রূপালী ও বেসিক ব্যাংক
ঋণ বিতরণ ও আদায়ে অনিয়মে সংসদীয় কমিটির ক্ষোভ

 

রাষ্ট্রায়ত্ত্ব রূপালী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকের ঋণ বিতরণ ও আদায়ে অনিয়মে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিভিন্ন ব্যাংকে মেয়দোত্তীর্ন ঋণ থাকা সত্বেও সেই প্রতিষ্ঠানকে ঋণ প্রদান, ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করা সত্বেও ঋণ নবায়ন, ঋণ আদায় না করে সুদ মুওকুফ এবং পুণ ঋণ তফশিল করা, রপ্তানী বিলের টাকা আদায় না করা, ঋণের টাকা আত্মসাত্, বারবার মালিকানা পরিবর্তন সত্বেও অপর্যাপ্ত জামানতের ভিত্তিতে ঋণ বিতরণ, ফোর্সড লোন ও পিসি লোনের শর্ত একিভূত করে সেই ঋণ পুণ তফসিলের মতো ঘটনায় কমিটি ব্যাংকের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের ঋণ পুণতফসিল মনিটরিং করার এবং অনাদয়ী ১০৩ কোটি ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা আদায়ের টাকা সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়।

জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত সরকারী হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১৭তম বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করন কমিটির সভাপতি মোঃ রুস্তম আলী ফরাজী। বৈঠকে কমিটির সদস্য আবুল কালাম আজাদ, মো. আব্দুস শহীদ, মো. আফছারুল আমীন, মো. শহীদুজ্জামান সরকার, মনজুর হোসেন, আহসানুল ইসলাম (টিটু), ওয়াসিকা আয়েশা খান ও মো. জাহিদুর রহমান অংশনেন।

বৈঠকে রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের কয়েকটি শাখা ও বেসিক ব্যাংক লিমিটেডের একটি শাখার ২০১২-১৩ অর্থ বছরের হিসাব সম্পর্কিত বাংলাদেশের কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল এর অডিট আপত্তির উপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। কমিটি নিবন্ধিত চাটার্ড একাউন্টেন্ট ফার্ম কর্তৃক রূপালী ব্যাংক লিমিটেড ও বেসিক ব্যাংক লিমিটেড-এর সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক বছরের স্থিতিপত্র, আয়-ব্যয় হিসাব ও লাভ-লোকসান হিসাব সংক্রান্ত বিষয়ে পর্যালোচনা করে। বৈঠকে ৭টি আপত্তির বিষয়ে প্রশ্ন-উত্তর ও জেরা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে কমিটি ৩টি আপত্তি নিষ্পত্তির সুপারিশ করে। এছাড়া অনিষ্পন্ন আপত্তিসমূহের অনাদায়ী টাকা আদায় এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর, রূপালী ও বেসিক ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।