একদিন পরই ঘুরে দাঁড়িয়েছে পুঁজিবাজার
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর বৈঠকে সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা বা সিদ্ধান্ত না আসার কারণে গত বুধবার বড় পতন হয়েছিল দেশের পুঁজিবাজারে। অবশ্য এর একদিন পরই গতকাল ঘুরে দাঁড়িয়েছে পুঁজিবাজার। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে দশমিক ৪৭ শতাংশ। দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচক বেড়েছে। তবে সূচক বাড়লেও দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই টাকার অংকে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ কমেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, গতকাল পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্ক থাকার প্রবণতা দেখা গেছে। সুনির্দিষ্ট কিছু খাতভিত্তিক শেয়ার কেনার দিকে ঝোঁক ছিল বিনিয়োগকারীদের। শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ার কারণে সূচক ও বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারদর বাড়লেও সার্বিকভাবে আগের দিনের তুলনায় বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কিছুটা কম ছিল।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল লেনদেনের শুরুতে ঊর্ধ্বমুখী ছিল সূচক। আধা ঘণ্টার মধ্যেই ৭ হাজার ২৩ পয়েন্টে পৌঁছে সূচকটি। অবশ্য এরপর পয়েন্ট হারাতে শুরু করে সূচক। মাঝে কিছুটা উত্থান-পতন দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত গতকাল দিনশেষে প্রায় ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৯৮৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে ডিএসইএক্স, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ৬ হাজার ৯৫২ পয়েন্টে। গতকাল সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি (বিএটিবিসি), বিএসআরএম লিমিটেড, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ার।
ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গতকাল দিনশেষে ৮ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৪৭৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে, যা আগের দিন ছিল ১ হাজার ৪৬৭ পয়েন্টে। ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০ দিনের ব্যবধানে ১১ পয়েন্ট বেড়ে গতকাল ২ হাজার ৬৩২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের দিন শেষে যা ছিল ২ হাজার ৬২১ পয়েন্টে।
গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪৩ কোটি টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭৭টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিনশেষে দর বেড়েছে ২১৪টির, কমেছে ১০৬টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৫৭টি সিকিউরিটিজের বাজারদর।
খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৫ দশমিক ৬০ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে তথ্যপ্রযুক্তি খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ দখলে নিয়েছে ব্যাংক খাত। ১১ দশমিক ৩০ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বস্ত্র খাত। চতুর্থ অবস্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ১১ শতাংশ। এছাড়া বিবিধ খাতের দখলে ছিল ৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ। গতকাল বস্ত্র খাতের শেয়ারে সবচেয়ে বেশি ২ দশমিক ২ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। ঋণাত্মক রিটার্নের দিক দিয়ে শীর্ষে ছিল কাগজ ও মুদ্রণ খাত।
গতকাল ডিএসইতে লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ সিকিউরিটিজ ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড, জিএসপি ফাইন্যান্স, জেনেক্স ইনফোসিস, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, বিএটিবিসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সাইফ পাওয়ারটেক, ওয়ান ব্যাংক, আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং ও ওরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালস।
সমাপনী দরের ভিত্তিতে গতকাল ডিএসইতে দর বৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০ সিকিউরিটিজ ছিল এসকে ট্রিমস, সায়হাম টেক্সটাইল, জেমিনি সি ফুড, এএমসিএল (প্রাণ), লিবরা ইনফিউশন, এমএল ডাইং, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, আনলিমা ইয়ার্ন, বিডি ল্যাম্পস ও আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং।
অন্যদিকে গতকাল এক্সচেঞ্জটিতে দর কমার শীর্ষে থাকা কোম্পানির মধ্যে রয়েছে সুহূদ ইন্ডাস্ট্রিজ, ডমিনেজ স্টিল, এফএএস ফাইন্যান্স, অ্যাপোলো ইস্পাত, ফু-ওয়াং সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ফু-ওয়াং ফুড, সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্স, অলিম্পিক অ্যাকসেসরিজ, আইসিবি এএমসিএল ফার্স্ট অগ্রণী ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান ও সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস।
সিএসইতে গতকাল সিএসসিএক্স সূচক দিনের ব্যবধানে ৬১ পয়েন্ট বেড়ে ১২ হাজার ২৯৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের কার্যদিবসে সূচকটির অবস্থান ছিল ১২ হাজার ২৩৩ পয়েন্টে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ২৮৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৬০টির, কমেছে ৯২টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৩৪টির বাজারদর। গতকাল সিএসইতে মোট ৩৯ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫৩ কোটি টাকা।


