ভারতে কয়লার চাহিদায় উল্লম্ফনের সম্ভাবনা
জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য হাতে নিয়েছে ভারত। ৫০ বছরের মধ্যেই এ লক্ষ্য অর্জনের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। কিন্তু এ উচ্চাভিলাষী ঘোষণার এক মাস পরই নতুন দুটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। প্রতিবেদনগুলোর তথ্য বলছে, ভবিষ্যতেও ভারতের প্রধান জ্বালানি অবলম্বন থাকবে কয়লা। চলতি দশকে ভারতে সর্বাধিক দূষণযোগ্য জ্বালানি পণ্যটির চাহিদায় উল্লম্ফন দেখা দিতে পারে। বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধিতেও প্রধান ভূমিকা রাখবে দেশটি।
বিশ্বে কয়লা ব্যবহারে দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ ভারত। সম্প্রতি ভারতের নীতি আয়োগ ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিতে কয়লার চাহিদায় উল্লম্ফন দেখা দেবে।
ভারতের সরকারি সংস্থা নীতি আয়োগ এক প্রতিবেদনে বলেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিতে কয়লার চাহিদা দাঁড়াতে পারে ১১৯ কোটি ২০ লাখ থেকে ১৩২ কোটি ৫০ লাখ টন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ খাতে ব্যবহার বাড়ার কারণে চাহিদায় এমন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এছাড়া আইইএর বার্ষিক কয়লাবিষয়ক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে প্রতি বছর কয়লার চাহিদা ৪ শতাংশ করে বাড়বে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিদ্যুতের অতিরিক্ত ব্যবহার এতে প্রধান ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
চলতি দশক শেষে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ২৫০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে বলে জানিয়েছে নীতি আয়োগ। তবে দশক শেষে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে আইইএর প্রতিবেদন বলছে, লোহা ও ইস্পাত উৎপাদনের ক্ষেত্রে কারখানাগুলোয় কয়লার ব্যবহার করা হয়। কয়লাকে প্রতিস্থাপনের জন্য এ মুহূর্তে কোনো প্রযুক্তি ভারতের কাছে নেই। প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২১-২৪ সালের মধ্যে কয়লার চাহিদা ১৩ কেটি টন করে বাড়তে পারে। ২০২৪ সালে কয়লার গড় ব্যবহার ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, কয়লা আমদানিতে ভারত শীর্ষ দেশ চীনকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এদিকে নীতি আয়োগের প্রতিবেদন বলছে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়লেও আগামী এক দশক শেষে ভারতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ভূমিকা কমবে। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৭২ শতাংশ কয়লা ব্যবহার হলেও দশক শেষে তা কমে দাঁড়াবে ৫০-৫৫ শতাংশে।
কয়লার চাহিদা সর্বোচ্চ স্তর স্পর্শের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০৭০ সালের মধ্যে ভারতকে কার্বন শূন্য করার ঘোষণা দিয়েছেন। চলতি বছরের ১ নভেম্বর গ্লাসগোয় অনুষ্ঠিত কপ-২৬ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৫০ বছরের মধ্যে ভারতের অর্থনীতিকে কার্বন-শূন্য অর্থনীতিতে রূপান্তর করা হবে। তিনি আরো বলেন, ২০৪০ সালের মধ্যে ভারত ৫০০ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে।
এদিকে আইইএর প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত ও চীনসহ কার্বন-শূন্য লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দেশগুলোরও কয়লার ওপর প্রভাব রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা বিজনেস রেকর্ডারকে জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা কোল ইন্ডিয়া লিমিটেডের (সিআইএল) কয়লা উৎপাদনের লক্ষ্য ১০০ কোটি টন। লক্ষ্য অর্জিত হলে, তা চলতি দশকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে অবদান রাখবে।


