যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন তেল আমদানি বাড়াচ্ছে ভারত
ভারতের ব্যবসায়ীরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন তেল আমদানি বাড়াচ্ছে। মূলত লাতিন আমেরিকার দেশগুলো থেকে সরবরাহ কমায় বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নিয়েছে শীর্ষ ভোক্তা দেশটি। এছাড়া বর্তমানে পাম অয়েলের ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণেও সয়াবিন তেল আমদানি বাড়ানো হচ্ছে। খবর রয়টার্স।
ভারত বিশ্বের শীর্ষ ভোজ্যতেল আমদানিকারক। সাধারণত আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল থেকেই দেশটি সয়াবিন তেল আমদানি করে। কিন্তু নেতৃস্থানীয় রফতানিকারক দেশ দুটিতে ভয়াবহ খরার কারণে তেলবীজটির উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে মুখ ফেরাতে বাধ্য হয়েছে নয়াদিল্লি। তথ্য বলছে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে এক লাখ টন সয়াবিন তেল ক্রয়ের চুক্তি করেছে ভারত।
এদিকে আমদানি চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন তেলের দাম আরো বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এমনিতেই চলতি বছর দেশটির সয়াবিন তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে, যা এক দশকের সর্বোচ্চ। বিষয়টি খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতির উদ্বেগকে আরো তীব্র করে তুলছে।
ভারতীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, যখন লাতিন আমেরিকার বাজারে সরবরাহ সংকট চলছে, ঠিক তখনই আকর্ষণীয় মূল্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন তেল কেনার সুযোগ পেয়েছে ভারত। এজন্যই আমদানি বাড়াচ্ছে দেশটি। অল্প সময়ের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরো দুই কার্গো সয়াবিন তেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে ভারতের।
ভারত মোট চাহিদার দুই-তৃতীয়াংশ সয়াবিন তেলই আর্জেন্টিনা থেকে আমদানি করে। বাকিটা আসে ব্রাজিল থেকে। কিন্তু গত মৌসুমে উৎপাদন নিম্নমুখী থাকায় আর্জেন্টিনায় পণ্যটির মজুদ কমে যায়। এর পরই বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করে ভারত।
এদিকে জানুয়ারিতে ভারতের ভোজ্যতেল আমদানি বেড়েছে। ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা মেটাতে আমদানিকারকরা জানুয়ারিতে বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ ভোজ্যতেল কিনছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কেনা হয়েছে সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেল। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সলভেন্ট এক্সট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (এসইএ)। তথ্য বলছে, গত মাসে ভারত ১২ লাখ ৭০ হাজার টন ভোজ্যতেল আমদানি করে। এক বছরের ব্যবধানে আমদানি বেড়েছে ১৬ শতাংশ।
এসইএ জানায়, জানুয়ারিতে ভারত যে পরিমাণ ভোজ্যতেল আমদানি করেছে, তার ৫৬ শতাংশই সয়াবিন ও সূর্যমুখী। বাকিটা অপরিশোধিত ও পরিশোধিত পাম অয়েল।
গত মাসে ভারতের পাম অয়েল আমদানি কমে ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৮৪ টনে নামে। ডিসেম্বরে যা ছিল ৫ লাখ ৬৫ হাজার ৯৪৩ টন। অন্যদিকে সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেল আমদানি বেড়ে ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৮৪২ টনে উন্নীত হয়েছে। ডিসেম্বরে যা ছিল ৬ লাখ ৫০ হাজার ৯২০ টন।



