একান্ত সাক্ষাতকারে বেস্ট লাইফের এমডি মো. শহীদুল ইসলাম
কোটি মানুষকে বীমা সেবা দিতে চায় বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স

 

আদম মালেক : সরকার আন্তরিক হলে দেশের বীমা খাত আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে- বলে মন্তব্য করেছেন, জীবন বীমা খাতের কোম্পানী বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো. শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, দেশের কোটি কোটি প্রান্তিক মানুষ এখনো বীমা সেবার বাইরে আছেন।  বেস্ট লাইফ চায় প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌছাতে, সবাইকে বীমা সেবার আওতায় নিয়ে আসতে।

জাতীয় অর্থনীতি বিষয়ক অন-লাইন পত্রিকা অর্থবাংলাডটকমের সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে বীমা শিল্পের চলমান অবস্থা, সংকট এবং উত্তরণের উপায় নিয়ে কথা হয়।  আলোচনা হয় দেশের অন্যতম বীমা প্রতিষ্ঠান বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এর কর্মকান্ড নিয়ে। পুরো সময় সাথে ছিলেন অর্থবাংলার সিনিয়র রির্পোটার আদম মালেক।

আস্থা সংকট কেটে উঠলে বীমা শিল্প এগিয়ে যাবে- এমন আশার আলো মো. শহীদুল ইসলাম এর চোখে-মুখে।  তিনি বলেন, বিপুল সম্ভাবনার খাত বাংলাদেশের বীমা খাত। তবে এই সময়ে এসে কিছু কারণে নানা নেতিবাচক ধারণার কবলে পড়তে হয়েছে।  ফলে ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারছে না। এজন্য বীমা কোম্পানীগুলোকে আরো সচেতন হতে হবে। একইসাথে সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে। উদাহরণ দিয়ে তিনি দেখিয়ে দেন, পরিবার পরিকল্পনার ব্যাপারেও মানুষ এক সময় পশ্চাৎপদ চিন্তা লালন করতো। সরকারের অগ্রণী ভূমিকা এই অন্ধকার দূর করে। বীমার ব্যাপারে যদি সরকার পরিবার পরিকল্পনার মতো জোরালো প্রচারণার উদ্যোগ নেয়, তাহলে বীমা খাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। কিন্তু সরকার আমাদের আদেশ দেয়, কিন্তু আমাদের আবেদন নিবেদনে তেমনে সাড়া দেয় না।

তিনি আরও বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে কাজ করছে এই খাত সংশ্লিষ্টরা, এটা ইতিবাচক দিক। দেশে জাতীয় বীমা দিবস পালন হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে আন্তরিকতার সাথে সময় দিচ্ছেন। পরিবর্তন অবশ্যই আসবে। ঘুরে দাড়াবে বীমা খাত, ইতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতিতে, বাড়বে জিডিপিতে অবদান। আমাদের প্রতিষ্ঠান বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডও এজন্য সদা তৎপর। আমরা চাই, অর্থনীতির সূচকে বীমা খাত হবে সবার সেরা। সে লক্ষ্য থেকেই আমরা বাজারে নতুন নতুন পণ্য আনতে সক্রিয়। বিশেষ করে, কেউ ২ লক্ষ টাকার বীমা করলে তাদের ভ্রমন সুবিধা ও কেনাকাটার সুবিধা দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাই। চুক্তিবদ্ধ হতে ইচ্ছুক বিভিন্ন হোটেল মোটেল রেস্টুরেন্টসহ বড় বিপনী বিতানের সঙ্গে। এজন্য আমরা বিভিন্ন শ্রেণী পেশার জনগোষ্ঠী যেমন বাড়ি বা ফ্ল্যাট মালিক সমিতি, দোকান মালিক সমিতি ও সংঘবদ্ধ শ্রমিককে কাছে টানার চেষ্টা করছি। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি দেশের কোটি মানুষকে বীমা সেবার আওতায় নিয়ে আসতে।

বেস্ট লাইফের এই মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, করোনার মহামারির মধ্যেও আমাদের গ্রাহক সেবায় কোনো বিপত্তি ঘটেনি। আমাদের কর্মীবাহিনী সব সময় আন্তরিক ও সচেতন ছিল। পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কমিটির মধ্যেও বিদ্যমান আইন ও অঙ্গীকারের প্রতি শ্রদ্ধা। তাই বীমা দাবি পরিশোধে বিলম্ব ঘটেনি। গ্রাহক তার পাওনা বঞ্চিত হয়নি। এই গ্রাহক সেবার কারণে বেস্ট লাইফ এখনও বেস্ট। আমাদের পলিসি হলো- বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএর) নির্দেশনা মেনে, বীমা আইন যথাযথ পালন করে দেশের মানুষকে শতভাগ বীমাসেবা দেয়া।

বীমা খাতের চ্যালেঞ্জ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন এই বীমা ব্যক্তিত্ব। তিনি বলেন, ২০০০ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানীগুলোই বীমা খাতের বড় সমস্যা। এ সময়ের অনেক কোম্পানীই মৃত্যু দাবি, বীমা দাবিসহ গ্রাহকের অনেক পাওনা পরিশোধ করতে পারেনি। অনিয়ম দুর্নীতির কারণে কোনো কোনো কোম্পানীতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। কিন্তু প্রশাসক নিয়োগেও ভালো ফল আসেনি। প্রশাসকের বিরুদ্ধেও অসন্তোষ ও অভিযোগ। অনিয়ম দুর্নীতি দূরীকরণসহ ভাবমূর্তি উদ্ধারই এখন বীমা খাতের বড় চ্যালেঞ্জ। পুরাতন বীমা প্রতিষ্ঠানের নানা বিব্রতকর কর্মকান্ডকে মাথায় রেখে আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠানকে ঢেলে সাজাচ্ছি। আমরা চাই গ্রাহকের মুখে হাসি । গ্রাহক সবসময় সেবায় সন্তুষ্ট থাকবে। যথাসময়ে গ্রাহকের দাবী পরিশোধ আমাদের বেষ্ট লাইফের প্রধান অঙ্গিকার।

বীমা খাতে দক্ষ জনশক্তি বৃদ্ধি না পাওয়ার কারণ সম্পর্কে তাঁর পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, বীমা খাতের ব্যাপারে সরকারের অবহেলা রয়েছে। তাছাড়া বীমা কর্মীরা গ্রাহককে সুরক্ষা বা নিরাত্তার জন্য নিরলাসভাবে কাজ করে। অথচ তাদের চাকরির নিরাপত্তা নেই। এজন্য অনিশ্চত এ পেশায় মেধাবীরা আসতে চায় না।

একুশ শতকের উপযোগী বীমা খাত গড়ে তুলতে তিনি বলেন, একুশ শতকের প্রজন্ম তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর, তারা ঘরে বসেই সব সেবা পেতে চায়। এই প্রজন্মের প্রতি লক্ষ্য রেখে আমাদের বীমা শিল্পকে তথ্যপ্রযুক্ত সমৃদ্ধ করা উচিত। গড়ে তুলতে হবে কাগজবিহীন বীমা পলিসি। ডিজিটাল বীমা স্টাম্প এবং ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর চালু হলে পলিসি ডকুমেন্ট পেপারলেস করতে পারব বলে আমার বিশ্বাস এবং এটি ডিজিটালি বীমা পলিসি গ্রহণকে আরো ত্বরান্বিত করবে। তাছাড়া চালু করতে হবে ইনোভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগ, বরাদ্দ রাখতে হবে অর্থ । বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ সংস্থার লোকবলের ঘাটতি পূরণ জরুরী।  দেশের বীমা খাতের সামগ্রীক দিক চিন্তা করেই গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণে কাজ করছে বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড।