সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা বাজার মূলধন হারিয়েছে ডিএসই
সাপ্তাহিক লেনদেনে আবারো নিম্নমুখী ধারায় দেশের পুঁজিবাজার। আগের সপ্তাহে লেনদেন বাড়লেও গত সপ্তাহে প্রায় ৩০ শতাংশ লেনদেন কমেছে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)। এ সময় এক্সচেঞ্জটির বাজার মূলধন কমেছে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। সূচকের পাশাপাশি কমেছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদরও। দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচক ও লেনদেন কমেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রি করে নগদ টাকা তুলে নেয়ার প্রবণতা বেড়েছে। পুঁজিবাজার থেকে টাকা তুলে স্থায়ী আয় ও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ করছেন তারা। যার প্রভাবে গত সপ্তাহে বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কম ছিল।
সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা। সপ্তাহ শেষে যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বা ১ শতাংশ।
লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহের চার কার্যদিবসে ডিএসইতে মোট ৩ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে লেনদেন ছিল ৫ হাজার ৩০৯ কোটি টাকার। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন কমেছে প্রায় ১ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা বা ২৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
গত সপ্তাহে টাকার অংকে ডিএসইর গড় লেনদেনও কমেছে। গত সপ্তাহের চার কার্যদিবসে ডিএসইর গড় লেনদেন হয়েছে ৯৩৩ কোটি টাকা। যেখানে আগের সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে গড় লেনদেন ছিল ১ হাজার ৬১ কোটি টাকা।
এদিকে এক্সচেঞ্জটির খাতভিত্তিক লেনদেনে টানা আধিপত্য ধরে রেখেছে ব্যাংক খাত। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ নিয়ে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ব্যাংক খাত। ১১ দশমিক ৭ শতাংশ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। ৯ দশমিক ৯ শতাংশ নিয়ে তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে বিবিধ খাত। ৯ দশমিক ১ শতাংশ নিয়ে তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে বস্ত্র খাত। এছাড়া পরের অবস্থানে রয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত। খাত দুটোর লেনদেন হয়েছে যথাক্রমে ৭ দশমিক ৩ ও ৬ দশমিক ৪ শতাংশ।
গত সপ্তাহে বেশির ভাগ খাতেই নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঋণাত্মক রিটার্ন এসেছে বস্ত্র খাতের, ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে সিরামিক খাত। খাতটিতে রিটার্ন এসেছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা বিবিধ খাতে রিটার্ন এসেছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ। চতুর্থ অবস্থানে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের রিটার্ন এসেছে ২ দশমিক ৩ শতাংশ। তালিকায় এরপরে থাকা ব্যাংক খাতের রিটার্ন এসেছে ২ দশমিক ২ শতাংশ। তালিকায় এরপরে রয়েছে যথাক্রমে মিউচুয়াল ফান্ড, প্রকৌশল, সেবা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং টেলিকম খাত। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক রিটার্ন হয়েছে পেপার খাতে। গত সপ্তাহে এ খাতের রিটার্ন ছিল ১১ শতাংশ। ১০ শতাংশ নিয়ে তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চামড়া খাত। পাট খাত রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে। খাতটিতে রিটার্ন এসেছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। সর্বশেষ ইতিবাচক রিটার্ন আসা খাতটি হলো খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, ১ দশমিক ৭ শতাংশ।
গত সপ্তাহে ডিএসইর সব সূচকই উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এর মধ্যে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১১৬ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমে ৬ হাজার ৮৬৮ দশমিক ১৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ৬ হাজার ৯৮৪ দশমিক ৭৪ পয়েন্টে।
নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৪৫ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ কমে ২ হাজার ৫৮৬ দশমিক ৪৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ৬৩২ দশমিক ১৯ পয়েন্টে।
ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১৩ দশমিক ১৬ পয়েন্ট বা দশমিক ৮৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৬২ দশমিক ৩১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৪৭৫ দশমিক ৪৬ পয়েন্টে।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে ৩৮৪টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৭৫টির, কমেছে ২৯৭টির, অপরিবর্তিত ছিল ৮টির। আর লেনদেন হয়নি ৪টির শেয়ার।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে সমাপনী দরের ভিত্তিতে দর বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানি হলো ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস লিমিটেড, সোনালি পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস লিমিটেড, লিবরা ইনফিউশনস লিমিটেড, ফরচুন সুজ লিমিটেড, রেকিট বেনকিজার (বাংলাদেশ) লিমিটেড, এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড, রহিম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার লিমিটেড, এগ্রিকালচারাল মার্কেটিং কোম্পানি লিমিটেড (প্রাণ) ও ফার্মা এইডস লিমিটেড।
অন্যদিকে সিএসইতে গত সপ্তাহের চার কার্যদিবসে প্রায় ১৩৮ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে লেনদেন ছিল প্রায় ২৩৬ কোটি টাকার। গত সপ্তাহে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১ দশমিক ৮৯ শতাংশ কমে ২০ হাজার ৭৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২০ হাজার ৪৬২ দশমিক ১৮ পয়েন্টে। আলোচ্য সময়ে সিএসইতে মোট ৩২৮টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৭৬টির। কমেছে ২৪১টির। আর অপরিবর্তিত ছিল ১১টির শেয়ারদর।


