দুই দশকে প্রথমবার কমেছে চীনের জ্বালানি তেল আমদানি

২০২১ সালে চীনের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ৫ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। ২০০১ সালের পর প্রথমবারের মতো পণ্যটির আমদানি হ্রাস পেয়েছে। অতিরিক্ত জ্বালানি পণ্য উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে আনার পদক্ষেপ গ্রহণ করায় এমনটি ঘটেছে। এর ফলে পরিশোধকরা বিদ্যমান মজুদ থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ব্যবহার করেছে।

গত এক দশকে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে চীন। ২০১৫ সালের পর থেকে বৈশ্বিক আমদানি প্রবৃদ্ধির ৪৪ শতাংশই পৌঁছেছে চীনের বাজারে। এ সময় বেইজিং বেসরকারি পরিশোধকদের জন্য আমদানি কোটা নির্ধারণ করে দেয়।

জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব চাইনিজ কাস্টমস এক প্রতিবেদনে জানায়, গত বছর চীন সব মিলিয়ে ৫১ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে। ২০২০ সালে আমদানির পরিমাণ ছিল ৫৪ কোটি ২৩ লাখ ৯০ হাজার টন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ জ্বালানি তেল পরিশোধক দেশটি গত বছর ট্যাক্স পরিশোধে অনিয়ম ও কোটার বাইরে অবৈধভাবে আমদানি বন্ধের পদক্ষেপ নেয়। এছাড়া অপরিশোধিত জ্বালানি তেল প্রক্রিয়াকরণে নিয়ন্ত্রণ আরোপের লক্ষ্যে রফতানি কোটাও কমানো হয়।

তথ্য বলছে, গত বছর ডিসেম্বরে চীন ৪ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি বেড়েছে ২০ শতাংশ। তবে এপ্রিলের পর এ মাসেই প্রথম আমদানি বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছে।

শুল্ক বিভাগের তথ্য বলছে, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি কমলেও বেড়েছে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি। গত বছর দেশটি রেকর্ড ১২ কোটি ১৩ লাখ ৬০ হাজার টন প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করে। ২০২০ সালের তুলনায় আমদানি বেড়েছে ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্রয় করা হয়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)।

এদিকে গত বছর চীনের পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য রফতানি ২০২০ সালের তুলনায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৩ লাখ ১০ হাজার টন। ২০১৫ সালের পর এবারই প্রথম জ্বালানি পণ্য রফতানি কমল। মূলত দেশটির সরকার অতিমাত্রায় পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য উৎপাদন কমিয়ে আনতে রফতানি কোটা সীমিত করায় এমনটি ঘটেছে। গত বছর ডিসেম্বরেই রফতানি ৪৫ শতাংশ কমে যায়। ওই মাসে দেশটি ৩২ লাখ ৩০ হাজার টন পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য রফতানি করে।

সম্পর্কিত খবর