লাভজনক করতে হবে নগদকে: তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী
নগদকে আরও লাভজনক, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে নির্দেশ দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, সরকারের প্রতিষ্ঠান হওয়ায় নগদের প্রতি মানুষের আস্থা রয়েছে। সেই আস্থার প্রতিদান দিতে সেবার মান, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়াতে হবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁও ডাক ভবনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নগদ কর্তৃক ডাক অধিদপ্তরকে রাজস্ব আয় হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এই নির্দেশ দেন। অনুষ্ঠানে নগদ কর্তৃক ডাক অধিদপ্তরকে ১৮ কোটি ৫৭ লাখ রাজস্ব আয়ের চেক হস্তান্তর করা হয়৷
নগদ প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ’র সভাপতিত্বে রাজস্ব আয় হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মিজ বিলকিস জাহান রিমি, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম।
মন্ত্রী বলেন, আজকে নগদের এই অনুষ্ঠানে আমরা টাকা পাচ্ছি। সরকার তো শুধু খরচই করে, কিন্তু আজকে সত্যিই সরকারের জন্য এটি একটি আনন্দের দিন। কারণ কোথাও না কোথাও থেকে আমরা টাকা পাচ্ছি, প্রফিট পাচ্ছি।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন, আমাদের সরকার অলমোস্ট ছয় মাস পূর্ণ করতে যাচ্ছে। আগামী আগস্টে ছয় মাস হবে। এই ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় আমরা প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়ে কাজ করে যাচ্ছি। নির্বাচনের সময় যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার অনেকগুলোই ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আজকে নগদের এই প্রফিটও আমি মনে করি আমাদের সরকারের একটি সফলতা ও বাস্তবতার প্রতিফলন।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। আর সেই প্রযুক্তি তখনই অর্থবহ হয়, যখন তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, প্রবাসী পরিবারের সদস্য, শিক্ষার্থী কিংবা নারী উদ্যোক্তা, সবার জন্য সহজ ও নিরাপদ আর্থিক সেবা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। এই খাতে সুস্থ প্রতিযোগিতা, উদ্ভাবন এবং গ্রাহকবান্ধব সেবার বিস্তার ঘটলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি উপকৃত হবে।
তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডাক বিভাগের এই পরিবর্তন অত্যন্ত প্রয়োজন। একটু আগে সচিব মহোদয় বলেছেন, আমরা ডাক বিভাগকে কীভাবে আপগ্রেড করা যায়, কীভাবে নগদ এবং ডাক বিভাগকে আরও সমন্বিত করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছি। প্রচলিত ডাকসেবার পাশাপাশি ডিজিটাল সেবা, আর্থিক সেবা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নানা উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি কার্যক্রম চালু হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ডাকের মাধ্যমে দেশের যে–কোনো প্রান্তে খুবই সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে, যা মানুষের জীবনকে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করে তুলবে। একটু আগে বলা হয়েছে, অন্যান্য পার্সেল সেবাদাতাদের তুলনায় আমরা ওয়ান-থার্ড দামে সেবা দিচ্ছি। আমরা ডাক বিভাগকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করছি।
মাহবুব আনাম বলেন, ডাক বিভাগের প্রতি মানুষের দীর্ঘদিনের আস্থা রয়েছে। তাই ডাক বিভাগের নামে প্রতিষ্ঠিত মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদও দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে নগদের কিছু কার্যক্রমের কারণে মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। আমি ডাক বিভাগকে বলব, চুক্তি অনুযায়ী মনিটরিং জোরদার করতে হবে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং নগদকে একটি আস্থাশীল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। ডাক বিভাগের মতো নগদকেও সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসকে আস্থা ও নির্ভরযোগ্যতার প্রতীক হতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতকে পারস্পরিক আস্থা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তাহলেই রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবন উৎসাহিত হবে এবং জনগণ আরও উন্নত সেবা পাবে।
মন্ত্রী বলেন, আজকে ডাক বিভাগের সঙ্গে নগদ যে রাজস্ব ভাগাভাগি করছে, ভবিষ্যতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, সেবার মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে তা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। আমি শুনেছি নগদের প্রায় নয় কোটি ক্লায়েন্ট রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় তিন কোটি নিয়মিত সক্রিয় গ্রাহক। এটি একটি বিশাল বিষয়।
তিনি বলেন, নগদ যেহেতু সরকারের প্রতিষ্ঠান, তাই মানুষের মধ্যে এর প্রতি একটা আস্থা রয়েছে। এজন্যই দিন দিন এর গ্রাহক বাড়ছে। প্রশাসক বলেছেন, সফটওয়্যারের আরও উন্নয়ন করা গেলে গ্রাহকসংখ্যা আরও বাড়বে। আমি, সচিব মহোদয়, ডিজি সাহেব এবং সংশ্লিষ্টদের বলব, আমরা বসে দেখি কীভাবে নগদের সার্ভিস আরও উন্নত করা যায়। এখানে প্রতি মাসে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। এটিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের কমিটমেন্ট থাকতে হবে। জনগণের আস্থা রয়েছে, কারণ এটি সরকারের প্রতিষ্ঠান। আমরা যদি আরও ভালো সেবা দিতে পারি এবং সফটওয়্যারকে আধুনিক করতে পারি, তাহলে নিশ্চয়ই নগদকে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
ডাক বিভাগের উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, সারাদেশে আমাদের প্রায় নয় হাজারের বেশি ডাকঘর রয়েছে। কীভাবে এসব ডাকঘরকে আপগ্রেড করা যায়, তা নিয়েও আমরা চিন্তাভাবনা করছি। গ্রামে যেখানে অন্য কেউ পৌঁছাতে পারে না, সেখানে ডাকঘর রয়েছে। যদি আমরা এগুলোকে উন্নত করতে পারি, তাহলে মানুষের দোরগোড়ায় আরও কার্যকর সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
মন্ত্রী বলেন, আজকে প্রায় সরকারকে ভ্যাট-ট্যাক্স বাবদ ৩১৩ কোটি টাকা দিয়েছে। এটি বড় অঙ্ক। যেখানে বস্ত্র, পাটসহ অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান লোকসানে রয়েছে, সেখানে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো, বন্ধ শিল্পগুলো চালু করতে হবে এবং লোকসানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে।
সম্প্রতি নগদ বিক্রির গুঞ্জনের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, কয়েকদিন আগে দেখলাম একটি সংবাদে বলা হয়েছে, ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় নাকি নগদ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। অথচ আমরা কখনোই এ ধরনের কোনো কথা বলিনি। যারা এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করেন, তাদের বলব, গুজবে কান দেবেন না। আমি আছি, সচিব মহোদয় আছেন, ডিজি সাহেব আছেন, প্রশাসক আছেন। আমাদের কাছে জিজ্ঞাসা করুন, তারপর সংবাদ প্রকাশ করুন।
তিনি বলেন, আমরা একটি স্বচ্ছ সরকার। সাংবাদিক ভাইদের জন্য আমাদের দরজা সবসময় খোলা। আপনারা কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে আমাদের সঙ্গে কথা বলবেন। তাহলে জনগণ বিভ্রান্ত হবে না। কারণ আপনাদের সংবাদ থেকেই মানুষের ধারণা তৈরি হয়। তাই সঠিক সংবাদ প্রকাশ করুন, যাতে মানুষ সঠিক তথ্য জানতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, নগদকে আরও এগিয়ে নিতে আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। খুব শিগগিরই আমরা আবার বসবো, কীভাবে নগদের সেবা আরও উন্নত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করবো। সামনে আরও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস আসতে চাইছে। আসুক, প্রতিযোগিতামূলক বাজার থাকুক। যত বেশি প্রতিযোগিতা হবে, তত বেশি জনগণ উপকৃত হবে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি বলেন, আমরা সবাই সরকারের কাছ থেকে উন্নত সেবা চাই। আমরা চাই প্রশস্ত রাস্তা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, দ্রুতগতির ইন্টারনেট এবং উন্নত নাগরিক সেবা। কিন্তু সরকার তখনই এসব সেবা নিশ্চিত করতে পারবে, যখন সরকারের পর্যাপ্ত রাজস্ব থাকবে। কারণ সরকারের কোনো সেবাই বিনামূল্যে দেওয়া সম্ভব নয়। প্রতিটি সেবার পেছনেই রাজস্ব প্রয়োজন। রাজস্ব পর্যাপ্ত না হলে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।
সচিব বলেন, তিন বছর আগেও শ্রীলঙ্কা বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছিল। তারপরও দেশটির কর-জিডিপি অনুপাত ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ। আর আমরা এখনো ৭ শতাংশেরও নিচে। তাই সরকারের সেবা চাইলে আমাদের সবাইকে যথাযথভাবে রাজস্ব প্রদান করতে হবে।
ডাক বিভাগের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একসময় ডাক বিভাগের প্রধান সেবা ছিল মানি অর্ডার। নতুন প্রজন্মের অনেকেই হয়তো মানি অর্ডারের সঙ্গে পরিচিত নয়। প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার চালু হয়। তখন ডাক অধিদপ্তর চিন্তা করে, একজন স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারের মাধ্যমে কীভাবে এই সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও গ্রাহকবান্ধব করা যায়। সেই ভাবনা থেকেই ডাক অধিদপ্তর ও নগদের এই অংশীদারিত্বের সূচনা।
তিনি আরও বলেন, নগদ ডাক অধিদপ্তরের লোগো ব্যবহার করে কার্যক্রম পরিচালনা করে। বর্তমানে নগদের গ্রাহক প্রায় ৯ কোটি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে, বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার পর মানুষের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই আস্থার কারণেই ব্যবসা বেড়েছে, রাজস্ব বেড়েছে এবং সরকারের আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিলকিস জাহান রিমি বলেন, ২০১৮ সাল থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত নগদ ডাক অধিদপ্তরের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি করেছে মাত্র ১৩ কোটি টাকা। কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সেই পরিমাণ বেড়ে প্রায় ১৪ কোটি টাকা হয়েছে। আর সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এখানে দুটি বিষয় স্পষ্ট। প্রথমত, গ্রাহকের আস্থা বেড়েছে। দ্বিতীয়ত, বর্তমান ব্যবস্থাপনার দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। এজন্য প্রশাসকসহ নগদের বর্তমান টপ ম্যানেজমেন্টকে আমি ধন্যবাদ জানাই।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে নাগরিক সেবাকে কীভাবে আরও সহজ, দ্রুত এবং প্রযুক্তিনির্ভর করা যায়, সে লক্ষ্যেও বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
ডাক বিভাগের বর্তমান কার্যক্রম তুলে ধরে সচিব বলেন, অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেন, এখন ডাক বিভাগের কাজ কী? আগে ডাক বিভাগ মানেই ছিল লাল রঙের পোস্টবক্স আর চিঠি আদান-প্রদান। কিন্তু এখন সেই ধারণা বদলে গেছে। সারা বিশ্বেই ডাকসেবাকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এখন চিঠির পরিবর্তে মানুষ মোবাইল, টেক্সট মেসেজ, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে যোগাযোগ করছে। তবে লজিস্টিকস সেবার গুরুত্ব অনেক বেড়েছে।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন কি না, দেশের বাইরে এক কেজি পণ্য ফেডএক্স বা ডিএইচএলের মাধ্যমে পাঠাতে যে খরচ হয়, ডাক বিভাগ প্রায় তার এক-তৃতীয়াংশ খরচে একই ধরনের সেবা দিতে পারে। একই সময়ের মধ্যে নিরাপদভাবে পণ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়। তাই আমি সবাইকে অনুরোধ করব, ডাক বিভাগের আধুনিক সেবাগুলো গ্রহণ করুন।
ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আসাদুল ইসলাম বলেছেন, আজকে আসলেই আমাদের জন্য একটি খুশির দিন। নগদ যে পরিস্থিতিতে ছিল, দিনে দিনে আলহামদুলিল্লাহ সেটার ভালো ধরনের উন্নতি হচ্ছে। এটা একটা স্থিতিশীল উন্নতি। মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যেভাবে আমাদের সহযোগিতা করছেন, ইনশাল্লাহ আমরা সরকারের একটি সফল প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের আরও প্রতিষ্ঠিত করতে পারব।
তিনি বলেন, সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান লাভ করতে পারে না বা রাজস্ব আয় করতে পারে না, এমন একটি ধারণা রয়েছে। আমরা সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করতে চাই। সরকারের অধীন ডাক অধিদপ্তর এবং নগদ একসঙ্গে সেই সক্ষমতা দেখাতে পারবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। সরকারের একটি অংশ হতে পেরে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করি।
তিনি আরও বলেন, ২০১৭-১৮ সালে নগদের যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকে চলতি বছরে প্রতিষ্ঠানটি সরকারকে ভ্যাট-ট্যাক্স বাবদ ৩১৩ কোটি টাকা দিয়েছে। শুধু চলতি বছরেই সরকার নগদের কাছ থেকে মোট ৩৫০ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছে।
আসাদুল ইসলাম বলেন, জন্মলগ্ন থেকে এ পর্যন্ত নগদ সরকারকে মোট ৯৪৬ কোটি টাকা ভ্যাট-ট্যাক্স পরিশোধ করেছে। এছাড়া ডাক অধিদপ্তরের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগির আওতায় দিয়েছে ৪৭ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা সরকারের কোষাগারে গেছে। অল্প কিছু টাকা হলেই এই অঙ্ক ১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেত। ২০১৮ সালে কার্যক্রম শুরু করার পর মাত্র আট বছরে সরকারকে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া নিঃসন্দেহে একটি বড় অর্জন।
নগদ প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেছেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সঙ্গে নগদের রাজস্ব ভাগাভাগির চুক্তি অনুযায়ী ডাক বিভাগকে ১৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা হস্তান্তর করা হচ্ছে। এ অর্থ আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রীর হাতে তুলে দিতেই এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সমন্বয়ে নগদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাক বিভাগের একটি টিমের সহায়তায় কোনো নতুন সরকারি বা অন্য কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সংকটের সময় অনেক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হলেও নগদের ক্ষেত্রে তেমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বরং গত দুই বছরে নগদের লেনদেন, রাজস্ব এবং সরকারের কাছে প্রদেয় রাজস্বের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
নগদ প্রশাসক বলেন, গত বছর বাংলাদেশ ডাক বিভাগকে ১৮ মাসের রাজস্ব বাবদ প্রায় ১৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। আর এ বছর মাত্র এক বছরের জন্যই ১৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা দেওয়া হচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে, আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে সংকট কাটিয়ে উঠে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা সম্ভব।
নগদের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রতিদিন প্রায় এক কোটি লেনদেন সম্পন্ন হয়। বর্তমানে সক্রিয় গ্রাহক তিন কোটির বেশি এবং মোট গ্রাহক সংখ্যা নয় কোটিরও বেশি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। মে মাসে সেই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকায়। বর্তমানে প্রতি মাসেই ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হচ্ছে।
মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, নগদের প্রধান সীমাবদ্ধতা হলো : বিনিয়োগের অভাব এবং পুরোনো সফটওয়্যার। সফটওয়্যার আধুনিকায়নে বিনিয়োগ করা গেলে নগদ দেশের শীর্ষ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আরও সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে নগদ ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে।


