ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আদা আমদানি ৩০% কমেছে
সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে সদ্যবিদায়ী অর্থবছর আমদানি ৩০ শতাংশ কমেছে। মূলত ভারতের বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এদিকে মসলাপণ্যটির আমদানি কমায় দেশের বাজারেও দাম বেড়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, দু-তিন সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি ও খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি ২৫-৩০ টাকা বেড়েছে আদার দাম।
এদিকে সাতক্ষীরার ভোমরা শুল্কস্টেশনের রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-জুন পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে আদা আমদানি হয়েছে ৭৪ হাজার ৫৬৩ টন। যার মূল্য ৬৩৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। আমদানীকৃত এসব পণ্য থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ৩১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরের তুলনায় আমদানি ৩০ শতাংশ কমেছে।
সূত্রটি জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-জুন পর্যন্ত বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছিল ১ লাখ ১০ হাজার ১১৮ টন, যার মূল্য ৯৪১ কোটি টাকা। এটি থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছিল ৪৭ কোটি ৬ লাখ টাকা।
ভোমরা বন্দরের মসলা পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাব্বির এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. শাহিন হোসেন জানান, তার প্রতিষ্ঠান অন্যান্য মসলা পণ্যের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আদা আমদানি করে। তবে ভারতীয় বাজারে দাম চড়া হওয়ায় আমদানি কমানো হয়েছে। আগে সপ্তাহে ১২০-১৩০ টন আদা আমদানি হলেও বর্তমানে তা ৮০-৯০ টনে নেমেছে।
সাতক্ষীরা জেলা সদরের পাইকারি মোকাম সুলতানপুর বড় বাজারের অন্যতম মসলা পণ্য বিক্রয় প্রতিষ্ঠান মেসার্স জুবায়ের এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. জহুরুল হক জানান, দু-তিন সপ্তাহ আগে যে আদা পাইকারি বিক্রি করেছেন প্রতি কেজি ৫৫ টাকা দরে, বর্তমানে তা বিক্রি করেছেন ৭৫ টাকায়। এছাড়া খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ২০-২২ দিনের ব্যবধানে কেজিতে ২০-২৫ টাকা করে বেড়েছে আদার দাম। চাহিদার তুলনায় আমদানি কমে যাওয়ায় মূলত দাম বেড়েছে।
ভোমরা শুল্কস্টেশনের দায়িত্বরত কাস্টমসের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার আমীর মামুন জানান, বিদায়ী অর্থবছর আদা আমদানি ৩০ শতাংশ কমেছে। এটি থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ৩১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।



