স্বর্ণশূন্যতায় পড়তে পারে রাশিয়া

দীর্ঘদিন ধরেই স্বর্ণ উত্তোলন সম্প্রসারণ ইস্যুতে কঠিন সময় পার করছে রাশিয়া। কারণ দেশটির প্রাকৃতিক মজুদ ও বিদ্যমান উদ্যোগ ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। নতুন উৎস থেকে স্বর্ণ উত্তোলনে ছাড়পত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে ভয়াবহ জটিলতার মধ্যে পড়তে হচ্ছে দেশটির উত্তোলন কোম্পানিগুলোকে। আগে স্থানীয় সরকার প্রশাসনের পক্ষ থেকেই এসব ছাড়পত্র দেয়া হতো। কিন্তু ২০০৫ সালের পর থেকে শুধু মস্কোভিত্তিক প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ই ছাড়পত্র দেয়ার কতৃত্ব পায়। রাশিয়ার মোট ভূগর্ভস্থ মজুদের ১৮ দশমিক ২ শতাংশই আসে কাদামাটি থেকে। কিন্তু এ উৎস থেকে ক্রমেই মজুদ কমছে। এর পরও বার্ষিক উত্তোলনের ৫০ শতাংশই আসছে উৎসটি থেকে।

বৈশ্বিক স্বর্ণ উত্তোলনে নেতৃস্থানীয় চীনের পরই রাশিয়ার অবস্থান। দেশে দেশে ক্রমবর্ধমান চাহিদার বড় একটি অংশই দীর্ঘ সময় ধরে পূরণ করে আসছে দেশটি। কিন্তু বর্তমানে দেশটির ভূগর্ভস্থ স্বর্ণের মজুদ কমে আসছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০ বছরের মধ্যে স্বর্ণহীন হয়ে পড়বে রাশিয়া।

রাশিয়ার সবচেয়ে বড় স্বর্ণ উত্তোলন কোম্পানি পলিয়াসের প্রধান নির্বাহী পাভেল গ্রাচেভ এ বিষয়ে সতর্ক বার্তা দিয়ে জানান, স্বর্ণ উত্তোলন খনিগুলো মনে করছে, দুই দশকের মধ্যে তাদের প্রধান উৎসগুলোতে স্বর্ণ উত্তোলন সক্ষমতা আশঙ্কার চেয়েও বেশি নিচে নেমে যেতে পারে। এটি ভূগর্ভস্থ স্বর্ণের মজুদ কমে আসার অশনিসংকেত দিচ্ছে।

গ্রাচেভের মতে, রাশিয়ায় বর্তমানে ভূগর্ভস্থ স্বর্ণের মজুদ রয়েছে আট হাজার টন। এর মধ্যে প্রতি বছর উত্তোলন করা হয় ৩৩০ টন। বর্তমান মজুদ থেকে আগামী এক-দুই দশক পর্যন্ত স্বর্ণ উত্তোলন সম্ভব। এরপর কাঁচামালের অবকাঠামোগত সংকট দেখা দিতে পারে। এর মধ্যেই নতুন কোনো উেসর সন্ধান না মিললে দেশটির স্বর্ণ উত্তোলন শূন্যের কোটায় নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে পলিয়াস কোম্পানির ৩৭ বছরের স্বর্ণ মজুদ রয়েছে। নতুন করে স্বর্ণ অনুসন্ধান শুরু না করলে এ মজুদের ওপর চাপ পড়তে পারে। এদিকে কয়েক বছর ধরে রাশিয়ায় স্বর্ণের স্থায়ী উৎস ও নিষ্কাশন উেসর মজুদের মধ্যে ব্যবধান বেড়েই চলছে। এ ব্যবধান ও আসন্ন সংকট মোকাবেলায় স্বর্ণ অনুসন্ধান এবং উত্তোলনে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান গ্রাচেভ।

চলতি বছরের শুরুর দিকে পলিয়াস ঘোষণা দেয়, কভিড-১৯ মহামারী থেকে বৈশ্বিক পুনরুদ্ধার ঘটছে। এ ধারাবাহিকতায় আগামী দুই বছর পর্যন্ত স্বর্ণ উত্তোলন বড় পরিসরে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। তবে আকরিক-গ্রেড কমে যাওয়ায় চলতি বছর সাইবেরিয়ান খনিগুলোতে উত্তোলন কমার আশঙ্কা রয়েছে। এটি পুরো বছরের উত্তোলনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ২০২২-২৩ সালে উত্তোলন ঘুরে দাঁড়াবে বলে প্রত্যাশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে মজুদ ঘাটতির আশঙ্কার মধ্যেই সম্ভাবনার বার্তা দিয়েছে ফিচ সলিউশন। প্রতিষ্ঠানটির দেয়া তথ্য বলছে, মহামারীর প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ২০২৯ সালের মধ্যে স্বর্ণ উত্তোলনে চীনকে ছাড়িয়ে যেতে পারে রাশিয়া। ২০২০-২৯ সালের মধ্যে বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা উত্তোলন বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। তবে প্রবৃদ্ধির এ ধারা বজায় রাখতে দেশটিকে নতুন উেসর সন্ধান ও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।