শিরোনাম
মুন্নু সিরামিকসের বোর্ড সভা ২৮ অক্টোবরসোনালী আঁশের বোর্ড সভা ২৯ অক্টোবরনিটল ইন্স্যুরেন্সের বোর্ড সভা ২৫ অক্টোবরবিশ্ববাজারে কমল তেলের দামএলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহারবাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতিতে বিশ্বব্যাংকের সম্মতিচলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩.২%ঢাকা থেকে রিয়াদের ৬১ ফ্লাইট বাতিলমূল্যস্ফীতি কমে ৮.২৬%, খাদ্যবহির্ভূতে বেড়েছেট্রাস্ট লাইফের শেয়ার কারসাজি, তিন বিনিয়োগকারীকে জরিমানাবিশ্বব্যাংক-আইএমএফ সভা শুরু, ঋণ নিয়ে আলোচনাভয়ংকর স্বদেশ লাইফ: সব টাকা লুটে খাচ্ছে সিন্ডিকেট!ডেঙ্গুতে এক দিনে ভর্তি ২১৯৩, মৃত্যু ৪প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানি বিনিয়োগকারীদের সাক্ষাৎদুই মাসে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে বড় বৃদ্ধি
down of head

চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩.২%

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমতে পারে, অন্যদিকে বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অক্টোবর ২০২৬-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ অর্থ বছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে উঠতে পারে। ফলে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

চলমান বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের যৌথ বার্ষিক সভায় মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে চূড়ান্ত হিসাবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। সে বছরের গড় মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ ২০২৬–২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার কমার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। ২০২৭ সালে তা বেড়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হওয়ার কথা। ২০২৬ সালে বৈশ্বিক গড় মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে, ২০২৭ সালে যা কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে নামতে পারে।

বাংলাদেশ সম্পর্কে এই প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু বলা না হলেও আইএমএফ আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলেছে, প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দুর্বল হলে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বেসরকারি বিনিয়োগ প্রত্যাশিত মাত্রায় না বাড়লে শিল্প উৎপাদন, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও আয় বৃদ্ধির গতি ব্যাহত হবে, এমন ঝুঁকি থাকে। একই সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমে যেতে পারে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষেরা।

এদিকে সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ সম্পর্কে বলেছে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি কমছে। বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ব্যাংক খাতে বাড়ছে খেলাপি ঋণ ও মূলধন–ঘাটতি। উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে কমছে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা।

অন্যদিকে সামাজিক সুরক্ষা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সার-সহায়তায় সরকার বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করলেও এর উল্লেখযোগ্য অংশ দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছায় না। অনেক সচ্ছল পরিবার সুবিধা পেলেও দরিদ্রতম বহু পরিবার সামাজিক সুরক্ষার বাইরে থেকে যায়।

বিশ্বব্যাংকের অক্টোবর ২০২৬-এর বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেটে অর্থনীতির এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ‘মেক সাবসিডিজ অ্যান্ড সোশ্যাল প্রটেকশন ওয়ার্ক বেটার ফর দ্য পুওর’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি আজ মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ফেরানো, জ্বালানিনিরাপত্তা ও সুশাসন নিশ্চিত করা এবং কর-রাজস্ব বাড়ানোকে সংস্কারের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ ভর্তুকি ধীরে ধীরে কমিয়ে দরিদ্র ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত খবর