স্বদেশ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স
প্রশাসকের একক স্বাক্ষর নিয়ে অভিযোগ, মামলা
জিনান মাহমুদ :
স্বদেশ ইসলামী লাইফের ‘ব্যাংক একাউন্ট পরিচালনা’ নিয়ে তৈরী হয়েছে নতুন জটিলতা। প্রশাসকের একক স্বাক্ষরে অর্থ উত্তলনের বিরুদ্ধে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এমনকি, প্রশাসক নিয়োগ ও স্বাক্ষর সংক্রান্ত বিষয়টি- আদালত পযর্ন্ত গড়িয়েছে।
অভিযোগ পত্রে বলা হয়, সদ্য বিদায়ী বছরের ২১ মে ড. শেখ মহ. রেজাউল ইসলামকে স্বদেশ লাইফের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। যোগদানের প্রথম দিন প্রশাসক, চীফ অপারেটিং অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা, অতিঃ ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. জেড. কাউসার ও মহিউদ্দিন বাবলু একসঙ্গে রাজধানীর একটি হোটেলে যান। সেখানে ‘নাটক’ নামানোর কথা বলে জাহাঙ্গীর মোল্লার কাছে দুই লক্ষ টাকা দাবি করেন প্রশাসক।
এমনকি, যোগদানের ১২ দিন পর ‘মেয়েকে অস্ট্রেলিয়া পাঠাবেন’ এমনটা জানিয়ে স্বদেশ লাইফ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করেন ড. রেজাউল। জাহাঙ্গীর মোল্লা টাকা দিতে অস্বীকার করলে, বীমা গ্রাহক আঃ রউফের পাঠানো প্রিমিয়ামের পাঁচ লক্ষ টাকা প্রশাসকের কাছে তুলে দেন কাউসার।
জাহাঙ্গীর মোল্লা উল্লেখ করেন, নাটক এবং মেয়ের জন্য টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় প্রশাসক পরবর্তীতে তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু করেন।
তিনি আরো জানান, স্বদেশ লাইফের চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান প্রশাসক নিয়োগ ও একক স্বাক্ষরের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করেছেন এবং সে মামলা এখনো চলমান রয়েছে। মামলা নম্বর-৮৬৬৭/২৪।
এতে আরো বলা হয়, আইডিআরএর দেয়া চিঠিতে শর্ত হিসেবে কোম্পানীর ব্যাংক হিসাব প্রশাসক ও অন্য যে কোনো একজন কর্মকর্তার যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে বলে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক তা পালন করেনি। তিনি নিয়োগ পত্রের শর্ত অমান্য করে কোম্পানীর সকল হিসাব তার একক স্বাক্ষরে পরিচালনা করে ইচ্ছে অনুযায়ী টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যান। অথচ কোম্পানীর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সঠিক সময়ে বেতন-ভাতা না পেয়ে আর্থিক সমস্যায় ভুগছেন এবং কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকছেন। এ অবস্থায় সংকট উত্তরণে কোম্পানীর ব্যাংক হিসাব পরিচালনায় যৌথ স্বাক্ষরের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানানো হয় আইডিআরএর কাছে।
আইডিআরএর ই-মেইলে আজ জাহাঙ্গির মোল্লা স্বাক্ষরিত অভিযোগের এই চিঠি দিয়েছে স্বদেশ ইসলামী লাইফ। স্বদেশে মাত্র তিন মাস প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন ড. শেখ মহ. রেজাউল ইসলাম। এরমধ্যেই প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় শুরু হয় নানা বির্তক। নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে দেয়া পাল্টাপাল্টি একাধিক অভিযোগের চিঠি।
এ বিষয় অতিঃ ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. জেড. কাউসার বলেন, নাটক নির্মাণ বা প্রচারে টাকা চাওয়ার তথ্য সঠিক নয়, দেড় থেকে দু লাখ টাকার বিজ্ঞাপন সংগ্রহের আলোচনা হয়েছিল। এছাড়াও প্রশাসক তার প্রাপ্য বেতন-ভাতা নিয়েছিলেন। এসব বিষয় নিয়ে বির্তক কিংবা অপপ্রচারের কোন সুযোগ নেই।
স্বদেশ লাইফের সিইও (চলতি দায়িত্ব) মো. হেদায়েত হোসেন আকাশ বলেন, প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় বীমা খাত থেকেই যোগ্য ও দক্ষ লোক নিয়োগ হওয়া দরকার। বাইরে থেকে প্রশাসক নিয়োগ হলে কিছু নতুন সমস্যা তৈরী হয়। দেশে প্রশাসক বসানো বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো ভালোভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যৌথ স্বাক্ষরে লেনদেন হবে- এটাই নিয়ম। কিন্তু প্রশাসক একক স্বাক্ষরে লেনদেন করলে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় জটিলতার সৃষ্টি হয়। এবং এটা অনৈতিক ও প্রশ্নবিদ্ধ। একক সিদ্ধান্ত কখনো প্রতিষ্ঠানের জন্য কল্যাণকর হতে পারে না।
‘মিথ্যা তথ্য দাতাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে’ এমনটি জানিয়ে স্বদেশ লাইফের প্রশাসক ড. শেখ মহ. রেজাউল ইসলাম বলেন, আমি কখনো কোন অনিয়ম-দূর্নীতিতে জড়াইনি। স্বাক্ষর সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে স্বদেশ লাইফের চেয়ারম্যানের কাছে ৫ টি চিঠি দেয়া হয়েছে। এ বিষয় তিনি কোন সিদ্ধান্ত না দেয়ায়- আইডিআরএর নির্দেশনা অনুসরণ করে একক স্বাক্ষরে ব্যাংক হিসেব পরিচালিত হচ্ছে। যার ফলে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ঈদের বোনাস দেয়া সম্ভব হয়েছে।
নাটক প্রচার অথবা মেয়ের জন্য টাকা চাওয়ার বিষয়টি পরিকল্পিত মিথ্যাচার দাবী করে তিনি আরো বলেন, আইন বিরোধী কোন কাজ করা হয়নি। মূলত, কোম্পানী থেকে অর্থ লোপাট করা অসাধু একটি চক্র ষড়যন্ত্র করছে। বেতনের বাইরে একটি টাকাও গ্রহণ করিনি, এমনকি কোম্পানি থেকে এক কাপ চা খাইনি। প্রাপ্য বেতন গ্রহণ করেছি। কেউ অন্যায়ভাবে মিথ্যাচার করলে মানহানী মামলা করা হবে।


