দুদকে অভিযোগ, নেয়া হয়নি ব্যবস্থা
শত কোটি টাকা আত্মসাতের পরও ডিপিডিসিতে বহাল শফিকুল!

 

জিনান মাহমুদ :

অনিয়ম, দুর্নীতি এবং প্রকল্প থেকে শত কোটি টাকা আত্মসাৎতের অভিযোগ উঠার পরও এখনো বহল তবিয়তে আছেন ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী (ডিপিডিসি) লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক টেকনিক্যাল (অপারেশন) কিউ এম শফিকুল ইসলাম। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর একাধিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া পরও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ বিষয় খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ‘তদন্ত দাবী করে’ সবশেষ গত ৫ সেপ্টেম্বর আবারও দুদকে চিঠি দিয়েছেন পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) প্রকৌশলীদের পক্ষে জনৈক হাবিবুর রহমান।

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ও বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব মোঃ হাবিবুর রহমান দুই বছরের জন্য কিউ এম শফিকুল ইসলামকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেন। গত ২৯ জানুয়ারী নিয়োগ পেয়েই ডিপিডিসিতে ‘সিন্ডিকেট’ তৈরী করেন।  ডিপিডিসির ডিএসএস, সিএসএস ঠিকাদার নিয়োগ, গ্রাহকের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ, নীতিমালা ভঙ্গ করে বিদ্যুৎ সংযোগ ও বদলি বাণিজ্যসহ নানা অপকর্ম করেন।  ডিপিডিসিতে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা হলেন- কামরাঙ্গীরচর ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী এহসানুজ্জামান, মুগদা ভিডিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মুনসুর, মগবাজারের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নাসির, শীতলক্ষ্যা ডিভিশনের গোলাম মোর্শেদ, ধানমন্ডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আ ন ম মোস্তফা কামাল প্রমুখ।

ডিপিডিসিতে যোগদানের আগে শফিকুল ইসলাম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ছিলেন। ঐ প্রকল্প থেকেও শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রকল্প পরিচালক থাকাকালীন প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় দফায় দফায় বাড়িয়েছেন। এমনকি প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগ হয়েছিলো সাবেক প্রতিমন্ত্রীর আস্থাভাজন ঠিকাদারকে।  শফিকুল ইসলাম প্রকল্প থেকে শত কোটি টাকা নয়-ছয় করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক এবং ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক হওয়ার সুবাধে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেন শফিকুল। ঢাকায় এই কর্মকর্তার একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট, ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ টাকা এবং নওগাঁতে একাধিক সম্পদ রয়েছে।

চিঠিতে আরো বলা হয়, গত দুই বছরে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে একাধিক অভিযোগ করার পরও কোন পদক্ষেপ নেয়নি দুদক।  আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের আস্থাভাজন কর্মকর্তা থাকায় কেউ তার বিরুদ্ধে কেউ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ‘দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা’ উল্লেখ করে ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক কিউ এম শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

কিউ এম শফিকুল ইসলাম অনিয়মের বিষয়গুলো অস্বিকার করে অর্থবাংলাকে বলেন, ‘যোগদানের পরই একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে লেগেছে। কোন অনিয়মের সঙ্গে না জড়ানোর কারণেই- বিরোধী পক্ষ থেকে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে।  এছাড়াও সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর সঙ্গে সম্পর্ক নেই বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান অর্থবাংলাকে বলেন, ‘আমরা পরিবর্তনের জন্য কাজ করছি। ডিপিডিসির কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্যায় বদলি করা হয়েছিলো- তাও বাতিল করা হয়েছে। আমরা যদি কারো ব্যাপারে অভিযোগ পাই, তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অনিয়ম না হয়, সে বিষয়ে কঠোর তদারকি থাকবে।’

সম্পর্কিত খবর