কমপ্লায়েন্স অডিটের আওতায় আসছে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ
ডিমিউচুয়ালাইজেশন (ব্যবস্থাপনা থেকে মালিকানা পৃথক্করণ) স্কিম ও বোর্ড অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিধিমালা অনুসারে স্টক এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখার জন্য দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ওপর কমপ্লায়েন্স অডিট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নিরীক্ষা প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে কমিশন।
ডিমিউচুয়ালাইজেশন প্রক্রিয়া কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে সেটি পর্যালোচনার জন্য সম্প্রতি দুই স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএসইসি। এ বৈঠকে ডিমিউচুয়ালাইজেশন বাস্তবায়নের খুঁটিনাটি উঠে এসেছে। বৈঠকে কমিশনের পক্ষ থেকে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসই ডিমিউচুয়ালাইজেশনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে না পারার বিষয়টি উঠে এসেছে। দৈনিক গড় লেনদেন, প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ানো, তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা বাড়ানো, বন্ড মার্কেটের গভীরতা ও তারল্য বৃদ্ধি, তালিকাভুক্ত নতুন পণ্য চালু, সুশাসন, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন-সংক্রান্ত যেসব উদ্দেশ্য ২০২০ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করার কথা ছিল সেগুলো অর্জন করতে পারেনি ডিএসই। এছাড়া অর্গানোগ্রাম বাস্তবায়ন ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার ছাড়তেও ব্যর্থ হয়েছে এক্সচেঞ্জটি। একইভাবে সিএসইও এখনো পর্যন্ত কৌশলগত বিনিয়োগকারী খুঁজে আনতে পারেনি।
কমিশনের পর্যবেক্ষণে আরো উঠে এসেছে যে দৈনন্দিন আর্থিক ও ব্যবস্থাপনাগত বিভিন্ন ইস্যুতে এক্সচেঞ্জের পর্ষদ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা ডিমিউচুয়ালাইজেশনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ কারণে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম ও বোর্ড অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিধিমালা অনুসারে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে কিনা সেটি জানার জন্য কমপ্লায়েন্স অডিট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।
এ বিষয়ে বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিউচুয়ালাইজেশন বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানতে আমরা কমপ্লায়েন্স অডিট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কমিশনের পক্ষ থেকেই এজন্য নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হবে। তারা নিরীক্ষা শেষে আমাদের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবে। এর ভিত্তিতে আমরা পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করব।
ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম অনুসারে, স্টক এক্সচেঞ্জের ৪০ শতাংশ শেয়ার এর সদস্যদের কাছে থাকবে। আর বাকি ৬০ শতাংশ শেয়ারের মধ্যে ২৫ শতাংশ কৌশলগত বিনিয়োগকারীর কাছে এবং ৩৫ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ছেড়ে দেয়ার কথা রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শেয়ার ছাড়ার বিষয়ে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আগামী বছরের ১০ জানুয়ারির মধ্যে জমা দিতে বলেছে বিএসইসি।
প্রসঙ্গত, পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ২০১৩ সালে মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা পৃথককরণের মাধ্যমে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিউচুয়ালাইজেশন করা হয়। ফলে এক্সচেঞ্জের পর্ষদে শেয়ারধারী পরিচালকদের প্রাধান্য লোপ পায়।


