোবাজারে বিক্রি করেছেন প্রশ্ন করলে চালক বলেন, ‘ডিলার দিতে বলেছিল, তাই পেঁয়াজ দিয়েছি।’ এর পরে তিনি বলেন, ‘আমার ভুল হয়ে গেছে। এটা আমার অপরাধ।’ এ কাজ আর কখনও করব না বলে বার বার ক্ষমা চান।

টিসিবির নির্ধারিত স্থানে একজন ক্রেতার কাছে সর্বোচ্চ দুই কেজি বিক্রির পরিবর্তে কেন ব্যবসায়ীদের কাছে তার ট্রাক থেকে পেঁয়াজ দেওয়া হয়েছে- জানতে চাইলে ডিলার মুন্নি ট্রেডার্সের মালিক আতাউর রহমান  বলেন, তার ট্রাক থেকে ব্যবসায়ীদের কাছে পেঁয়াজ বিক্রি হওয়ার কথা নয়। গতকাল তেজগাঁও শিল্প এলাকার টিসিবির গুদাম থেকে এক হাজার কেজি পেঁয়াজ নিয়েছেন তিনি। এর পরে পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক তার সহকারীদের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে তিনি ব্যাংকে যান। রাস্তায় বিক্রির বিষয়ে কিছু জানেন না দাবি করে তিনি বলেন, এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। সহকারীরা পথে বিক্রি করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। টিসিবির নিয়ম অনুযায়ী ডিলার নিজেই পণ্য বিক্রি করার কথা। তিনি কেন থাকেননি- জানতে চাইলে আতাউর রহমান বলেন, গতকাল ছাড়া প্রতিদিন ট্রাকের সঙ্গে থাকতেন। মঙ্গলবারের (আজ) পেঁয়াজ নিতে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার জন্য থাকতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, গতকাল ট্রাকের সব পেঁয়াজ বিক্রি শেষে তার সহকারীরা ৪৫ হাজার টাকাই তাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

ঘটনার পর টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান জাহাঙ্গীরের কাছে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গেলে তিনি কথা বলতে চাননি। টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির বলেন, অবৈধভাবে বিক্রির প্রমাণ পেলে বা অভিযোগ এলে টিসিবির ডিলারশিপ নীতিমালা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টিসিবি সূত্রে জানা যায়, তাদের দুই সদস্যের মনিটরিং টিম রয়েছে। কালোবাজারি যাতে না হতে পারে সেজন্য তারা তদারকি করছেন। ইতোমধ্যে এরকম অভিযোগে ৫ থেকে ৬ ডিলারের পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে। বিক্রি কার্যক্রম শেষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। তাদের জবাব সন্তোষজনক না হলে ডিলারশিপ লাইসেন্স বাতিলসহ জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে।

টিসিবির ঢাকা বিভাগের অফিসপ্রধান মিশকাতুল আলম বলেন, ঢাকায় এখন প্রতিদিন ৫০টি ট্রাকে ১ হাজার কেজি করে পেঁয়াজ বিক্রির জন্য দেওয়া হচ্ছে। এর পরে তার কাছে গত রোববার মিরপুর ১নং মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের বিপরীতে টিসিবির ট্রাকে মাত্র ১২ বস্তা (২৫ কেজি) পেঁয়াজ বিক্রি করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ডিলাররা চালাক ও ধুরন্ধর প্রকৃতির মানুষ। তাদের সবাইকে মনিটর করা সম্ভব হয় না। তিনি আরও বলেন, বাজারে ২০০ টাকা কেজি আর ট্রাকে এই পেঁয়াজ ৪৫ টাকা কেজি। এই দরে বিক্রি করে প্রতি ডিলারের সাড়ে ৪ হাজার টাকা লাভ হয়। এর পরেও কালোবাজারে বিক্রির তথ্য পেলে অসৎ কাজে জড়িত ডিলারের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রতিবেদকের তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুর ১নং এলাকায় ট্রাকে কম পেঁয়াজ বিক্রি করায় ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে। এ পর্যন্ত আরও বেশ কয়েকজনের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে।

টিসিবি ভর্তুকি দিয়ে ৪৫ টাকা কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করলেও বহু সাধারণ মানুষ সে সুবিধা পাচ্ছে না। তা চলে যাচ্ছে কালোবাজারে। আবার বাজার থেকেই এই পেঁয়াজ আড়াইশ’ টাকা দিয়ে কিনে নিচ্ছেন ক্রেতারা। মাঝখানে অসাধু চক্র মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ কারণে সাধারণ মানুষ ৪৫ টাকা কেজি পেঁয়াজ কিনতে টিসিবির ট্রাকের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। এই অসাধু চক্র কালোবাজারে বিক্রি করে ট্রাকে অল্প পেঁয়াজ নিয়ে যান সাধারণ মানুষের জন্য। এ কারণে লাইনে দাঁড়িয়ে পেঁয়াজ না পেয়ে বিষণ্ণ মনে খালি হাতে ফিরে যান অনেকেই।

গতকাল রামপুরার ওই ট্রাক থেকে মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে গেলে টিসিবির পেঁয়াজের অপেক্ষায় শত শত মানুষকে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে টিসিবির ট্রাক যায়নি। সকাল ৮টায় রওনা দিয়ে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন রাজিয়া বেগম। এত সময় অপেক্ষা করেও পেঁয়াজ না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে মান্ডা এলাকার শরিফা বেগমকে। তিনি বলেন, আড়াইশ’ টাকা কেজি পেঁয়াজ কিনতে পারি না। এ কারণে টিসিবির ট্রাকের পেঁয়াজ নিতে এসেছেন। শেষ পর্যন্ত পেঁয়াজ পেলেন না বলে হতাশা প্রকাশ করেন।

অথচ গতকাল সকাল ১০টা ৫৪ মিনিটে ৩৪৪, তেজগাঁও শিল্প এলাকার টিসিবির অন্য গুদাম থেকে আরেকটি ট্রাক বেরিয়ে যায়। ট্রাকে থাকা পেঁয়াজ কোথায় বিক্রি হবে তা সহকারীদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে নয়, মতিঝিলের দিলকুশায় বিক্রি করা হবে। কিন্তু এ ট্রাকটি মতিঝিলের দিকে যায়নি। তিব্বতের পাশের এই গুদাম থেকে প্রধান সড়কে না এসে উল্টো দিকে ফ্লাইওভারের নিচে দিয়ে দ্রুত চলে যায়। ধারণা করা হয় এই ট্রাক থেকেও অবৈধভাবে পেঁয়াজ বিক্রি করা হয়েছে। পরে মতিঝিলের দিলকুশা এলাকা পুরো ঘুরলেও ওই ট্রাকের দেখা মেলেনি। সেখান থেকে সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে টিসিবির এক কর্মকর্তা জানান, দিলকুশা বা বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে এখনও ট্রাক যায়নি। গতকাল বিকেল ৩টার দিকে নিবন্ধন হওয়া নতুন ডিলারের মাধ্যমে আরেকটি ট্রাকে করে দিলকুশা বক চত্বরে পেঁয়াজ পাঠায় টিসিবি। এর পর মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুলের সামনে গেলে ট্রাকে পেঁয়াজ বিক্রি করতে দেখা যায়। সেখানেও মতিঝিলের উদ্দেশে রওনা দেওয়া ওই ট্রাক আসেনি। অন্য ট্রাকে ২৫ কেজির ২৪ বস্তায় ৬০০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করতে দেখা যায়। বাকি ৪০০ কেজি পেঁয়াজ নেই কেন- জানতে চাইলে বিক্রেতা মো. আকবর বলেন, আমাদের পেঁয়াজ আরেক জায়গায় বিক্রি হয়েছে। মৌচাকে ফ্লাইওভারের নিচে বিক্রি করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। অথচ এই পেঁয়াজ এভাবে বিক্রির নিয়ম নেই।

বাজারে পণ্যটির দাম বেড়েই চলেছে। বর্তমানে খুচরায় দেশি, মিয়ানমার ও পাকিস্তানের পেঁয়াজের দাম বেড়ে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তুরস্ক ও মিসরের পেঁয়াজ কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। বাজারে বিক্রি হওয়া একই ধরনের মিয়ানমার, মিসর ও তুরস্কের পেঁয়াজ বিক্রি করছে টিসিবি। টিসিবির দামের চেয়ে বাজারে মিয়ানমারের পেঁয়াজ ২০৫ থেকে ২১৫ টাকা বেশি দাম। আর মিসর ও তুরস্কের পেঁয়াজ ১০৫ থেকে ১১৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এই অতি মুনাফা ধরতেই অসাধু চক্র ট্রাকে বিক্রি না করে কালোবাজারে ছেড়ে দিচ্ছে।

এ বিষয়ে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বলেন, এভাবে পেঁয়াজ কালোবাজারি অত্যন্ত গর্হিত কাজ। এতে ঠকছে সাধারণ মানুষ। এ বিষয়ে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

শুধু ট্রাকে কম পেঁয়াজ বিক্রিতে সীমাবদ্ধ নেই এই চক্রের কাজ। টিসিবির গুদাম থেকে শ্যামলী কিংবা ৬০ ফিট রোডের উদ্দেশে এক ট্রাক পেঁয়াজ নিয়ে যায় লাভলী এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু দুপুরের দিকে ওই এলাকা ঘুরে টিসিবির কোনো পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা যায়নি। এ সময় টিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, শ্যামলী আশা টাওয়ারের পাশে বিক্রি হচ্ছে। তখন ওই টাওয়ারের চারদিকে ঘুরে কোনো ট্রাক দেখা যায়নি।

এখন প্রত্যেক ট্রাকে একজন ক্রেতার কাছে ১ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করা হয়। একটি ট্রাকে ১ হাজার কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হওয়ার কথা। প্রত্যেক ক্রেতাকে ১ কেজি পেঁয়াজ ওজন দিয়ে টাকা বুঝে নিতে অন্তত ৩০ সেকেন্ড সময়ের প্রয়োজন হয়। এ হিসেবে ট্রাকে থাকা এক টন পেঁয়াজ বিক্রি করতে ৮ ঘণ্টা ৩৩ মিনিট সময়ের প্রয়োজন হয়। অথচ গত তিন দিন রাজধানীর ১০ স্পটে ঘুরে ট্রাকে দেখা যায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টায় সব পেঁয়াজ বিক্রি শেষ। গতকাল খামারবাড়ির ট্রাকের পেঁয়াজ বিক্রেতা জানান, সকাল ১১টায় এসে দুপুর ২টার মধ্যে সব পেঁয়াজ বিক্রি শেষ হয়েছে।

এদিকে আমাদের বরিশাল ব্যুরো জানায়, বিভাগীয় শহর বরিশালে টিসিবির পেঁয়াজ এসেছিল মাত্র ১০ টন। বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই দিনেই বিক্রি শেষ। এরপর থেকে টিসিবির ৪৫ টাকা দরের পেঁয়াজ কেনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত বরিশালবাসী। এরই মধ্যে স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা হয়েছে। টিসিবির বরিশাল অফিসপ্রধান মো. আনিছুর রহমান  বলেন, সরবরাহ না থাকায় তারা আপাতত ডিলারদের পেঁয়াজ দিচ্ছেন না। সরবরাহ হলে আবারও বিক্রি করা হবে।

টিসিবির ডিলার শেখ মাসুদ রানা জানান, টিসিবির ৫ জন ডিলারের মাধ্যমে ১ টন করে পেঁয়াজ দেওয়া হয়েছিল। এখন না দেওয়ায় গত দু’দিন বিক্রি হওয়া পয়েন্টে ক্রেতারা এসে অপেক্ষা করে ফিরে যাচ্ছেন।