প্রথমার্ধে বার্জার পেইন্টসের নিট আয় বেড়েছে ৬০ শতাংশ

চলতি ২০২১ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) নিট আয় বেড়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক রং উৎপাদক বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির নিট আয় আগের হিসাব বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

চলতি হিসাব বছরের অনিরীক্ষিত এ আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রথমার্ধে কোম্পানিটির নিট আয় হয়েছে ৯৭৮ কোটি টাকার বেশি। যেখানে আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৬১৩ কোটি টাকার বেশি। সেই হিসাবে আলোচ্য সময়ে নিট আয় বেড়েছে ৩৬৪ কোটি টাকার বেশি বা ৫৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ। প্রথমার্ধে কোম্পানিটির পরিচালন আয় হয়েছে ১৬৪ কোটি টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১০৯ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১১৯ কোটি টাকা। যেখানে আগের হিসাব বছরে নিট মুনাফা ছিল প্রায় ৭৭ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ২৫ টাকা ৬৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৬ টাকা ৫৮ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৫৮ টাকা ৪৪ পয়সা।

অন্যদিকে দ্বিতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বার্জার পেইন্টসের নিট আয় হয়েছে ৪৫৩ কোটি টাকা। যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৪০৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে পরিচালন আয় হয়েছে ৬২ কোটি টাকা। আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৯৫ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৪৪ কোটি টাকা। যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে মুনাফা ছিল ৬৬ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৯ টাকা ৫৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৪ টাকা ২৬ পয়সা। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের ইপিএস উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে।

৩১ মার্চ ২০২১ হিসাব বছরের জন্য ৩৭৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য সময়ে সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৫৮ টাকা ৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫২ টাকা ২২ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২১ শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়ায় ২৩২ টাকা ৭৮ পয়সা। আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২০৪ টাকা ২০ পয়সা।

২০২০ হিসাব বছরে ২৯৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। আগের হিসাব বছরে ২৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় তারা। এছাড়া ২০১৮ হিসাব বছরে মোট ৩০০ শতাংশ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা। এর মধ্যে ২০০ শতাংশ নগদ ও ১০০ শতাংশ স্টক বা বোনাস।

২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বার্জার পেইন্টসের অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ৪৬ কোটি ৩৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১ হাজার ৩২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮৮০টি। এর মধ্যে ৯৫ শতাংশই রয়েছে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩ দশমিক ৬৮, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের হাতে দশমিক ১৪ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ১ দশমিক ১৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।