পরিশোধিত পাম অয়েল আমদানির সময়সীমা বাড়াল ভারত

ভারতে আকাশচুম্বী ভোজ্যতেলের দাম। ক্রমেই সব ধরনের ভোজ্যতেল ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। মূল্য নিয়ন্ত্রণে দেশটির সরকার আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিশোধিত পাম অয়েল আমদানির অনুমতি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। খবর মিন্ট।

এ উদ্যোগের ফলে অপরিশোধিত পাম অয়েল আমদানিও কমতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বর্তমানে ক্রেতারা অপরিশোধিত পাম অয়েলের পরিবর্তে পরিশোধিত পণ্য আমদানিতে বেশি জোর দিচ্ছেন। কারণ ইন্দোনেশিয়াসহ শীর্ষ রফতানিকারক দেশগুলো অপরিশোধিত পাম অয়েল রফতানিতে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে। ফলে এসব পণ্য আমদানিতে অনেক বেশি ব্যয় হচ্ছে ক্রেতাদের।

ভোজ্যতেল ব্রোকারেজ ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সানবিন গ্রুপের নির্বাহী প্রধান সন্দীপ বাজোরিয়া বলেন, চলতি বছরের নভেম্বরে পাম অয়েলের ২০২১-২২ বিপণন মৌসুম শুরু হয়েছে। এ মৌসুমে ভারত ১৫ লাখ টন পরিশোধিত ও ৭০ লাখ টন অপরিশোধিত পাম অয়েল আমদানি করতে পারে।

ভারত দেশটির ভোজ্যতেলের চাহিদার দুই-তৃতীয়াংশই পূরণ করে আমদানির মাধ্যমে। এর মধ্যে মোট আমদানির ৬০ শতাংশই আসে পাম অয়েল থেকে। তবে দেশটি সবচেয়ে বেশি আমদানি করে অপরিশোধিত পাম অয়েল। এ বছরের জুনে ছয় মাসের জন্য পরিশোধিত পাম অয়েল আমদানির অনুমোদন দেয় ভারত সরকার। চলতি মাসে এ অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমদানির মেয়াদ বাড়িয়ে আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভারত ভোজ্যতেল আমদানিনির্ভর দেশ। বিভিন্ন ধরনের ভোজ্যতেলের মধ্যে দেশটি সবচেয়ে বেশি আমদানি করে অপরিশোধিত পাম অয়েল। কিন্তু হু হু করে দাম বাড়তে থাকায় পণ্যটির চাহিদা কমছে। বিপরীতে বাজার দখল করে নিচ্ছে অপরিশোধিত সয়াবিন তেল। নভেম্বরে পণ্যটির আমদানি দ্বিগুণ বেড়েছে। সলভেন্ট এক্সট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, নভেম্বরে ভারত ৪ লাখ ৭৪ হাজার টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি করেছে। অক্টোবরে আমদানির পরিমাণ ছিল ২ লাখ ১৬ হাজার টন। সে হিসাবে আমদানি বেড়েছে ১১৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

কস্ট, ইন্স্যুরেন্স অ্যান্ড ফ্রেইট (সিআইএফ) চুক্তিতে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের আমদানি মূল্য দাঁড়িয়েছে টনপ্রতি ১ হাজার ৪৫৯ ডলার। অক্টোবরে আমদানি মূল্য ছিল ১ হাজার ৪৫৩ ডলার। ভারতের সয়াবিন তেল আমদানির প্রধান উৎস আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। নভেম্বরে আর্জেন্টিনা থেকে ৩ লাখ ১৯ হাজার টন সয়াবিন তেল আমদানি করা হয়।

 

সম্পর্কিত খবর