অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে দেশের চা উৎপাদন
২০২১ সালে দেশে রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদন হয়েছে। দেশের ১৬৭টি চা বাগান ও ক্ষুদ্র চা উৎপাদন খাত থেকে সব মিলিয়ে উৎপাদন হয়েছে ৯ কোটি ৬৫ লাখ কেজিরও বেশি চা। যদিও এ সময়ে ১০ কোটি কেজি চা উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বছরের শেষ দিকে আবাদি অঞ্চলগুলোয় অতিরিক্ত ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে উৎপাদনে কিছুটা কমে যায়। এ কারণে উৎপাদন ১০ কোটি কেজির গণ্ডি পার করতে পারেনি। তবে বছরের দুই মাস আগেই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে যায়। বুধবার চা বোর্ডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, গত বছর ৭ কোটি ৭৭ লাখ ৮০ হাজার কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। জানুয়ারি-অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসেই উৎপাদন হয় ৭ কোটি ৯৩ লাখ ৩৩ হাজার কেজি। বছর শেষে উৎপাদন ৯ কোটি ৬৫ লাখ কেজিতে উন্নীত হয়। দেশের ইতিহাসে আর কখনো এ পরিমাণ চা উৎপাদন হয়নি।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের সর্বশেষ প্রতিবেদন বলছে, ২০১৯ সালে দেশে চা উৎপাদন হয়েছিল ৯ কোটি ৬০ লাখ ৬৯ হাজার কেজি। এরপর ২০২০ সালে করোনাকালীন সংকট সত্ত্বেও ৮ কোটি ৬৩ লাখ ৯৪ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল। তবে সর্বশেষ বছরে নিকট অতীতের রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে দেশের বাগান মালিক ও ক্ষুদ্র চা চাষীরা। চা বাগানের পাশাপাশি উৎপাদনে এবারো সফলতা দেখিয়েছেন সমতলের চাষীরা। ২০২০ সালে উত্তরাঞ্চলের সমতলীয় ক্ষুদ্রচাষীরা উৎপাদন করেছিলেন ১ কোটি ৩০ লাখ কেজি চা। কিন্তু ২০২১ সালে সমতলে উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার কেজি চা। বাগান ও সমতলের চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক চা উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. আশরাফুল ইসলাম (এনডিসি, পিএসসি) বলেন, কভিড পরিস্থিতিতেও সরকারের নির্দেশনায় দেশের সব চা বাগানের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। আর্থিক প্রণোদনা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ চা বোর্ডের নিয়মিত মনিটরিং ও পরামর্শ, বাগান মালিক ও শ্রমিকদের নিরলস প্রচেষ্টা, সঠিক সময়ে ভর্তুকি মূল্যে সার বিতরণ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চা নিলাম কেন্দ্র চালু রাখা, চা শ্রমিকদের মজুরি, রেশন এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের ফলে ২০২১ সালে দেশের চা উৎপাদন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছে।
চা বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের চা খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার সমতলে চা চাষ। বাগানের পাশাপাশি সমতলে চা চাষের ফলে চায়ের বার্ষিক উৎপাদন ক্রমাগত বাড়ছে। উত্তরাঞ্চলে চা চাষীদের ‘ক্যামেলিয়া খোলা আকাশ স্কুলের’ মাধ্যমে চা আবাদ বিষয়ে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহের ফলে শুধু সমতলের চা বাগান ও ক্ষুদ্র চা চাষ থেকে এ বছর গত বছরের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেশি চা উৎপাদন সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে চা বোর্ড।


