আফগানিস্তানের জনগণকে সহায়তা দিতে চায় বাংলাদেশ

দুই মাস আগেও আফগানিস্তানের প্রায় ৪ কোটি মানুষের মধ্যে দেড় কোটি খাদ্য সংকটে ভুগছিল। বর্তমানে খাদ্য সংকটে পড়া মানুষের সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখেরও বেশি; অর্থাৎ দেশটির অর্ধেকের বেশি মানুষ চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কীভাবে দেশটিকে মানবিক সহায়তা দেওয়া যায় সেটি নিয়ে জাতিসংঘসহ অন্যান্য দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। মানবিক দেশ হিসাবে বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। ইতোমধ্যে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার অধীনে ওষুধ ও খাদ্য সরবরাহ করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ। এছাড়া আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা রেড ক্রিসেন্টের মাধ্যমেও সহায়তা পাঠাতে চায় বাংলাদেশ। এ জন্য সেপ্টেম্বরে রেড ক্রিসেন্টকে অনুরোধও করেছে ঢাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) মাশফি বিনতে সামস বলেন, ‘গত মাসে জাতিসংঘ আয়োজিত একটি বৈঠকে ওষুধ ও খাদ্য পাঠাতে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা আমরা জানিয়েছি। এর বাইরে আমরা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি। তারা মানবিক সহায়তা সেখানে পৌঁছে দিতে পারবে কিনা সে বিষয়ে জানতে চেয়েছি।’

তবে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এখনও বাংলাদেশকে কোনও উত্তর দেয়নি বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, আফগানিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মাশফি বিনতে সামস বলেন, ‘আমরা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। তালেবানরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সেটির বাস্তবায়নে তারা কতটুকু আন্তরিক, তা দেখার বিষয় আছে।’

আফগান জনগণ তালেবানদের কীভাবে দেখছে সেটিও আরেকটি বিবেচ্য বিষয়। কারণ, নতুন সরকারের যেকোনও ধরনের একটি আইনগত স্বীকৃতি থাকতে হবে এবং সেটি প্রথমে দেবে ওই দেশের জনগণ।

তিনি বলেন, ‘আমরা মনোযোগের সঙ্গে খেয়াল করছি, অনেক দেশ তালেবানদের সঙ্গে আলোচনা করছে, কিন্তু কেউ এখন পর্যন্ত তাদের স্বীকৃতি দেয়নি।’

এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বাংলাদেশ চায় এবং সেটির জন্য বাংলাদেশ সবার সঙ্গে কাজ করবে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, মার্কিন সেনাবাহিনী ওই দেশ ত্যাগের পর গত ১৫ আগস্ট বিনা বাধায় কাবুল দখল করে তালেবান। ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ইরান, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তানসহ অনেক দেশ যোগাযোগ রাখছে এবং মানবিক সহায়তা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে।