জনশক্তি রফতানি খাতে সিন্ডিকেট ভাঙার আহ্বান
জনশক্তি রফতানি খাতে বিদ্যমান সিন্ডিকেট ভাঙতে মালয়েশিয়া-বাংলাদেশের যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে এফবিসিসিআইয়ের মনোনীত সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান জনশক্তি রফতানিকারকরা। এছাড়াও মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন সংশোধন, রেমিট্যান্সের ওপর ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে প্রণোদনার হার ৩ শতাংশ করার দাবিও করা হয়।
গতকাল জনশক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক এফবিসিসিআইয়ের স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রথম সভায় এসব কথা বলেন জনশক্তি রফতানিকারকরা। সভায় উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মেদ ফারুক, স্ট্যান্ডিং কমিটির কো-চেয়ারম্যান রিয়াজ-উল-ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মাহমুদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মুস্তাফা (বাবুল), বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মেদ সেরাজ মিয়া, মফিজ উদ্দিন, মো. রেদওয়ান খান (বোরহান) ও কাজী এমএ কাশেমসহ অন্য সদস্যরা। আরো উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি ও জনশক্তিবিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির ডিরেক্টর ইনচার্জ মো. হাবীব উল্লাহ ডন, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আমজাদ হোসাইন ও মহাসচিব মোহাম্মদ মাহফুজুল হক।
এ সময় বক্তারা বলেন, মহামারী শুরুর আগে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী উড়োজাহাজের টিকিটের দাম ছিল গড়ে ৫০ হাজার টাকা। এখন তা দ্বিগুণ বেড়ে লাখ টাকার ওপরে চলে গেছে। টিকিটের চড়া দামে ভোগান্তিতে পড়েছেন অভিবাসী কর্মীদের পাশাপাাশি বিপাকে পড়েছেন জনশক্তি রফতানিকারকরাও। এ সময় টিকিটের দাম বৃদ্ধির পেছনে সিন্ডিকেটকে দায়ী করেন তারা।
বক্তারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিমান টিকিটের মতোই, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়াকেও কুক্ষিগত করতে চাইছে সিন্ডিকেট চক্র। ১৯ ডিসেম্বর, মালয়েশিয়াতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠাতে দুদেশের মন্ত্রী পর্যায়ে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। শিগগিরই স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওরস-এসওপি প্রণয়নের কথা রয়েছে।
ড. মোহাম্মেদ ফারুক অভিযোগ করেন, বিগত সময়েও মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়াটি মাত্র ১০টি প্রতিষ্ঠানের হাতে ছিল। ওইসব প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি-অনিয়মের কারণেই একপর্যায়ে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়া বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া সরকার। এখন ওই একই চক্র ২৫টি কোম্পানির মাধ্যমে দেশটিতে অভিবাসী কর্মী পাঠানোর অপকৌশল করছে।
সভায় স্ট্যান্ডিং কমিটির অন্য সদস্যরাও জনশক্তি খাতে সিন্ডিকেটের ব্যাপারে তাদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। নেপাল, ভারত ও পাকিস্তানের উদাহরণ দিয়ে তারা জানান, প্রতিটি দেশেই দেড় হাজারেরও বেশি রিক্রুটিং এজেন্ট মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রফতানি করছে। এ সময় বাংলাদেশে এ সুবিধা গুটিকয়েক এজেন্টের হাতে রাখার তীব্র বিরোধিতা করেন তারা।
জনশক্তি রফতানি খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো এফবিসিসিআইয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে জনশক্তি ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক এফবিসিসিআইয়ের স্ট্যান্ডিং কমিটি।
বৈঠকে মহামারীর মন্দা মোকাবেলায় জনশক্তি খাতকে সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনার সুপারিশ করেন জনশক্তিবিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির ডিরেক্টর ইনচার্জ মো. হাবীব উল্লাহ ডন। তিনি জানান, দেশের জিডিপিতে ১২ শতাংশ অবদান রাখছে জনশক্তি খাত। তাই এ খাতটির ব্যাপারে সরকারের কাছ থেকে বাড়তি মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অর্থনীতিতে অবদান রাখা জনশক্তি রফতানিকারকদের সরকারিভাবে সম্মানিত করার আহ্বানও জানান তিনি।


