অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নিলেন রনিল

শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নিয়েছেন। শুক্রবার প্রধান বিচারপতি জয়ন্থা জয়াসুরিয়ার কাছে শপথ নেন তিনি। রনিলের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে ব্যাপক জনবিক্ষোভের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে প্রথমে মালদ্বীপ যান সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। পরে সেখান থেকে বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুর যান। এদিন ই-মেইলে স্পিকার মাহিন্দা ইয়াপা আবেবর্ধনের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি।

শপথগ্রহণের পর রনিল বিক্রমাসিংহে জানান, সংবিধান সমুন্নত রাখতে এবং দেশে আইনশৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করবেন তিনি। সশস্ত্র বাহিনীকে যে কোনো সহিংসতা-নাশকতা মোকাবিলার ক্ষমতা ও স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে দেশকে সংকট থেকে উদ্ধারে একটি সর্বদলীয় সরকার গঠনের জন্য ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, আমি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের শতভাগ সমর্থক। কিন্তু দাঙ্গাবাজ এবং প্রতিবাদকারী এক নয়। এছাড়া তিনি তাকে (প্রেসিডেন্ট) সম্বোধনে ‘হিজ এক্সিলেন্সি’ ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। নিজের গাড়িতে প্রেসিডেন্টের পতাকা বহন করবেন না বলেও জানান তিনি।

এর আগে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসাবে রনিলের প্রথম পদক্ষেপ ছিল সারা দেশে জরুরি অবস্থা জারি এবং পশ্চিম প্রদেশে কারফিউ জারি, যেখানে দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী কলম্বোর অবস্থান।

ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি (ইউএনপি) চেয়ারম্যান ৭৩ বছর বয়সি রনিল বিক্রমাসিংহে এবারসহ ছয়বার শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও আগের পাঁচবারই মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নেওয়ায় এবারও প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবেন না তিনি। তার প্রধানমন্ত্রিত্বের আমলেই ২০১৯ সালে একের পর এক বোমা হামলায় কেঁপে উঠেছিল শ্রীলংকা। সে বছর ২২ এপ্রিল মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে তিনটি হোটেল ও তিনটি গির্জাসহ মোট আট জায়গায় ভয়াবহ বোমা হামলায় ভারত মহাসাগরের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল।

সর্বশেষ ভোটে পরাজয় তার রাজনৈতিক জীবনকেই সংকটে ঠেলে দিয়েছিল; কিন্তু দেশ সংকটাপন্ন হওয়ার পর সেই রনিল বিক্রমাসিংহের রাজনৈতিক জীবন জেগে উঠল। ঝানু রাজনীতিক হিসেবে রনিল যেমন পরিচিতি, তেমনি পশ্চিমাদের কাছেও তার রয়েছে কদর, আবার প্রতিবেশী প্রভাবশালী দেশ ভারতের সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক রয়েছে।

প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া রনিলের জীবনের ৪৫ বছরই পার্লামেন্টে পদচারণা। তিনি প্রথম এমপি হন ১৯৭৭ সালে, মাত্র ২৮ বছর বয়সে। ‘কলম্বো এলিট’ রনিলের বাবা বিশিষ্ট আইনজীবী এসমন্ড বিক্রমাসিংহে শ্রীলংকার গণমাধ্যমে প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন। তার মায়ের দিকের আত্মীয় জুনিয়াস রিচার্ড জয়াবর্ধনেকে এখন পর্যন্ত দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী প্রেসিডেন্ট হিসাবে ধরা হয়।