জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক উত্তোলনে ঊর্ধ্বমুখিতা অব্যাহত

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক উত্তোলনে ঊর্ধ্বমুখিতা অব্যাহত আছে। নভেম্বরে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো জ্বালানি পণ্যটির বৈশ্বিক উত্তোলন বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে বৈশ্বিক সরবরাহও। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (ওপেক)।

জোটটির মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নভেম্বরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক উত্তোলন গড়ে ২ কোটি ৭৭ লাখ ২০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে। আগের মাসের তুলনায় উত্তোলন বেড়েছে দৈনিক ২ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল করে। সৌদি আরব, ইরাক ও নাইজেরিয়া উত্তোলন বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে। তবে অ্যাঙ্গোলা, লিবিয়া ও কঙ্গোয় উত্তোলন কমেছে। বৈশ্বিক উত্তোলনে ওপেকের হিস্যা অক্টোবরের মতোই ২৮ দশমিক ২ শতাংশে অপরিবর্তিত ছিল।

গত মাসে জ্বালানি পণ্যটির বৈশ্বিক সরবরাহ আগের মাসের তুলনায় দৈনিক ৮ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল করে বেড়েছে। মোট সরবরাহ দাঁড়িয়েছে গড়ে দৈনিক ৯ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সরবরাহ বেড়েছে ৫৬ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নভেম্বরে সৌদি আরব দৈনিক ১ লাখ ১ হাজার ব্যারেল করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়িয়েছে। মোট উত্তোলন দাঁড়িয়েছে ৯৮ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেলে। ইরাক দৈনিক ৯১ হাজার ব্যারেল করে উত্তোলন বাড়িয়েছে। মোট উত্তোলন দাঁড়িয়েছে দৈনিক ৪২ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে। এছাড়া নাইজেরিয়ার উত্তোলন দৈনিক ৮৫ হাজার ব্যারেল করে বেড়ে দৈনিক ১৪ লাখ ২০ হাজার ব্যারেলে উন্নীত হয়েছে।

একই সময় অ্যাঙ্গোলার উত্তোলন দৈনিক ৩৮ হাজার ব্যারেল করে কমে দৈনিক ১০ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেলে নেমেছে। লিবিয়ার উত্তোলন দৈনিক ১৫ হাজার ব্যারেল করে কমে দৈনিক ১১ লাখ ব্যারেলে নেমেছে।। কঙ্গোর উত্তোলন দৈনিক ১৪ হাজার ব্যারেল করে কমে দৈনিক ২ লাখ ৬১ হাজার ব্যারেলে নেমেছে। এদিকে চলতি বছরের জন্য জ্বালানি তেলের চাহিদা অপরিবর্তিত রেখেছে ওপেক। গত মাসে দৈনিক ৫৭ লাখ ব্যারেল করে চাহিদা বৃদ্ধির কথা জানিয়েছিল জোটটি। চলতি মাসেও একই হারে চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়।

অন্যদিকে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার পর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদায় ধস নামার উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। গত বছরের মতো জ্বালানি তেলের বাজার বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলেও জানিয়েছিলেন বিশ্লেষকরা। তবে এসব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক। জোটটি আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) জন্য পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদা পূর্বাভাস বাড়িয়েছে।

মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে ওপেক জানায়, আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা গড়ে দৈনিক ৯ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছতে পারে। গত মাসের পূর্বাভাসের তুলনায় চাহিদার পরিমাণ দৈনিক ১১ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল করে বাড়ানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) জ্বালানি তেলের চাহিদায় যতটুকু পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা ছিল, তা আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকে সংঘটিত হবে। আগামী বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে চাহিদা পুনরুদ্ধার স্থিতিশীল হয়ে উঠবে। ওমিক্রনের প্রভাব সহনীয় ও স্বল্পমেয়াদি হবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে ওপেক জানায়, আগামী বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়বে দৈনিক ৪১ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল করে। এদিকে গত মাসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা দৈনিক ১০ কোটি ব্যারেলের মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। এর আগে ২০১৯ সালে পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদা ১০ কোটি ব্যারেল ছিল।

সম্পর্কিত খবর