শিরোনাম
মূল্যস্ফীতি কমে ৮.২৬%, খাদ্যবহির্ভূতে বেড়েছেট্রাস্ট লাইফের শেয়ার কারসাজি, তিন বিনিয়োগকারীকে জরিমানাবিশ্বব্যাংক-আইএমএফ সভা শুরু, ঋণ নিয়ে আলোচনাভয়ংকর স্বদেশ লাইফ: সব টাকা লুটে খাচ্ছে সিন্ডিকেট!ডেঙ্গুতে এক দিনে ভর্তি ২১৯৩, মৃত্যু ৪প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানি বিনিয়োগকারীদের সাক্ষাৎদুই মাসে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে বড় বৃদ্ধিএসএমই অর্থায়ন ও কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকারআড়াইহাজারে ৩ কোটি টাকার সুতা জব্দহামে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১,০৮৬ জনপ্রবাসীদের জন্য ব্যাংক হিসাবের নতুন নিয়ম, বাড়লো সুবিধাডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫২৩ডিএসইতে পিই রেশিও কমেছে দশমিক ৪৫ শতাংশপরিবহন ব্যয়ে বাড়ছে সবজির দামফের বাড়ল সোনার দাম
down of head

সালতা ক্যাপিটালের ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা

বিনিয়োগকারীদের ১০০ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও নগদ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ব্রোকারেজ হাউস সালতা ক্যাপিটালের ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক (অর্থ), মহাব্যবস্থাপক ও দুই কর্মচারী।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ও নগদ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সালতা ক্যাপিটালের ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কমিশন। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ আগস্ট ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের ১২ নম্বর আদালতে মামলাটি করা হয়। মামলা নম্বর ১৭১২/২০২৬। তবে মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।

বিএসইসির তদন্তে উঠে এসেছে, সালতা ক্যাপিটালের প্রায় ১৪ হাজার গ্রাহকের বিও হিসাবে থাকা ৪ কোটি ৩২ লাখ ১৬ হাজার ৬৪৩টি শেয়ার গোপনে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এসব শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ৭২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। শেয়ার বিক্রির পর ওই অর্থ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ব্রোকারেজ হাউসটির কনসোলিডেটেড কাস্টমার্স অ্যাকাউন্টে (সিসিএ) থাকা ২৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা অন্য হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। সব মিলিয়ে আত্মসাতের অভিযোগের পরিমাণ ১০০ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

এর আগে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর আকস্মিক পরিদর্শনে সালতা ক্যাপিটালের সিসিএতে ২৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকার ঘাটতি পায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। বিষয়টি বিএসইসিকে জানানোর পর ২৬ নভেম্বর ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে কমিশন। কমিটি চলতি বছরের ২১ মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. ইকবাল হোসেন ওই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের শুরু থেকেই গ্রাহকদের শেয়ার বিক্রি ও নগদ অর্থ সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সালতা ক্যাপিটালের নবায়ন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় বিএসইসি। পরে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতিষ্ঠানটির লেনদেন ও ডিপি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ব্যাংক ও বিও হিসাব অবরুদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ পিএলসিকে অভিযুক্তদের বিও হিসাব অবরুদ্ধ করতে এবং ডিএসই ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানিয়েছে কমিশন।

সালতা ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সাঈদ মো. শহীদুল্লাহ ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বিএসইসির প্যানেল আইনজীবী মো. মাসুদ রানা খান বলেন, মামলায় ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে পরবর্তী শুনানির তারিখ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মামলাটি এখনো শেয়ারবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে যায়নি। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষ হলে এটি ট্রাইব্যুনালে যেতে পারে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, অনুমোদনহীন ডুপ্লিকেট ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার ব্যবহার করে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডে (সিডিবিএল) গ্রাহকদের নিবন্ধিত মুঠোফোন নম্বর পরিবর্তন করে নিজেদের নম্বর যুক্ত করা হয়েছিল। ফলে প্রকৃত বিনিয়োগকারীরা লেনদেনের বার্তা পেতেন না। তাঁদের পাঠানো হতো ভুয়া হিসাব বিবরণী। এ সুযোগে গ্রাহকদের শেয়ার বিক্রি ও নগদ অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়।

এ ধরনের অনিয়ম শনাক্তে ডিএসই ইন্টিগ্রেটেড মনিটরিং প্ল্যাটফর্ম (ডিএসই-আইএমওএন) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত খবর