১০ নাম চূড়ান্ত, রাষ্ট্রপতির কাছে যাচ্ছে কাল
নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ে ১০ জনের নামের তালিকা চূড়ান্ত করেছে সার্চ কমিটি। আগামীকাল রাষ্ট্রপতির কাছে নামের তালিকা জমা দেয়া হবে। গতকাল বিকালে সার্চ কমিটির বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সার্চ কমিটি তাদের বৈঠক শেষ করে ১০ জনের নাম ফাইনাল করেছে। তারা বৃহস্পতিবার (আগামীকাল) রাষ্ট্রপতির কাছে এটা জমা দেবেন। ওনাদের মিটিং শেষ, সিলেকশনও শেষ; সবকিছু উনারা ফাইনাল করে ফেলেছেন। রাষ্ট্রপতির কাছে ১০ জনের নাম জমা দেয়ার পর তিনি যেভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন সেভাবে হবে।
এর আগে গতকাল বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে বৈঠকটি শুরু হয়। বৈঠকে বিরতি দিয়ে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সার্চ কমিটির সদস্যরা। এরপর পুনরায় বৈঠকে বসে সার্চ কমিটি। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। তার সঙ্গে ছিলেন কমিটির সদস্যরা। তারা হলেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামান, মহাহিসাব নিরীক্ষক মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন ও কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক।
এরই মধ্যে শেষ হয়েছে কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন ইসির মেয়াদ। এরপর থেকে ইসি এখন পর্যন্ত শূন্য রয়েছে। স্বাধীনতার পর এবারই প্রথম আইন অনুযায়ী ইসি গঠিত হচ্ছে। গত ২৭ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২ জাতীয় সংসদে পাস হয়। আর ইসি গঠনে ৫ ফেব্রুয়ারি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি ১০ জনের নাম প্রস্তাব করার পর সেখান থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করবেন রাষ্ট্রপতি। তাদের ওপরেই থাকবে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভার।
ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতির কাছে নাম প্রস্তাব করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের কাছে নাম চেয়েছিল সার্চ কমিটি। পরে ২৪টি রাজনৈতিক দল ও ছয়টি সংগঠন নামের তালিকা জমা দিয়েছিল। ব্যক্তিগতভাবেও অনেক নামের তালিকা জমা দিয়েছিলেন। তবে বিএনপি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ (সিপিবি) বেশ কয়েকটি দল নাম দেয়া থেকে বিরত ছিল। মোট ৩২২ জনের নাম পেয়েছিল অনুসন্ধান কমিটি। ওই তালিকায় অধিকাংশই ছিলেন অধ্যাপক, বিচারপতি, সাবেক সচিব, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা। সেখান থেকে প্রাথমিকভাবে ২০ জনের নামের তালিকা করা হয়। তাদের মধ্য থেকে ১২-১৩ জনের নাম ঠিক করল অনুসন্ধান কমিটি। তবে আইন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নামগুলো থেকে ১০ জনের তালিকা করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এক্ষেত্রে কমিটির নিজস্ব বিবেচনা থেকেও তালিকা চূড়ান্ত করার সুযোগ রয়েছে।
সার্চ কমিটিকে নাম সুপারিশের জন্য ১৫ কার্যদিবস সময় দেয়া হয়েছে। এর আগেও দুটি নির্বাচন কমিশন সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ২০১২ সালে কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ ও ২০১৭ সালে কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। ওই সময় সার্চ কমিটির কাছে জমা পড়া কোনো নাম প্রকাশ করা হয়নি।



