শিরোনাম
টানা তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫ মৃত্যু, ভর্তি ১৮৯৮২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৮ জনের মৃত্যুটেকসই প্যাকেজিংয়ে আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ শুরুআগাম শীতের সবজিতেও দামের উত্তাপডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৬৮৪প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ বইআজ ৮১তম জাতিসংঘ দিবসবিশ্ববাজারে ৬ মাসের সর্বোচ্চে তেলের দামইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে চাপে বাংলাদেশরাজধানীর যেসব এলাকায় ৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না১৪১ ফ্লাইট বাতিল, দুর্ভোগে ২১ হাজার ৯৩৩ যাত্রীআজ থেকে রাত ৮টায় বন্ধ হবে মার্কেট-দোকানপাটভারত থেকে আনা ১৩৫ টন চালে মিলল বিষাক্ত উপাদানডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, ভর্তি ১২৯৯
down of head

বড় পরিবর্তন আইপিও’র নিয়মে

পুঁজিবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী, আইপিওতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা বর্তমান ৭০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৫ শতাংশে নামানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিএসইসি প্রকাশ করেছে পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ বিধিমালা ২০২৫-এর খসড়ায় যেখানে আইপিওর কোটার হার পুনর্বিন্যাসসহ একাধিক পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) এ খসড়া জনমতের জন্য উন্মুক্ত করা হয়, এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে মতামত পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। জনমত যাচাই শেষে বিধিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে।

ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে নতুন কোটা কাঠামো প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা অর্ধেকে নেমে আসবে ৩৫ শতাংশে। অন্যদিকে, যোগ্য বিনিয়োগকারী (ইআই) পাবেন ৩০ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ড ২০ শতাংশ, আইপিওতে আসা প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী কর্মীরা ৫ শতাংশ, অনিবাসী বাংলাদেশি ও অন্যান্য অনিবাসী বিনিয়োগকারী ৫ শতাংশ, এবং উচ্চসম্পদশালী (এইচএনআই) বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে ৫ শতাংশ কোটা।

বর্তমান পাবলিক ইস্যু রুলস ২০১৫ (সংশোধিত ২০২১)’ অনুযায়ী, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য কোটা ছিল ৭০ শতাংশ, ইআইদের জন্য ২০ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য ৫ শতাংশ এবং অনিবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ৫ শতাংশ।

আবার বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতেও কমছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশ। বুক বিল্ডিং পদ্ধতির আইপিওতেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা কমে আসবে ৭০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে। খসড়া অনুযায়ী, এই পদ্ধতিতে ইআইদের জন্য ৪০ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ড ২০ শতাংশ, স্থায়ী কর্মী ৫ শতাংশ, অনিবাসী বাংলাদেশি ও অন্যান্য অনিবাসী ৫ শতাংশ এবং উচ্চসম্পদশালী বিনিয়োগকারী ৫ শতাংশ কোটা পাবেন।

বর্তমান নিয়মে ইআই ও মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য কোটা ২৫ শতাংশ করে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ৭০ শতাংশ রয়েছে। খসড়া বিধিমালায় বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ার বরাদ্দ পাওয়া যোগ্য বিনিয়োগকারীদের (ইআই) জন্য ১৮০ দিনের লকইন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে- যা বিদ্যমান বিধিমালায় নেই।

এছাড়া উদ্যোক্তা, পরিচালক ও ১০ শতাংশের বেশি শেয়ারধারীদের জন্য তিন বছরের লকইন অপরিবর্তিত থাকলেও, আইপিও অনুমোদনের আগে ইস্যুকৃত শেয়ারের ক্ষেত্রে শেয়ার ইস্যুর সময়সীমা চার বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে।

স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষকে আইপিওর আবেদন পাওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে তালিকাভুক্তির সুপারিশ বা বাতিলের সিদ্ধান্ত দিতে হবে বলেও খসড়ায় বলা হয়েছে। যদি কোনো আবেদন নেতিবাচক মতামত পায়, তাহলে সেটি বিডিংয়ের মাধ্যমে পুনর্বিবেচনা করা হবে।

আইপিওর আকারে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে ন্যূনতম ৩০ কোটি টাকা এবং বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ন্যূনতম ৭৫ কোটি টাকা উত্তোলনের শর্ত অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে নতুনভাবে ইস্যু ব্যবস্থাপককে প্রতি মাসে বিএসইসির কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে যাতে দেখা হবে, আইপিও থেকে উত্তোলিত অর্থ প্রসপেক্টাস অনুযায়ী ব্যয় করা হচ্ছে কিনা।

নতুন খসড়া কার্যকর হলে আইপিওতে প্রাতিষ্ঠানিক ও মিউচুয়াল ফান্ডের অংশ বাড়বে, আর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এটি দীর্ঘমেয়াদে বাজারকে আরও কাঠামোবদ্ধ করতে পারে, তবে খুচরা বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে।

সম্পর্কিত খবর