শিরোনাম
down of head

একান্ত সাক্ষাতকারে ইমাম শাহীন
বীমা খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে মালিকপক্ষের সততা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ

 

আদম মালেক :

ক্রমেই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বীমা খাতের স্বচ্ছতা। অরক্ষিত হয়ে পড়ছে গ্রাহকের আমানত। এ অবস্থায় দ্রুত বিনিয়োগের রিটার্ন চাইলে কোম্পানিগুলো মুখ থুবড়ে পড়বে। এ জন্য গ্রহণ করতে হবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বীমা কোম্পানিগুলোর মালিক পক্ষ এবং শীর্ষ ব্যবস্থাপনার সততা, দক্ষতা ও আন্তরিকতা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করেছেন বেসরকারী খাতের নন-লাইফ বীমা কোম্পানি এশিয়া ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমাম শাহীন।

তিনি বলেন, সৎ ও যোগ্য উদ্যোক্তাগণ সব সময়ই সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বকে যথাযথ মুল্যায়ন ও পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। বীমা খাতের মালিক পক্ষ ও শীর্ষ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ যদি যোগ্যতা ও সততাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিষ্ঠানকে ধারণ করে কাজ করেন তা হলে অবশ্যই ঐ প্রতিষ্ঠান টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে সামনে দিকে এগিয়ে যাবে। এজন্য বীমা খাতের বিস্তার ও জনআকাঙ্খা পূরণে মালিক পক্ষ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা দরকার। পাশাপাশি সকল নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি আরো শক্তিশালী ও জোরদার করা জরুরী। তাছাড়া বীমা খাতের স্বচ্ছতা বৃদ্ধির জন্য Comprehensive Automation System প্রবর্তন করা দরকার, যেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোম্পানীগুলো সীমা লংঘন করলে সহজেই মনিটর করতে পারে। এ খাতে জনশক্তির পেশাদারিত্ব ও সততা আরো বৃদ্ধি করতে পারলে বীমা খাত মানুষের কর্মসংস্থানসহ অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম হবে। মালিক পক্ষের দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই উন্নয়নের নিমিত্তে Corporate Policy & Philosophy থাকা জরুরী যেনো ব্যবস্থাপনা পর্ষদ সেভাবে গড়ে উঠে। যারা এ দর্শন ধারণ করবে, তারা সঠিক জায়গায় লোক নিয়োগ করবে। যুগ যুগ ধরে তাদের প্রতিষ্ঠান গৌরবের সাথে এগিয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ বীমা খাতে তেমন কোনো উল্লেখ্যযোগ্য অনুযোগ বা সমস্যা নেই। কিছু জীবন বীমা কোম্পানি Maturity বা মৃত্যু দাবীর অর্থ পরিশোধে গড়িমসি করছে। এজন্য অন্যান্য ভাল মানের জীবন বীমা কোম্পানিসহ নন-লাইফ বীমা কোম্পানীকেও একইভাবে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিবেচনা করে থাকে জনগণ। গ্রাহকের আস্থা ও বিশ্বাসের উপর নির্ভর করছে বীমা খাতের সার্বিক উন্নয়ন। গ্রাহক সেবা আরো Digitize করে গ্রাহকের সন্তুষ্টি ও আস্থা বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই। এজন্য সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সবাইকে সততা ও পেশাদার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। সৎ ও যোগ্য লোকবলের অভাব পূরণ করতে হবে। ভাল মানুষ ছাড়া ভাল সেবা প্রদান সম্ভব নয়, টেকসই উন্নয়নও সম্ভব নয়। সবাইকে দীর্ঘ মেয়াদী Succession Planning স্থির করতে হবে এবং সময়োপযোগী সেবা দিয়ে গ্রাহকের বিশ্বাস বৃদ্ধি করতে হবে।

ইমাম শাহীন মনে করেন, গতানুগতিক অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে এই খাতের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য উদ্যোক্তাদের আরো মনোযোগী ও আন্তরিক হওয়ার দরকার। উদ্যোক্তাদের অন্যান্য ব্যবসার মত বীমা ব্যবসাকেও টেকসই উন্নয়নের জন্য কার্যকর ভুমিকা রাখতে হবে। কর্পোরেট কালচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তবেই প্রজম্ম থেকে প্রজম্ম তার ফল ভোগ করতে পারবে। প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির মিশেলে এখন থেকেই প্রতিটি কোম্পানি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থায় সুশিক্ষিত ভাল মানুষ নিয়োগ এবং তাদেরকে দীর্ঘ মেয়াদে এ শিল্পে অবস্থানের জন্য অনুপ্রেরণা দিতে হবে। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাজের পরিধি বহুগুণ বেড়েছে, দক্ষতার সহিত তদারকী করার জন্য জনশক্তি বৃদ্ধি প্রয়োজন। তাছাড়া বীমা শিল্পে মানব সম্পদের উন্নয়ন, বীমা শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, বীমা সচেতনতা, গ্রাহত সন্তুষ্টি, বীমা শিল্পে কর্মরতদের চাকুরি সন্তুষ্টি, বীমা সম্পর্কে প্রচারণা আশানুরূপ নয়, যে জন্য বীমা ভাবমুর্তির সংকট কাটিয়ে উঠতে পারছে না।

এই মুহূর্তে পর্যাপ্ত সুশাসন, প্রযুক্তি ও যোগ্য নেতেৃত্বর অভাবে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা বীমা খাতের মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন এই বীমা বিশেষজ্ঞ। জিডিপিতে বীমা শিল্পের অবদানে সন্তুষ্ট নন তিনি। বলেন, এজন্য খাতটির ভাবমূর্তি সংকটই বেশী দায়ী বলে তাঁর দাবি। সংকট উত্তরণে গ্রাহকের আস্থা বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে অভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করতে হবে। বীমা পণ্য বহুমুখীকরণ দরকার। প্রচলিত পণ্যের বাহিরেও সময়োপযোগী বীমা পণ্য তৈরী করতে হবে। বীমা পণ্যের মধ্যে স্বাস্থ্য বীমার খুবই বড় বাজার রয়েছে। স্বাস্থ্য বীমা সার্বজনীন করতে পারলে জিডিপিতে বীমার অবদান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তাছাড়া, শস্য বীমা ও গবাদি পশুর বীমাকে বীমার আওতায় কার্যকরভাবে আনা উচিত। যদিও এসব বীমা পণ্য চালু রাখতে হলে Subsidy (ভর্তুকি) প্রয়োজন।

জাতীয় বীমা দিবসের তাৎপর্যতা ও প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে এই বীমা ব্যক্তিত্ব বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৬০ সালের ১ মার্চ আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে যোগদানের তারিখটিকে আমরা জাতীয় বীমা দিবস হিসেবে পেয়েছি। এজন্য আমরা খুবই আনন্দিত ও গর্বিত। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯৫৮ সালের ৮ই অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জা সামরিক আইন জারি করেন এবং প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হলেন আইয়ুব খান। পরবর্তীতে আইয়ুব খান বনে গেলেন প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। ১৯৫৯ সালের ৭ই আগস্ট Elective Bodies Disqualification Order জারি করে সরকার আওয়ামী লীগের রাজনীতি বন্ধ করে দিলেন। ১৯৫৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু জামিনে মুক্তি পান। ঢাকার বাহিরে গেলে স্থানীয় পুলিশকে অবহিত করার শর্তে তাকে জামিন দেয়া হয়। তিনি যাতে গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকেন এজন্য এ শর্ত আরোপ করা হয়। বঙ্গবন্ধু সামরিক আইন এড়িয়ে রাজনৈতিক কর্মকান্ড বহাল রাখার পথে খুঁজতে লাগলেন। তখন বঙ্গবন্ধুর নেতা জনাব হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সহযোগিতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১লা মার্চ ১৯৬০ এ আলাফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে কন্ট্রোলার অব এজেন্সি হলেন। এরপর শুরু হল রথ দেখা এবং কলা বেচা। ইন্স্যুরেন্সের কাজের আড়ালে শুরু হল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকান্ড। ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহে আওয়ামী লীগের যোগ্য নেতা-কর্মীরা বীমা পেশায় যোগদান করেন এবং আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বীমা প্রিমিয়াম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেল। এখানে উল্লেখ্য হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর বন্ধু আবদুল্লাহ ইউসুফ হারুন আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মালিক ও পশ্চিম পাকিস্তানের মুসলীম লীগ নেতা হলেও বঙ্গবন্ধুকে খুবই সম্মানের চোখে দেখতেন। বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ আলফা ইন্স্যুরেন্সকে এক পশলা বৃষ্টির মতো পেয়ে রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিরবে নিভৃতে চালিয়ে যেতে থাকলো। আওয়ামী লীগের কর্মীরা কিছু আয়ের সুযোগ পেলেন। এ সব কথা বলার অর্থ হল, বঙ্গবন্ধু জীবনে একটি চাকরিই করছেন। সেই হিসেবে ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের বীমা পেশাজীবিরা ভাগ্যবান কিস্তু আমরা আপামর জনগণের বীমা সম্পর্কে Negative Mindset v Perception (ধারণা) এখনো দুর করতে পারি নাই। সমাজে অবশ্যই কিছু নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ আছে যারা অন্যের দোষ খোঁজে অন্যকে ছোট করে নিজে আনন্দ পায়, হোক শিক্ষিক বা অর্ধশিক্ষিত। বীমা পেশা বা বীমার পেশার লোক জনকে কটাক্ষ করে নিজেকে খুব বড় মনে করেন। অথচ ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি মুত্যদাবী বা Maturity Claim বাবদ প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার দাবী পরিশোধ হচ্ছে- এ নিয়ে খুব একটা প্রচার প্রচারণা নেই বা সাধারণ মানুষ তা জানেন না। বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী ও অনেক ভাল কাজ করছে, সেখানেও অনেক সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তা আছেন যারা নিরবে দেশ ও দেশের মানুষের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন কিন্তু তার কোন হিসাব বা প্রশংসা আমরা করি না। বীমা শিল্পের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ উপকার পাচ্ছেন, লক্ষ লক্ষ পরিবারের কর্মসংস্থান হচ্ছে, ট্যাক্স, ভ্যাট সংগ্রহের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো বীমা দিবস উদযাপিত হয়। এ দিবস উদযাপনের মাধ্যমে বীমা নিয়ে জনগণের বীমা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। বীমা কোম্পানির জবাবদিহিতা ও সচ্ছলতা বৃদ্ধির চাপ বাড়বে। আমাদের সবাইকে স্বচ্ছতা ও দক্ষ জনবলের প্রতি অধিক গুরুত্ব দিয়ে সেবার ক্রমাগত মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমে বীমা নিয়ে বিশেষ পরিবেশনা নিশ্চিত করতে পারলে বীমার বার্তা আমরা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পারব বলে আমার বিশ্বাস।

বাংলাদেশ স্বল্পন্নোত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে প্রবেশ করতে যাচ্ছে – এই অবস্থায় দেশটির চ্যালেঞ্জ বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন জনাব ইমাম শাহীন। এ সময় রপ্তানি সুবিধা নিয়ে উদ্বিগ্ন এই পর্যবেক্ষক মনে করেন, আমাদের রপ্তানি সুবিধা ২০২৬ সালের পর হ্রাস পাবে। তখন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কর্মীদের মেধা ও দক্ষতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য পূর্ব প্রস্তুতিও গ্রহণ করতে হবে। সঠিক নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সমন্বয়পূর্বক সার্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে সংশ্লিষ্ট সকল নীতি নির্ধারককে।

ইমাম শাহীন মনে করেন, বীমা খাতকে একুশ শতকের উপযোগী করে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বীমা জগতে এশিয়া ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড তাঁর মালিক পক্ষের যোগত্য ও দেশব্যাপী সুনাম, সর্বোপরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সততা, দক্ষতা এবং পেশাদারী মনোভাব নিয়ে সামনের দিকে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।  এশিয়া ইন্স্যুরেন্স AA+ক্রেডিট রেটিং প্রাপ্ত সাধারণ বীমার এ প্রতিষ্ঠানটির বিগত ২১ বছরে টেকসই উন্নয়নের দর্শন নিয়ে অগ্রসরমান একটি শীর্ষস্থানীয় বীমা কোম্পানি, যার বীমা বাজার এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে একটি পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও সুনাম রয়েছে। ব্যবসা বৃদ্ধির জন্য কখনোই সীমা লংঘন করে নাই, নিজস্ব Branding Image সমুন্নত রেখেই Steady Growth নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

নিজ প্রতিষ্ঠান এশিয়া ইন্স্যুরেন্স সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, বর্তমানে প্রায় ৩শ লোকবল ও ২২টি শাখা নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে বীমা কার্যক্রম। ২০০০ সালের ৩০ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানিটি উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলছে। এই উন্নয়নের জন্য প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন(এফসিএ) এমপি শুরু থেকে দেশের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ও উচ্চ শিক্ষিত পরিচালকদের আন্তরিক সহযোগিতা নিয়ে এর নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন এবং কোম্পানিটিকে একটি শক্ত আর্থিক ভিত্তির উপর দাঁড় করতে সক্ষম হয়েছেন। বীমা বাজারে এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের একটি উজ্জ্বল ভাবমূর্তি শুরু থেকেই বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

ইমাম শাহীন ২০১৫ সালে এশিয়া ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এর এমডি ও সিইও হিসেবে যোগ দিয়েছেন। এর আগে তিনি ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং আন্ডাররাইটিং, ক্লেইমস্, ব্রাঞ্চ কন্ট্রোল, এইচ আর এন্ড এডমিন বিভাগের প্রধান হিসেবে পাঁচ বছরের অধিক অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

ইমাম শাহীন একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন এবং তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় স্নাতক সম্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর ১৯৮৯ সালে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে যোগদান করেন। সেখানে তিনি প্রায় ১৫ বছর প্রধান কার্যালয়ে বিভিন্ন পদে অত্যন্ত সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করেন এবং তিনি ২০০৪ সালে এশিয়া ইন্স্যুরেন্সে ইভিপি, এসইভিপি এবং পুনঃবীমা, দাবী, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ, বিজনেস প্লান অ্যান্ড প্রমোশন বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগ দেন। তিনি বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমীর স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা পরীক্ষায় অসামান্য ফলাফলের জন্যTyser & Co. London এ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।

বাংলাদেশের বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহীদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের (বিআইএফ) এর মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এশিয়া ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের এমডি ও সিইও ইমাম শাহীন। তিনি বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন(বিআইএ) এর ইসি মেম্বার হিসেবে ৩য় মেয়াদে এবং বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানী (BAPLC) এর ২য় মেয়াদে ইসি মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ইমাম শাহীন বীমা শিল্পে পেশাদার লোকবল তৈরীর উপর সব সময় গুরুত্ব দিয়ে আসছেন এবং তিনি দীর্ঘ এক যুগ যাবৎ বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমীর একজন সহযোগী প্রভাষক ও পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নিরবিচ্ছিন্নভাবে ৩২ বছর সফল ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে যখন যেখানে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন সেখানে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সাথে করে গেছেন, যার দরুন ইমাম শাহীনকে কখনোই কর্মজীবনে পেছনে দিকে তাকাতে হয়নি। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের ছেলে মেয়েদের ভিতরে নিষ্ঠার বড় অভাব রয়েছে। তারা খুবই অস্থির ও অলস প্রকৃতির। দ্রুত বড় হয়ে যেতে চায়। প্রতিষ্ঠানকে আমরা যেভাবে মনে কাজ করেছি, তারা সেভাবে নিজের করে না। মনে হয় যেনো তারা অন্যের জন্য কাজ করতে প্রতিদিন অফিসে আসে। তার ব্যতিক্রম আছে, তবে খুবই কম।

বীমা শিল্পের আরো একটি বড় চ্যলেঞ্জ হচ্ছে দক্ষ জনশক্তির অভাব এবং মেধাবী তরুণদের বীমা পেশার প্রতি আকৃষ্ট করতে না পারা, যা বীমা কোম্পানির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে ভবিষ্যতে। অথচ বীমা পেশায় ক্যারিয়ার গঠনের বড় সুযোগ রয়েছে, এখানে মেধাবীদের দ্রুত ক্যারিয়ার গঠনের বড় ঠধপঁঁস রয়েছে, যা অন্য পেশায় নেই। তীব্র প্রতিযোগিতা রয়েছে অন্য যে কোন পেশায়।

যারা ভাল মানুষ, আচার আচরণ সুন্দর ও যোগাযোগে দক্ষ তারা অবশ্যই বীমাকে পেশা হিসেবে নিলে দ্রুত ক্যারিয়ার গঠন করতে পারবে বলে ইমাম শাহিনের দৃঢ় বিশ্বাস।

সম্পর্কিত খবর