গ্রীষ্মের আগে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ
জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর চাপ কমিয়ে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী গ্রীষ্ম মৌসুমের আগেই দেশে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, এ উদ্দেশ্যে গৃহস্থালি ও শিল্পের ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর পাশাপাশি আগামী ৩ ও ৪ নভেম্বর রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ এক্সপো উদ্বোধন করবেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়র অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি এসব তথ্য জানান।
ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা জানান, সম্প্রতি আলজেরিয়ার সাথে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে জিটুজি ভিত্তিতে এলএনজি, এলপিজি ও পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির সোর্সিং সহজ হবে। নতুন গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা সামলাতে বিকল্প নবায়নযোগ্য শক্তির বিস্তার ঘটানোই বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার।
মাদকমুক্ত সমাজ গঠন ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশজুড়ে অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চিরুনি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গত কয়েক সপ্তাহে অভিযান চালিয়ে দেশব্যাপী কয়েক লাখ পিস ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। তিনি জানান, মাদকমুক্ত পরিচ্ছন্ন সমাজ গড়তে এবং তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের জন্য একটি সুরক্ষিত ‘সমন্বিত স্বাস্থ্য ডেটা ভান্ডার’ ও হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া খাদ্যে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ রোধে রাস্তার পাশের দোকানসহ ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি, পেঁয়াজুসহ বিভিন্ন খাবার বিক্রির অস্থায়ী দোকানগুলোতে নানা রকম জীবাণু ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার এই ক্ষেত্রগুলোতে কড়াকড়ি আরোপ করছে।’
ব্রিফিংয়ে ডা. জাহেদ জানান, কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার্থে সরকারি অফিসে ডে-কেয়ার সেন্টার বৃদ্ধি, মৎস্যসম্পদ রক্ষায় অবমুক্তকরণ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। দারিদ্র্য নিরসনে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে পুষ্টিচাল বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
ধর্মীয় উৎসব প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, এ বছর সরকারি সহায়তা, ছুটি বৃদ্ধি এবং কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দেশের ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে অত্যন্ত আনন্দমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়েছে, যা সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের প্রতি জনগণের আস্থার বহিঃপ্রকাশ।



