ডিএসইর লেনদেন বেড়েছে ২ দশমিক ১৯ শতাংশ

সাপ্তাহিক লেনদেনে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরছে দেশের পুঁজিবাজার। আগের সপ্তাহে কমলেও গত সপ্তাহে ২ দশমিক ১৯ শতাংশ লেনদেন বেড়েছে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)। তবে এক্সচেঞ্জটির বাজার মূলধন আরো কমেছে। বড় পতন হয়েছে সূচকে। কমেছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদরও। দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক কমলেও বেড়েছে লেনদেন।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অস্পষ্ট অবস্থান বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও হতাশা তৈরি করেছে। এছাড়া মুদ্রাবাজারের বর্তমান তারল্য প্রবাহসহ অন্যান্য কারণে বাজারের ওপর চাপ বাড়ছে।

সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসইতে মোট ৩ হাজার ৮১৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে লেনদেন ছিল ৩ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকার। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন বেড়েছে ৮১ কোটি টাকার বেশি। তবে লেনদেন বাড়লেও গত সপ্তাহে টাকার অংকে ডিএসইর গড় লেনদেন কমেছে। গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসইর গড় লেনদেন হয়েছে প্রায় ৭৬৩ কোটি টাকা। যেখানে আগের সপ্তাহের চার কার্যদিবসে গড় লেনদেন ছিল ৯৩৩ কোটি টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির গড় লেনদেন কমেছে ১৮ দশমিক ২৫ শতাংশ।

অন্যদিকে ডিএসইর বাজার মূলধন গত সপ্তাহে আরো কমেছে। সপ্তাহের শুরুতে এক্সচেঞ্জটির বাজার মূলধন ছিল ৫ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা। সপ্তাহ শেষে যা আরো কমে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ১২ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ২৪ শতাংশ।

এদিকে গত সপ্তাহে এক্সচেঞ্জটির খাতভিত্তিক লেনদেনে আধিপত্য করছে সাধারণ বীমা খাত। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৫ শতাংশ নিয়ে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে সাধারণ বীমা খাত। ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিবিধ খাত। ১৩ দশমিক ২ শতংশ নিয়ে তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে ব্যাংক খাত। ১০ দশমিক ৫ শতাংশ নিয়ে তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন। এছাড়া পরের অবস্থানে রয়েছে বস্ত্র খাত, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত। খাত তিনটির লেনদেন হয়েছে যথাক্রমে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ, ৬ শতাংশ ও ৫ শতাংশ।

গত সপ্তাহে বেশির ভাগ খাতেই নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঋণাত্মক রিটার্ন এসেছে আইটি খাতের, ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে চামড়া খাত। খাতটিতে রিটার্ন এসেছে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা সিমেন্ট খাতে রিটার্ন এসেছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। চতুর্থ অবস্থানে থাকা সেবা খাতের রিটার্ন এসেছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। তালিকায় এরপরে থাকা ভ্রমণ খাতের রিটার্ন এসেছে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। তালিকায় এরপরে রয়েছে যথাক্রমে সিরামিক, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, বস্ত্র এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক রিটার্ন হয়েছে সাধারণ বীমা খাতে। গত সপ্তাহে এ খাতটির রিটার্ন ছিল ৮ দশমিক ৮ শতাংশ। ৬ দশমিক ২ শতাংশ নিয়ে তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পেপার খাত। পাট খাত রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে। খাতটিতে রিটার্ন এসেছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। সর্বশেষ ইতিবাচক রিটার্ন আসা খাতটি হলো জীবন বীমা খাত, ১ দশমিক ৭ শতাংশ।

গত সপ্তাহে ডিএসইর সব সূচকই উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এর মধ্যে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৬৬ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৪১ শতাংশ কমে ৬ হাজার ৭০২ দশমিক ৬১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ৬ হাজার ৮৬৮ দশমিক ১৭ পয়েন্টে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৭৪ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ কমে ২ হাজার ৫১২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ৫৮৬ দশমিক ৪৬ পয়েন্টে। ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ৩৮ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪২৩ দশমিক ৬৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৪৬২ দশমিক ৩১ পয়েন্টে।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে ৩৮৬ কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৮১টির, কমেছে ২৯৫টির, অপরিবর্তিত ছিল ৫টির। আর লেনদেন হয়নি ৫টির শেয়ার।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে সমাপনী দরের ভিত্তিতে দর পতনের শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানি হলো একমি পেস্টিসাইডস লিমিটেড, বিচ হ্যাচারি লিমিটেড, এসএস স্টিল লিমিটেড, এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড, খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড, রেকিট বেনকিজার (বাংলাদেশ) লিমিটেড, মালেক স্পিনিং মিলস লিমিটেড, মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, বিএসআরএম লিমিটেড ও গোল্ডেন সন লিমিটেড।

অন্যদিকে সিএসইতে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ৩৫১ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে লেনদেন ছিল প্রায় ১৩৮ কোটি টাকার। গত সপ্তাহে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২ দশমিক ৭২ শতাংশ কমে ১৯ হাজার ৫২৯ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২০ হাজার ৭৫ পয়েন্টে। আলোচ্য সময়ে সিএসইতে মোট ৩৪০টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৭৩টির। কমেছে ২৫৫টির। আর অপরিবর্তিত ছিল ১২টির শেয়ারদর।

সম্পর্কিত খবর