দেশের সুরক্ষার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজন

উত্তর আফ্রিকার দেশ সুদানে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জন। তবে সুদানের সামরিক বাহিনীর জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান দাবি করেছেন দেশের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজন। এছাড়াও ২০২৩ সালের জুলাইয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

সুদানের অভ্যুত্থানকারী জেনারেল আরও করেছেন দাবি করেছেন, দেশে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতেই গত সোমবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখলে নিয়েছে সেনাবাহিনী। তার দাবি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লাহ হামদককে নিরাপত্তার জন্য সামরিক বাহিনীর জেনারেলদের বাড়িতে রাখা হয়েছিল।

জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত সপ্তাহে আমরা যেটা প্রত্যক্ষ করেছি, তাতে আসলে দেশ গৃহযুদ্ধের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রী তার নিজের বাড়িতেই ছিলেন। কিন্তু আমাদের ‘আশঙ্কা’ ছিল, এতে তার ক্ষতি হতে পারে। আমি গত রাতে তার সাথেই ছিলাম। চলমান সংকট শেষ হলে এবং সকল হুমকি নিশ্চিহ্ন হলে তিনি তার বাড়ি ফিরে যাবেন।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স, সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও আলজাজিরা আজ বুধবার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে, মঙ্গলবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানী খার্তুমের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ দেখান বহু মানুষ। বিক্ষোভের কারণে শহরটির বেশিরভাগ রাস্তা, সেতু ও দোকানপাট বন্ধ ছিল।

উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে সুদানের সামরিক বাহিনীর জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের নেতৃত্বে সামরিক-বেসামরিক নেতৃত্বের সমন্বয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে দেশটির সেনাবাহিনী।

একইসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সার্বভৌম কাউন্সিল এবং সরকার ভেঙে দেন তিনি। এছাড়া সুদানের প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লাহ হামদকসহ দেশটির বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও বেসামরিক কর্মকর্তাকেও আটক করা হয়।

অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে এই সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা জানানো হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই ৭০ কোটি মার্কিন ডলারের সহায়তা স্থগিত করেছে।