শিরোনাম
icon শ্যামপুর সুগার মিলসের প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ icon ঢাকা ব্যাংকের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ icon নভেম্বরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ : সিইসি icon লভ্যাংশ দেবে না আজিজ পাইপস icon সামিট পাওয়ারের লভ্যাংশ ঘোষণা icon বিডি অটোকার্সের লভ্যাংশ ঘোষণা icon ইভেন্স টেক্সটাইলের লভ্যাংশ ঘোষণা icon ইউনাইটেড পাওয়ারের লভ্যাংশ ঘোষণা icon লোকসানেও আলহাজ্ব টেক্সটাইলের লভ্যাংশ ঘোষণা icon উপকূল পেরিয়ে দুর্বল হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব icon বেতন দিতে বিশেষ ঋণ নিচ্ছে সরকার icon আবারও বাড়ল সোনার দাম icon জাপানে আন্তর্জাতিক সেমিনারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেন জেনিথ লাইফের সিইও icon বাংলাদেশে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের ঘোষণা icon গ্রীষ্মের আগে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ icon দরপতনের শীর্ষে মীর আক্তার হোসেন icon ডেঙ্গুতে আরও ১১ মৃত্যু, ভর্তি ২,০৭১ icon অর্থছাড়ে শীর্ষে আইডিএ ও এডিবি icon শ্যালিকাকে বিয়ে করে বাড়িছাড়া মাসুদ icon সূচকের পতনে লেনদেন ৪০৩ কোটি টাকার icon ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন icon সিকদার ইন্স্যুরেন্সের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা icon পদ্মা অয়েলের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা icon কপারটেকের লভ্যাংশ ঘোষণা icon ক্রাউন সিমেন্টের লভ্যাংশ ঘোষণা
down of head

রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে সম্পৃক্ত হতে চায় জিপিএইচ ইস্পাত

উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা ‘রূপকল্প ২০৪১’ গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নতির পথে অর্থনীতির রূপান্তর হবে শিল্প খাতে। এ প্রক্রিয়ায় রফতানি ভাণ্ডারে বৈচিত্র্য আনার জন্য দরকার হবে উন্নত প্রযুক্তি ও ভারী যন্ত্রপাতি। যেখানে এগিয়ে আসতে হবে দেশের বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের। এজন্য উৎপাদিত পণ্যের আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করে সরকারের ‘রূপকল্প ২০৪১’ বাস্তবায়নে বড় পরিসরে সম্পৃক্ত করতে কাজ শুরু করেছে জিপিএইচ ইস্পাত। সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ব্যবসার এমন পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতনরা। চট্টগ্রামে সীতাকুণ্ডে অবস্থিত জিপিএইচ কারখানার সম্মেলন কক্ষে সম্প্রতি এ মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়।

জিপিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে ‘রূপকল্প ২০৪১’ অনুযায়ী এক উন্নত জনপদে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। এ চলার পথে অবকাঠামো উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। ইস্পাত পণ্য হলো অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে একটা প্রধান উপকরণ। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে আমরা এখানে বড় বিনিয়োগ করেছি। সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি কোয়ান্টাম ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেস নিয়ে এসেছি। দেশের বড় বড় অবকাঠামোতে এখন যে রড সরবরাহ করা হচ্ছে, তার পরিবর্তে আমরা এখন ৬০০ কিংবা তারও বেশি গ্রেডের উচ্চশক্তির রড তৈরি করতে সক্ষম। সেক্ষেত্রে প্রকল্পের কাজে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইস্পাতের কনজাম্পশন কমে আসবে। এছাড়া এমএস বিলেট উৎপাদন ও বিশ্ববাজারে রফতানি বাড়িয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে কার্যকর অবদান রাখতে চাই। অন্তত একটা সময় পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে নগদ সহায়তা প্রদান আমাদের পদক্ষেপগুলোকে অনেক দ্রুত এগিয়ে দেবে।

মতবিনিময়কালে জিপিএইচ ইস্পাতের কর্মকর্তারা বলেন, দেশে বর্তমানে চলমান বড় অবকাঠামো তৈরিতে প্রায় ৪০ লাখ টন রড প্রয়োজন হচ্ছে। এসব প্রকল্পের কাজে যদি ৬০০ কিংবা ৭০০ গ্রেডের উচ্চশক্তির রড ব্যবহারের উপযুক্ত ডিজাইন করা হয়, তাতে একই কাজ ৩০ লাখ টনের ব্যবহারেই নিশ্চিত করা সম্ভব। উন্নত দেশের স্থাপনায় ৬০০, ৭০০ এমনকি ৮০০ গ্রেডের উচ্চশক্তির রড ব্যবহার করা হয়। স্টেংথ বেশি হওয়ায় সেসব দেশে অবকাঠামো নির্মাণে রড তুলনামূলক কম লাগে। ইস্পাত খাতে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে আসায় এখন দেশেও ৬০০ গ্রেডের ওপর এমন উচ্চশক্তির রড তৈরিতে সক্ষম জিপিএইচ ইস্পাত।

মতবিনিময় সভায় বলা হয়, রড উৎপাদনে দেশে দুটি টেকনোলজি ব্যবহার হচ্ছে। এর একটি ইনডাকশন ফার্নেস টেকনোলজি। অপরটি ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেস প্রযুক্তি। এর মধ্যে ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেস প্রযুক্তির ব্যবহারে লোহার গুণগত মান নষ্ট করার অপদার্থ বা স্ল্যাগকে বেশ ভালোভাবে অপসারণ করতে পারে। যেটি ইনডাকশন প্রযুক্তিতে পুরোপুরি সম্ভব না। বায়ুদূষণ কমাতে, কম বিদ্যুৎ ব্যবহার ছাড়াও প্রচলিত প্রযুক্তির বিভিন্ন কারখানার তুলনায় জিপিএইচ ইস্পাতের কারখানায় প্রাকৃতিক গ্যাসের সাশ্রয় হচ্ছে অনেক বেশি।

জিপিএইচ ইস্পাতের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলমাস শিমুল বলেন, কোয়ান্টাম ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেসের প্রধান বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে বিশুদ্ধ ইস্পাত উৎপাদনের নিশ্চয়তা। এ প্রযুক্তির ব্যবহারে দ্রুত সময়ে সর্বোচ্চ পরিশোধিত রড তৈরি হয়। নতুন প্রযুক্তিতে অক্সিজেন ব্যবহারের মাধ্যমে স্ল্যাগ ফেলে দিয়ে নিখাদ স্টিল তৈরি করছি। এতে করে উৎপাদন খরচও প্রচলিত ইনডাকশন ফার্নেসের চেয়ে অনেক বেশি। তবে আমরা দেশের বাজারে আন্তর্জাতিকমানের রড সরবরাহ করার পাশাপাশি রফতানি বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

চীনে প্রথমবারের মতো বিলেট রফতানি করার কৃতিত্ব একমাত্র বাংলাদেশী কোম্পানি হিসেবে জিপিএইচ ইস্পাতের। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্টিলের গুণগতমান নিশ্চিত করতে পারার কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে। এর আগে শ্রীলংকা ও ভারতে রড ও বিলেট রফতানি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ভারী শিল্প পণ্য দিয়ে রফতানিতে অবস্থান নেয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে জিপিএইচ ইস্পাত। এ কারখানা থেকে কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে বিশ্বব্যাংকের বেঁধে দেয়া সীমার চেয়েও অনেক কম। কারখানার জন্য প্রয়োজনীয় পানির মেটানো হচ্ছে জমিয়ে রাখা বৃষ্টির পানি থেকে। পাহাড়ি এলাকায় লেক (হ্রদ) তৈরি করে সেই লেকে বৃষ্টির পানি ধারণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কারখানার ব্যবহূত পানি রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে আবারো ব্যবহার করা হয়। ফলে কারখানা থেকে কোনো দূষিত পানি বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

সম্পর্কিত খবর