লাফার্জহোলসিমের অ্যাগ্রিগেটস উৎপাদন আবারো বন্ধ
উচ্চ আদালতের আদেশে আবারো চুনাপাথর চিপ বা অ্যাগ্রিগেটস উৎপাদন বন্ধ রেখেছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড। আপিল বিভাগের চেম্বার জজের আদেশের পর পণ্যটির উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ থাকবে। স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে এ মাসের শুরুতেই ফের অ্যাগ্রিগেটস উৎপাদন ও বিপণন শুরু করে লাফার্জহোলসিম। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে করা কোম্পানিটির রিট পিটিশনের এক আদেশের পর সে সময় উৎপাদন শুরু করা হয়। তবে ওই আদেশের বিরুদ্ধে পুনরায় আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে সম্প্রতি সিএমপি দাখিল করে শিল্প মন্ত্রণালয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ জানুয়ারি চেম্বার আদালত হাইকোর্টের দেয়া আগের আদেশ স্থগিতের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে শিল্প মন্ত্রণালয়ের দাখিলকৃত সিএমপি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠান বিচারক।
এর আগে অ্যাগ্রিগেটস উৎপাদন ও ব্যবসা বন্ধের নির্দেশ দিয়ে গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর তালিকাভুক্ত সিমেন্ট খাতের বহুজাতিক কোম্পানিটিকে চিঠি দেয় শিল্প মন্ত্রণালয়। নির্দেশনা-সংক্রান্ত চিঠিটি তারা হাতে পায় ২০ সেপ্টেম্বর। ব্যবসা বন্ধের নির্দেশনার কারণ হিসেবে চিঠিতে বলা হয়, লাফার্জহোলসিম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেয়নি। এ চিঠি হাতে পাওয়ার পর পরই আইনি পদক্ষেপ নেয় লাফার্জহোলসিম। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় তারা। শুনানি শেষে গত ১৬ নভেম্বর শিল্প মন্ত্রণালয়ের চিঠির কার্যকারিতা এক মাসের জন্য স্থগিত করে রায় দেন হাইকোর্ট। এ আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে পুনরায় অ্যাগ্রিগেটসের উৎপাদন ও বিপণন শুরু করেছিল লাফার্জহোলসিম। পরবর্তী সময়ে এ আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজের আদালতে আপিল করে শিল্প মন্ত্রণালয়। আপিল শুনানি শেষে গত ২৩ নভেম্বর চেম্বার জজের আদালত শিল্প মন্ত্রণালয়ের চিঠির কার্যকারিতা স্থগিত করা সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত থাকবে বলে রায় দেন। ফলে ২৩ নভেম্বর থেকেই কোম্পানিটির অ্যাগ্রিগেটস উৎপাদন ফের বন্ধ হয়ে যায়। গত ৫ জানুয়ারি হাইকোর্টের আদেশে ফের উৎপাদন শুরু করে কোম্পানিটি। শুরুর দুই সপ্তাহের মাথায় আবারো উৎপাদন বন্ধ রাখতে হলো কোম্পানিটির।


