শিরোনাম
টানা তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫ মৃত্যু, ভর্তি ১৮৯৮২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৮ জনের মৃত্যুটেকসই প্যাকেজিংয়ে আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ শুরুআগাম শীতের সবজিতেও দামের উত্তাপডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৬৮৪প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ বইআজ ৮১তম জাতিসংঘ দিবসবিশ্ববাজারে ৬ মাসের সর্বোচ্চে তেলের দামইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে চাপে বাংলাদেশরাজধানীর যেসব এলাকায় ৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না১৪১ ফ্লাইট বাতিল, দুর্ভোগে ২১ হাজার ৯৩৩ যাত্রীআজ থেকে রাত ৮টায় বন্ধ হবে মার্কেট-দোকানপাটভারত থেকে আনা ১৩৫ টন চালে মিলল বিষাক্ত উপাদানডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, ভর্তি ১২৯৯
down of head

রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বছরের শুরু থেকে ব্যবস্থা নিতে হবে

দেশের মোট রাজস্বের প্রায় ৮৪ শতাংশ আদায় করে থাকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে অর্জনের দিক থেকে সংস্থাটি প্রতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা থেকে বেশ খানিকটা পিছিয়ে থাকে। বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরেও সংস্থাটি লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা কম আদায় করতে পেরেছে। এতে সরকার যে উন্নয়ন কার্যক্রম ও বাজেট ঘাটতির লক্ষ্য স্থির করে, তা ঠিক থাকে না। এদিকে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে অভ্যন্তরীণ খাত থেকে রাজস্ব আদায় বাড়াতে চায় সরকার। তাই সরকারের সার্বিক রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্টদের অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে এনবিআর রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ-সংক্রান্ত এক সভায় এ নির্দেশনা দেয়া হয়। সভায় অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমসহ অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কার্যপত্র ও বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গিয়েছে।

সভায় বলা হয়, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে খাদ্যের মজুদ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উৎস থেকে আমদানি করার জন্য ব্যয় বেড়ে গিয়েছে। এছাড়া দেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন খাতে অধিক পরিমাণে ভর্তুকির প্রয়োজন হচ্ছে। তাই অভ্যন্তরীণ সম্পদ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এ প্রেক্ষাপটে এনবিআরবহির্ভূত রাজস্ব বাড়াতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের নির্দেশনা দেয়া হয়। একই সঙ্গে চলতি অর্থবছর ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এনবিআরকে অর্থবছরের শুরু থেকেই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), গম, রাসায়নিক সারসহ নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়েছে। তাই আমাদানীকৃত এসব পণ্যের দাম দেশের বাজারে স্থিতিশীল রাখতে গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা বেশি ভর্তুকি দিতে হচ্ছে সরকারকে। এজন্য সরকার পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়েও কৃচ্ছ্রতাসাধনের পথে হাঁটছে। রাজস্ব আহরণ যদি বেশি হতো তাহলে এতটা ব্যয় কমানোর পথে হাঁটতে হতো না। তাছাড়া বৈশ্বিক এ পরিস্থিতি কতদিন বিরাজ করবে তা বলা যাচ্ছে না। তাই অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে রাজস্ব বাড়ানোর ওপর দিচ্ছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে এনবিআর ও এনবিআরবহির্ভূত রাজস্ব আহরণ বাড়াতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার। কিন্তু বছর শেষে সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি রাজস্ব বোর্ড। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে এনবিআরকে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দেয়া হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এ লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হবে না।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ভ্যাট থেকে গত অর্থবছর আদায়ের লক্ষ্য ছিল ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা। বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৯ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা কম ভ্যাট আদায় হয়েছে। আমদানি ও রফতানি পর্যায়ে শুল্ক সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৬ হাজার কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ৮৯ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে ঘাটতি ৬ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা। আর আয়কর ও ভ্রমণ কর থেকে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে ঘাটতি ৩ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২০২১-২২ অর্থবছরের মূল বাজেটে এনবিআরকে রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছিল ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটেও এ লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। এর বিপরীতে সংস্থাটির সাময়িক হিসাব অনুযায়ী তারা ৩ লাখ ১৭৯ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করতে পেরেছে। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরের মূল বাজেটেও সংস্থাটিকে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়। তবে সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৩ লাখ ১ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়। এর বিপরীতে সংস্থাটি ২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৮১ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করতে সক্ষম হয়। ২০১৯-২০ অর্থছরের মূল বাজেটে সংস্থাটিকে ৩ হাজার ২৫ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়, সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৩ লাখ ৫০০ কোটি টাকা করা হয়। এর বিপরীতে সংস্থাটি রাজস্ব আহরণ করতে সক্ষম হয় ২ লাখ ১৬ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে প্রতি অর্থবছরই এনবিআর রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে।

এদিকে চলতি অর্থবছরে রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সম্প্রতি মাঠপর্যায়ের ভ্যাট ও শুল্ক খাতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাজস্ব আদায় কৌশল নিয়ে বৈঠক করেন এনবিআরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। সেগুনবাগিচায় এনবিআরের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। এতে বিভিন্ন কমিশনারেটের কমিশনাররা অংশ নেন। বৈঠকে প্রতিটি শুল্ক ও ভ্যাট খাতের কমিশনারেটকে চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জনে আলাদা কর্মপরিকল্পনা তৈরির কথা বলা হয়েছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সব সময় চ্যালেঞ্জিং। কারণ এটি সব সময় বেশি ধরা হয়। আমরা চেষ্টা করছি, লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছানোর। শিগগিরই ভালো ফল দেখতে পাবেন। নতুন অর্থবছরে এনবিআরকে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করতে হবে। বিশাল এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোনো পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে কিনা এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অবশ্যই পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেননি চেয়ারম্যান।

এদিকে সম্প্রতি সফরকারী আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধি দল অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বলেন, জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) তুলনায় কর আহরণের হার মাত্র ১০ শতাংশ। প্রতিনিধি দল এটাকে বাড়িয়ে কমপক্ষে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার তাগিদ দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আইএমএফের সাবেক কর্মকর্তা ও গবেষণা সংস্থা পিআরআই এর নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, সরকারের ঋণ-জিডিপি অনুপাত খুবই কম। সমস্যা হলো রাজস্ব আহরণ খুবই কম হওয়ায় এ অবস্থা বিরাজ করছে। তার পরও রাজস্ব খাত সংস্কারে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এক ধরনের উদাসীনতা আছে। গত এক দশকে রাজস্ব খাতে কার্যকর কোনো সংস্কার হয়নি। রাজনীতিবিদদের মধ্যে সংস্কারে তেমন আগ্রহ নেই।

সম্পর্কিত খবর