শিরোনাম
icon সূচকের উত্থানে লেনদেন ৪৪০ কোটি টাকা icon পোশাক রপ্তানি বাড়লেও নির্ভরতা মৌলিক পণ্যে icon শ্যামপুর সুগার মিলসের প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ icon ঢাকা ব্যাংকের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ icon নভেম্বরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ : সিইসি icon লভ্যাংশ দেবে না আজিজ পাইপস icon সামিট পাওয়ারের লভ্যাংশ ঘোষণা icon বিডি অটোকার্সের লভ্যাংশ ঘোষণা icon ইভেন্স টেক্সটাইলের লভ্যাংশ ঘোষণা icon ইউনাইটেড পাওয়ারের লভ্যাংশ ঘোষণা icon লোকসানেও আলহাজ্ব টেক্সটাইলের লভ্যাংশ ঘোষণা icon উপকূল পেরিয়ে দুর্বল হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব icon বেতন দিতে বিশেষ ঋণ নিচ্ছে সরকার icon আবারও বাড়ল সোনার দাম icon জাপানে আন্তর্জাতিক সেমিনারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেন জেনিথ লাইফের সিইও icon বাংলাদেশে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের ঘোষণা icon গ্রীষ্মের আগে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ icon দরপতনের শীর্ষে মীর আক্তার হোসেন icon ডেঙ্গুতে আরও ১১ মৃত্যু, ভর্তি ২,০৭১ icon অর্থছাড়ে শীর্ষে আইডিএ ও এডিবি icon শ্যালিকাকে বিয়ে করে বাড়িছাড়া মাসুদ icon সূচকের পতনে লেনদেন ৪০৩ কোটি টাকার icon ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন icon সিকদার ইন্স্যুরেন্সের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা icon পদ্মা অয়েলের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা
down of head

উৎসে কর কমানোসহ ১৯৪টি প্রস্তাব চট্টগ্রাম চেম্বারের

আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনা সভা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আলোচনা সভায় সিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে উৎসে কর কমানোসহ ১৯৪টি প্রস্তাব দেয়া হয়। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে অবস্থিত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে এ সভার আয়োজন করা হয়।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, সদস্য মাসুদ সাদিক, জাকিয়া সুলতানা ও সামস উদ্দিন আহমেদসহ ব্যবসায়ীরা বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বৃহত্তর চট্টগ্রামে বাস্তবায়নাধীন মেগা প্রকল্পগুলো যথাসময়ে সম্পন্ন করার জন্য আগামী বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানান। এ সময় তিনি আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট উপলক্ষে ১৪টি মূলনীতি ধরে চট্টগ্রাম চেম্বারের পক্ষ থেকে শুল্ক সংক্রান্ত ৭০, ভ্যাট সংক্রান্ত ২২ এবং আয়কর সংক্রান্ত ১০২টি প্রস্তাব তুলে ধরেন।

চট্টগ্রাম চেম্বার সহসভাপতি ও প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, দেশে বর্তমানে আমদানির পরিমাণ ৬০ বিলিয়ন ডলার। জিডিপি ৩৫০ বিলিয়ন ডলার। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আগামী ১০ বছরে জিডিপি হতে হবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার। তিনি এক্ষেত্রে দেশে আমদানি পণ্যের বিকল্প পণ্য উৎপাদনে গুরুত্বারোপ করার পাশাপাশি দেশে প্রতি বছর কোন ধরনের পণ্য কী পরিমাণ আমদানি হয়, সেটি উন্মুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। ডেইরি শিল্প গড়ে ওঠার পরও দেশে প্রচুর চিজ আমদানির উদাহরণ টেনে এক্ষেত্রে তিনি তথ্য-উপাত্ত প্রকাশের লক্ষ্যে এনবিআরকে একটি ওয়েব পোর্টাল চালু করার অনুরোধ জানান।

জিপিএইচ ইস্পাতের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম ভারী শিল্প খাতে লৌহ ও লৌহজাত পণ্য এবং সিমেন্ট সেক্টরে উৎসে কর কর্তনের হার ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশে নামিয়ে আনা ও আমদানি পর্যায়ে স্ক্র্যাপের টনপ্রতি শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, ইস্পাতের আন্তর্জাতিক বাজার দর টনপ্রতি ৩০০ ডলার থেকে ৭০০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। এখন ডলারের মূল্য ৮৫ থেকে ৮৯ টাকায় বৃদ্ধি পাওয়ায় রডের টনপ্রতি বাজার মূল্য বেড়ে গিয়েছে। তাই রডের বাজার সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ইস্পাতের আমদানি শুল্ক কমিয়ে আনার বিকল্প নেই। রাসায়নিক কাঁচামাল হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ফেরো অ্যালয়স আমদানি পর্যায়ে রেগুলেটরি ডিউটি ১৫ শতাংশ অরোপিত রয়েছে। এটা স্থানীয় পর্যায়ে খুবই সামান্য উৎপাদন হওয়ায় ৫ শতাংশে নির্ধারণের দাবি জানান তিনি।

মো. জাহাঙ্গীর আলম বক্তব্যে বলেন, পরবর্তী সময়ে সমন্বয় না হওয়ার কারণে কাঁচামাল আমদানি পর্যায়ে সব ভ্যাট প্রত্যাহার করা উচিত। উৎপাদিত পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে ওয়্যারহাউজে রাখতে হয়। বিধায় ইস্পাত খাতের উদ্যোক্তাদের মূসক করের জন্য কেন্দ্রীয় মূসক নিবন্ধন দেয়ার অনুরোধও করেন তিনি।

বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ও কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা যারা পাবলিক লিস্টেড কোম্পানি আছি, তাদের প্রকাশিত হিসাব দেখলেই দেখা যাবে কতটা লস করে ব্যবসা পরিচালনা করছি। এজন্য তিনি উৎসে কর ২ শতাংশ প্রত্যাহার করাসহ টনপ্রতি কাঁচামালে ৫০০ টাকা শুল্ক নির্ধারণের দাবি জানান।

এছাড়া সব শুল্ক স্টেশনে অভিন্ন মূল্যে শুল্কায়ন করার জোর দাবি জানান সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু।

অনুষ্ঠানে তামাক চাষী, ব্যবসায়ী ও শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধি আবদুল আউয়াল মোহন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সিগারেটের প্রতি শলাকার দামের মধ্যে কমপক্ষে ১ টাকা পার্থক্য করে প্রতি ১০ শলাকার মূল্য দেশীয় সিগারেট ৩৯ টাকা এবং আন্তর্জাতিক সিগারেট ৪৯ টাকায় দাম নির্ধারণের দাবি জানান। এক্ষেত্রে তিনি বিকল্প একটি প্রস্তাব দিয়ে জানান, বর্তমান বাজারে নিম্নস্তরের বিদেশী কোম্পানির বাজারজাত হওয়া আন্তর্জাতিক সিগারেটের ব্র্যান্ড মধ্যস্তরে উন্নীত করে নিম্নস্তর শুধু দেশীয় কোম্পানির সিগারেটের জন্য সংরক্ষিত করা হলে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি পাবে।

অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কোন কোন খাতকে অগ্রিম প্রদেয় করদায় চূড়ান্ত হতে অব্যাহতি দেয়া যায়, তা বিবেচনা করা হবে। দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা, কর ব্যবস্থাকে কীভাবে আরো সহজ করা যায়, করের বোঝা কমানো যায় এবং সহজ পরিবেশ তৈরি করা যায়, সেই লক্ষ্যে এনবিআর কাজ করছে।

সম্পর্কিত খবর