লেবানন-সৌদির মধ্যে উত্তেজনা কেন?

লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, বৈরুত এবং রিয়াদের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক টানাপড়েনের মূল কারণ হচ্ছে ইয়েমেনের মারিব প্রদেশ। ওই প্রদেশ মুক্ত হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ভয়ে আছেন। সে কারণেই তিনি লেবাননের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়েছেন এবং দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক সংকটাপন্ন পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।

মারিব প্রদেশ মুক্ত করার জন্য ইয়েমেনের হুথি আনসারুল্লাহ আন্দোলন এবং তাদের সমর্থিত সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে অভিযান চালাচ্ছে এবং বর্তমানে তা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সেখানে সৌদি জোট পরাজয়ের মুখে রয়েছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনে সৌদি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সব সময়ই সমর্থন দিয়ে এসেছে লেবানন।

হিজবুল্লাহর নির্বাহী পরিষদের প্রধান হাশিম শফিউদ্দিন এক বিবৃতিতে বলেন, এটি বিশ্বাস করার কোনো যুক্তি নেই যে, লেবাননের তথ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের জন্য সৌদি আরবের সঙ্গে বৈরুতের কূটনৈতিক টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে বরং বিষয়টি তার চেয়েও অনেক বড় কিছু।

তিনি বলেন, সৌদি আরবে যা কিছু ঘটছে সেটি অনেক বড় বিষয়। সৌদি আরব এবং পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলো দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরীর পথে এগিয়ে যাচ্ছে, সৌদি-ইসরায়েল ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ব্যাপারে তারা লেবাননের পক্ষ থেকে কোনো সমালোচনা সহ্য করতে পারছে না। অথচ আগামী কিছুদিনের মধ্যেই বিষয়টি জনসমক্ষে চলে আসবে।

তিনি আরও বলেন, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সংকট এবং উদ্বেগের মধ্যে বসবাস করেন। মারিব প্রদেশের পতনের পর তাকে কঠিন অবস্থায় পড়তে হবে। বিন সালমান মারিব প্রদেশের পতনের ব্যাপারে ভয়ের মধ্যে রয়েছেন।

লেবাননের স্থিতিশীলতাকে বানচাল করার জন্য এবং যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের নিষেধাজ্ঞাকে কার্যকর করে লেবাননকে ধ্বংসের জন্য যারা কাজ করছেন তাদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে হাশিম শফিউদ্দিন বলেন, হিজবুল্লাহর আত্মত্যাগের কারণে লেবানন কখনো সেদিকে যাবে না এবং আমরা দেশের সংকট সমাধানের জন্য কাজ করব।

হিজবুল্লাহ নেতা জোরালো ভাষায় বলেন, লেবাননের ভাগ্য সৌদি আরবের হাতে নয় বরং এটি আল্লাহর হাতে এবং যারা দেশের মর্যাদা রক্ষার জন্য আত্মত্যাগ করেছেন তাদের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ।

এদিকে, রোববার শেষের দিকে মারিব প্রদেশে হুথিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২৯ জন বেসামরিক হতাহত হয়েছেন। এদের মধ্যে কতজন নিহত হয়েছেন তা পরিষ্কার নয়। হতাহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নারী ও শিশুও রয়েছে। দেশটির তথ্যমন্ত্রী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার এক টুইট বার্তায় তথ্যমন্ত্রী মুয়াম্মার আল ইরিয়ানি বলেন, হুথিরা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। এতে একটি মসজিদ এবং একটি মাদরাসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০১৪ সালে সৌদি সমর্থিত সরকারকে সরিয়ে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে নেয়। এরপর ২০১৫ সালের মার্চে ইয়েমেন যুদ্ধে হস্তক্ষেপ শুরু করে সৌদি জোট। হুথিরা বলছে তারা দেশের দুর্নীতি এবং বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

গত কয়েক মাস ধরেই ইয়েমেন সরকার এবং হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে গেছে। জাতিসংঘের এক হিসাব অনুযায়ী, মারিবে দু’পক্ষের সংঘর্ষে প্রায় ১০ হাজার মানুষ বাস্তুহারা হয়ে পড়েছে।

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারের সর্বশেষ শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল মারিব। কিন্তু ওই এলাকায় এখন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যেই সেখানে মানবিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।