আগামী বছরও ঊর্ধ্বমুখী থাকবে স্টেইনলেস ইস্পাতের বাজার

বৈশ্বিক স্টেইনলেস ইস্পাত খাতের জন্য ২০২১ সাল ছিল ব্যতিক্রমী একটি বছর। এ সময় বেশির ভাগ কোম্পানি সরবরাহ চেইনের মাধ্যমে বড় রকমের আর্থিক সুফল পেয়েছে। নানামুখী সংকটের প্রভাবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলেও ঊর্ধ্বমুখী বিক্রয়মূল্যের সুবিধা নিয়ে লাভবান হয়েছেন ইস্পাত উৎপাদকরা। এর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানই রেকর্ড মুনাফা অর্জন করেছে। টানা কয়েক প্রান্তিক ধরেই প্রবৃদ্ধি অব্যাহত ছিল।

এদিকে বছরের শেষ দিকে এসে বাজার পরিস্থিতি কিছুটা মন্থর হয়ে পড়ে। তবে বেশির ভাগ বাজার অংশীজন আগামী বছর আবারো বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ২০২২ সালে স্টেইনলেস ইস্পাতের চাহিদা ও দাম নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান মেপসের করা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। শর্ট-টার্ম আউটলুক শীর্ষক এ প্রতিবেদনে দুই ধরনের মত লক্ষ করা গেছে।

এতে বলা হয়, সাম্প্রতিক মাসগুলোয় ক্রেতারা তাদের ইস্পাত কেনার ক্ষেত্রে অনেক বেশি সাবধানতা অবলম্বন করছেন। তবে আগামী বছর নভেল করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণপ্রবাহ, মূল্যস্ফীতির হার বৃদ্ধি চলমান সরবরাহ চেইনে সংকট বাণিজ্যিক কার্যক্রমে অব্যাহতভাবে বিঘ্ন ঘটাবে বলেও প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

চলতি বছরের শেষ মাসে এসে দেখা গেছে, বিশ্বের প্রত্যেক অঞ্চলেই স্টেইনলেস ইস্পাতের দাম ঊর্ধ্বমুখী পর্যায়ে অবস্থান করছে। ৩০৪ কোল্ড রোলড কয়েলের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে এসেছে। আগামী বছর কয়েলজাতীয় পণ্যের দাম আরো বড় পরিসরে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মৌসুমি চাহিদা কমে যাওয়ায় এশিয়ার দেশগুলোয় স্টেইনলেস ইস্পাতের দাম কমার প্রত্যাশা করেছিলেন বাজার বিশ্লেষকরা। কিন্তু উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বমুখিতা এতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটতে পারে। তবে উত্তর আমেরিকার দেশগুলোয় ইস্পাত কেনাবেচা কিছুটা মন্থর হয়ে পড়ায় আগামী বছরের প্রথমার্ধে দাম কিছুটা কমতে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে ইউরোপের দেশগুলোয় সরবরাহ সংকটের কারণে কোল্ড রোলড কয়েল, শিটসহ অন্যান্য ফ্ল্যাট পণ্যের দাম নতুন বছরের শুরুতে ঊর্ধ্বমুখীই থাকবে।

স্টেইনলেস স্টিলের বৈশ্বিক বাজারে দ্রুত প্রসার ঘটছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ধাতুটির উৎপাদন বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। চলতি ও আগামী বছর প্রবৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

চীন বিশ্বের শীর্ষ উৎপাদক হওয়া সত্ত্বেও নীতিনির্ধারকরা বিধিনিষেধ আরোপ করায় দেশটির উৎপাদন বাধার মুখে পড়েছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে শিল্প ধাতুটির উৎপাদন বাড়ছে। আগামী বছর স্টেইনলেস স্টিলের বৈশ্বিক উৎপাদন ৫ কোটি ৮২ লাখ টনে উন্নীত হওয়ার পূর্বাভাস মিলেছে, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। পূর্বাভাস সত্য হলে উৎপাদন চলতি বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়বে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান মেপস এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, চলতি বছর স্টেইনলেস স্টিলের বৈশ্বিক উৎপাদন ৫ কোটি ৬৮ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে। গত বছরের তুলনায় উৎপাদন বাড়বে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রধান প্রভাবকের ভূমিকা রাখবে ইন্দোনেশিয়া।

এদিকে উৎপাদন বৃদ্ধি সত্ত্বেও সক্ষমতা সংকুচিত থাকবে বলেও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ অনেক দেশে এখনো ধাতুটির সরবরাহ ঘাটতি রয়েছে। করোনা মহামারীর প্রভাব কাটিয়ে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে স্টেইনলেস স্টিলের চাহিদায় দেখা দিয়েছে উল্লম্ফন। এর মানে দাঁড়ায় অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধি, এমনকি যেকোনো অস্বাভাবিক অবস্থার জন্য বৈশ্বিক ক্রেতাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

সম্পর্কিত খবর