দ্বিগুণের বেশি ভুট্টা আমদানি করেছে চীন
ঊর্ধ্বমুখী দাম ও সরবরাহ সংকটের কারণে বিদায়ী বছর চীন দ্বিগুণেরও বেশি ভুট্টা আমদানি করেছে। দেশটির জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
চীন বিশ্বের শীর্ষ খাদ্যশস্য আমদানিকারক। আন্তর্জাতিক বাজারে দেশটির হিস্যা অনেক বেশি। শুল্ক বিভাগের তথ্য বলছে, ২০২১ সালে পূর্ব এশিয়ার এ দেশ ২ কোটি ৮৩ লাখ ৫০ হাজার টন ভুট্টা আমদানি করে। ২০২০ সালের তুলনায় আমদানি প্রায় ১৫২ শতাংশ বেড়েছে। ওই বছরও দেশটির রেকর্ড ১ কোটি ১৩ লাখ টন ভুট্টা আমদানি করেছিল।
এদিকে ২০২১ সালে চীনের গম আমদানিও রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এ সময় ৯৭ লাখ ৭০ হাজার টন গম আমদানি করা হয়। ২০২০ সালের তুলনায় আমদানি বেড়েছে ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ। ওই বছর ৮৩ লাখ ৮০ হাজার টন গম আমদানি করা হয়।
অন্যদিকে ২০২১ সালে চীন ১ কোটি ২৪ লাখ ৮০ হাজার টন যব আমদানি করেছে। কৃষিপণ্যটির আমদানি আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ। ৯৪ লাখ ২০ হাজার টন শরগাম (এক ধরনের শস্য) আমদানি করা হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে আমদানি ৯৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।
তথ্য বলছে, মজুদ থেকে ব্যবহারের ফলে চীনে ভুট্টার মজুদ লক্ষণীয় মাত্রায় কমেছে। অন্যদিকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশে কৃষিপণ্যটির উৎপাদন কমেছে। ২০২১ সালে ভুট্টার দাম বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে। একদিকে সরবরাহ সংকট অন্যদিকে দামের ঊর্ধ্বগতি—এ দুইয়ের কারণে ভুট্টার চাহিদা ও সরবরাহে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। সংকট কাটাতে ক্রেতারা বৈদেশিক বাজারের দ্বারস্থ হয়েছেন।
তবে শুল্ক বিভাগের তথ্যমতে, গত বছর ডিসেম্বরে ভুট্টা আমদানি কিছুটা কমে আসে। কারণ নতুন মৌসুমে দেশটিতে ভুট্টার ফলন ভালো হয়েছে। ফলে স্থানীয় বাজারে পণ্যটির দাম কিছুটা কম। ডিসেম্বরে ভুট্টা আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৯ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১৩ লাখ ৩০ হাজার টনে নেমেছে।
মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ওয়ার্ল্ড এগ্রিকালচারাল প্রডাকশন শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, অনুকূল উৎপাদন মৌসুম এবং সরকারের নানামুখী নীতির কারণে গত বছর চীনে রেকর্ড পরিমাণ ভুট্টা উৎপাদনের সম্ভাবনা ছিল। এর পরও দেশটি দ্বিতীয় বছরের মতো বিশ্বের শীর্ষ ভুট্টা আমদানিকারক দেশের তকমা ধরে রেখেছে। এর আগে দেশটির গত বছরের উৎপাদন ২৭ কোটি ৩০ লাখ টনে পৌঁছবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল ইউএসডিএ।


