জ্বালানি তেলের বাজারে ওমিক্রনের প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় ওপেক

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার পর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদায় ধস নামার উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। গত বছরের মতো জ্বালানি তেলের বাজার বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলেও জানিয়েছিলেন বিশ্লেষকরা। তবে এসব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক। জোটটি আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) জন্য পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদা পূর্বাভাস বাড়িয়েছে। খবর রয়টার্স।

ওপেক বলছে, করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন জ্বালানি তেলের বাজারে খুব বেশি প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। তাই আগামী বছর চাহিদা ও ব্যবহার কমার সম্ভাবনা নেই। জোটটি জ্বালানি পণ্যটির ব্যবহার মহামারীপূর্ব ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরে যাওয়ার যে পূর্বাভাস দিয়েছিল, তাতে অটল রয়েছে।

গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম ওমিক্রন শনাক্ত হয়। তখন অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদায় ধস নামার আশঙ্কায় দরপতন ঘটে। তবে চলতি মাসে আবারো কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে পণ্যটির দাম। ফলে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছে ওপেক। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বিশ্বকে উচ্চমাত্রার ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিয়েছে ওমিক্রন। এটি করোনার অন্য যেকোনো ধরনের চেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

সম্প্রতি মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে ওপেক জানায়, আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা গড়ে দৈনিক ৯ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছতে পারে। গত মাসের পূর্বাভাসের তুলনায় চাহিদার পরিমাণ দৈনিক ১১ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল করে বাড়ানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) জ্বালানি তেলের চাহিদায় যতটুকু পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা ছিল, তা আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকে সংগঠিত হবে। আগামী বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে চাহিদা পুনরুদ্ধার স্থিতিশীল হয়ে উঠবে। ওমিক্রনের প্রভাব সহনীয় ও স্বল্পমেয়াদি হবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কারণ বিশ্বের কাছে এখন কভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় পর্যাপ্ত রশদ রয়েছে। এ-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো ফলপ্রসূভাবেই প্রতিহত করা সম্ভব হচ্ছে।

গত মাসে ওমিক্রন শনাক্ত হলে নতুন করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়ার উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল বাজারসংশ্লিষ্টদের মাঝে। এ কারণে ২৬ নভেম্বর পণ্যটির দাম ১০ শতাংশ কমে যায়। তবে চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তীব্র হয়ে উঠলেও আগামী বছরের জানুয়ারিতে জ্বালানি তেল উত্তোলন বৃদ্ধির পরিকল্পনায় অটল ওপেক।

সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে ওপেক জানায়, আগামী বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়বে দৈনিক ৪১ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল করে। চলতি বছরের চাহিদা প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও অপরিবর্তিত রেখেছে জোটটি।

এদিকে গত মাসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা দৈনিক ১০ কোটি ব্যারেলের মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। এর আগে ২০১৯ সালে পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদা ১০ কোটি ব্যারেল ছিল।

ওপেকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছর চাহিদা নিম্নমুখী থাকায় ওপেক ও এর মিত্র দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমিয়ে এনেছিল। তবে চলতি বছর ধারাবাহিকভাবে উত্তোলন বাড়িয়ে চলেছে জোটটি। ওমিক্রনের আশঙ্কার মধ্যেও উত্তোলন বৃদ্ধির পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়নি। সর্বশেষ ২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বৈঠকে ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলো আগামী বছরের জানুয়ারিতে দৈনিক চার লাখ ব্যারেল করে উত্তোলন বাড়ানোর ব্যাপারে একমত হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, নভেম্বরে ওপেকের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন দৈনিক ২ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল করে বেড়ে দৈনিক ২ কোটি ৭৭ লাখ ২০ হাজার ব্যারেলে উন্নীত হয়েছে। উত্তোলন বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে সৌদি আরব ও ইরাক।

 

সম্পর্কিত খবর