প্রজ্ঞাপনে সংশোধনী আনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বনিম্ন বেতন-ভাতা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জারীকৃত প্রজ্ঞাপনে সংশোধনী আনা হয়েছে। এতে ব্যাংকের এন্ট্রি পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দুই ভাগে বিভক্ত করে নতুন করে সর্বনিম্ন বেতন-ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে প্রজ্ঞাপনটি বাস্তবায়নের সময়সীমাও। গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জারীকৃত এক প্রজ্ঞাপনে এ সংশোধনী আনা হয়।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকের এন্ট্রি পর্যায়ে জেনারেল সাইডের কর্মকর্তারা শিক্ষানবিশ সময়ে ন্যূনতম বেতন-ভাতা পাবেন ২৮ হাজার টাকা। আর ক্যাশ সাইডে কর্মরতরা ন্যূনতম ২৬ হাজার টাকা বেতন-ভাতা পাবেন। এ দুই শ্রেণীর কর্মরত কর্মকর্তারা শিক্ষানবিশকাল শেষে যথাক্রমে ৩৯ হাজার ও ৩৬ হাজার টাকা বেতন-ভাতা প্রাপ্য হবেন।

২০১৩ সালে লাইসেন্সপ্রাপ্ত চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি পরবর্তী পর্যায়ে স্থাপিত ব্যাংক এবং বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ও আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের এন্ট্রি পর্যায়ের স্থায়ী কর্মকর্তারা নতুন বেতন-ভাতার মূল বেতন ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে পাবেন। আর অবশিষ্ট বেতন-ভাতা পাবেন ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে। তবে ব্যাংক চাইলে ২০২২ সালের এপ্রিল থেকেই সব বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে পারবেন। এ ব্যাংকগুলো ছাড়া দেশে কার্যরত সব বেসরকারি ও বিদেশী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতার নির্দেশনা চলতি বছরের মার্চের পরিবর্তে এপ্রিলের মধ্যে কার্যকর হবে।

এন্ট্রি লেভেলের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ব্যাংকে কর্মরত মেসেঞ্জার, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী ও অফিস সহায়কদের বেতন-ভাতার কাঠামো পুনর্বিন্যাস করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ঢাকাসহ সব বিভাগীয় শহর এবং নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর শহর এলাকার কর্মচারীরা ন্যূনতম ২৪ হাজার টাকা বেতন-ভাতা পাবেন। আর জেলা শহরে কর্মরত কর্মচারীদের ন্যূনতম বেতন-ভাতা হবে ২১ হাজার টাকা। এছাড়া দেশের উপজেলা ও অন্যান্য অঞ্চলে কর্মরত কর্মচারীরা ন্যূনতম ১৮ হাজার টাকা বেতন-ভাতা প্রাপ্য হবেন। আগের নির্দেশনায় সব এলাকার কর্মচারীদের ন্যূনতম বেতন-ভাতা ২৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, নতুন ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ও আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের কর্মচারীদের নতুন বেতন এবং বর্তমানে প্রাপ্ত বেতনের মধ্যকার যে পার্থক্য সেটির ন্যূনতম ৫০ শতাংশ চলতি বছরের এপ্রিল থেকে পরিশোধ করতে হবে। আর অবশিষ্ট বেতনের অংশ পরিশোধ করতে হবে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে। তবে দেশের অন্য ব্যাংকগুলোর কর্মচারীদের নতুন বেতন-ভাতা আগামী এপ্রিল থেকেই দিতে হবে।

এর আগে ব্যাংকের এন্ট্রি পর্যায়ে একজন কর্মকর্তাকে সর্বনিম্ন ২৮ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ করে দিয়ে গত ২০ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, শিক্ষানবিশকাল শেষে এন্ট্রি পর্যায়ের ওই কর্মকর্তার সর্বনিম্ন বেতন হতে হবে ৩৯ হাজার টাকা। ব্যাংকের নিরাপত্তা কিংবা পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সর্বনিম্ন বেতন ২৪ হাজার টাকা দিতে নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রজ্ঞাপনে কর্মী ছাঁটাই ও পদোন্নতির বিষয়েও বেশকিছু নির্দেশনা দেয়া হয়। চলতি বছরের ৩১ মার্চের মধ্যেই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনটি জারির পর বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও শীর্ষ নির্বাহীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। এ নিয়ে ভার্চুয়াল মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে আলোচনাও করেন বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) ও ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)। পরে ২৬ জানুয়ারি দুই সংগঠনের প্রতিনিধিরা গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। ওই সময় তারা বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনটি সংশোধনের পাশাপাশি বাস্তবায়নের সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানান।