ঋণ শ্রেণীকরণের মেয়াদ বাড়ালে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার দ্রুত হবে

কভিড মহামারী-উত্তর সময়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রম এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ফলে মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এখনো ভয়াবহ অবস্থা পার করছেন। এ পরিস্থিতিতে ঋণ শ্রেণীকরণ সুবিধা আগামী বছরের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।

গতকাল অনুষ্ঠিত এফবিসিসিআইয়ের বার্ষিক সাধারণ সভা ২০১৯-২০২০-এ এমন আহ্বান জানানো হয়। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংককে যত দ্রুত সম্ভব ঋণ শ্রেণীকরণ সুবিধার মেয়াদ বৃদ্ধি-সংক্রান্ত ঘোষণা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ঋণ শ্রেণীকরণের মেয়াদ বাড়ালে ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি আসবে এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার দ্রুত সম্ভব হবে।

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সভায় সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, সহসভাপতি এমএ মোমেন, মো. আমিনুল হক শামীম, মো. আমিন হেলালী, সালাহউদ্দীন আলমগীর, মো. হাবীব উল্লাহ ডন ও এমএ রাজ্জাক খান রাজ এবং পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় এফবিসিসিআই সভাপতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতি তাড়াহুড়ো করে নতুন আয়কর আইন চূড়ান্ত না করার আহ্বান জানান। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এফবিসিসিআই সভাপতি জানান, কভিড-১৯ মহামারীতে এফবিসিসিআইকে সত্যিকার অর্থে গবেষণাভিত্তিক সংগঠনে পরিণত করতে খাতভিত্তিক ১৮ জন প্যানেল অ্যাডভাইজার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যেকোনো বিষয়ে নীতি প্রণয়নে এসব বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির বিশ্লেষণ ও পরামর্শের মাধ্যমে সরকারের কাছে এফবিসিসিআই তার সুপারিশ আরো শক্তিশালীভাবে তুলে ধরতে সমর্থ হবে। এরই মধ্যে ৭৮টি স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠিত হয়েছে। খাতভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও দ্রুত সমাধানে কাজ করবে এসব কমিটি।

সভায় এফবিসিসিআই নেতারা জানান, দেশের শিল্প-কারখানায় উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এফবিসিসিআই যৌথভাবে কাজ করছে। এরই মধ্যে এফবিসিসিআইতে সেফটি কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।

এফবিসিসিআই নেতারা জানান, ২০২৬-পরবর্তী সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পলিসি অ্যাডভোকেসির অংশ হিসেবে ‘ইন্টারনাল রিসোর্স মোবিলাইজেশন অ্যান্ড ট্যারিফ র্যাশনালাইজেশন’, ‘গ্লোবাল মার্কেট অ্যাকসেস ২০২১-২০২৬ অ্যান্ড বিয়ন্ড’, ‘ইনভেস্টমেন্ট মেজারস ফর সাসটেইনেবল ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট’ ও ‘সাসটেইনেবল এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট, সাবসিডিস অ্যান্ড ইনসেনটিভস’ শীর্ষক চারটি কর্মকৌশল হ্যান্ডবুক আকারে প্রণয়ন করা হয়েছে, যা শিগগিরই সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে খাতভিত্তিক সক্ষমতা বাড়াতে এফবিসিসিআইতে ইনোভেশন সেন্টার স্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নানা উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কভিডকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশব্যাপী স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণ করেছে এফবিসিসিআই। এছাড়াও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীকে স্মরণীয় করতে এফবিসিসিআই আয়োজন করেছে ১৬ দিনব্যাপী ‘বিজয়ের ৫০ বছর: লাল-সবুজের মহোৎসব’। এছাড়া স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপনে ৫০ জন ব্যবসায়ী মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা দেবে এফবিসিসিআই।

উল্লেখ্য, করোনা সংক্রমণজনিত কারণে ২০১৯-২০ সময়ের বার্ষিক সাধারণ সভা নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠান সম্ভব হয়নি। সেই সভাটিই গতকাল অনুষ্ঠিত হয়। এফবিসিসিআইয়ের সাধারণ পরিষদের সদস্যদের উপস্থিতিতে সকালে শুরু হওয়া সভায় ২০১৯-২০ বার্ষিক ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। পরে বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সম্পর্কিত খবর